১৯৬৯
সালে জন্ম নেয়া ডেনিস টানোভিচ একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, একই সাথে সে পড়াশোনা করছে
মিউজিক স্কুলেও। এর আগেও সে ‘তোমার প্রেমিকা তোমারে ডাকে’ নামে
ছোট সিনামা বানাইছে। জীবন কাটায় পুরাই ডকুমেন্টারি সিনামার পরিচালক হিসেবে। গেল
বছর (২০০১) সে এই ছবি বানানোর পর কানে গোল্ডেন পাম, গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ডও সে
পাইছে। ব্যক্তিজীবনে কিছুটা রগচটে হলেও বসনিয়ান
চলচ্চিত্রকার ডেনিস টানোভিচ যুদ্ধ নিয়াও মজা করতে ভালোবাসে। সিনামারে সে টাকা কামানোর
মেশিন মনে করে না। তার প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘নো ম্যানস
ল্যান্ড’ কেবল অস্কারই জিতছে না বিশ্বজুড়েই পাইছে তুমুল প্রশংসা।
অস্কার নমিনেশন পাওয়ার পর পল ফিশ্চার তার লগে এইসব কথাবার্তা কইছে।
প্রশ্ন :
তোমার ছবি খুবই মজার, এত কঠিন ও অপ্রত্যাশিত বিষয় তুমি কইত্থে পাও?
উত্তর :
আমরা
বসনিয়ানরা হইতাছি অরিজিনাল মজা করার মানুস। আমগো জন্মই মজা করার জায়গায়। আমার মনে
হয় আমি এইটা দিয়াই কিছু করবার পারমু। কিন্তু হিউমার কিন্তু তোমারে অনেক দূর থেকে
বিষয়টা বইলা দেয়। আর তাই এইসব যুদ্ধের সিনেমার মধ্যেও তুমি কিছু হাসতে পারতেছো।
এইটারে আমগো গোপন অস্ত্র কইতে পারো। তাই আমি মনে করি কেন আমি সিরিয়াস বিষয় নিয়া
একটু মজা করবো না? এই ভাবনাটাই
আমারে অনেক কিছু সহজ করে দেয়। আর তুমি যদি যুদ্ধ নিয়া সিনেমা বানাইতে যাও, তাইলে যেহেতু
এইটা অনেকে দেখতেই যাইবো না তাইলে এইটাই কি ভালো না?
প্রশ্ন :আচ্ছা, এইডা বানাইতে কি
তোমার খুব পরিশ্রম হইছিলো?
উত্তর :
না। এইটা
খুব আন্তরিক জায়গা থেইক্যা আমরা বানাইছিলাম। শুটিং এর ৩৬ দিনের মধ্যে দশ দিনই
প্রচুর বৃষ্টি ছিলো। কোনও কোনও দিন আমরা স্যুটিংই করতে পারিনাই।
প্রশ্ন :
আমরা দেখলাম যে এই ছবিতে প্রচুর প্রোডাকশন হাউজ আছে। যারা
সবতে মিইল্যা এই সিনামা বানাইছে।
উত্তর :
তারা
প্রত্যেকেই সিনামাটা পছন্দ করছে। মজার বিষয় এইটা কিন্তু খুব দীর্ঘ কোনও প্রসেস
ছিলো না। ছয় মাসের মধ্যে সব কিছু হইয়া গেছে। এইটা অকল্পনীয়। আমি স্ক্রিপ্ট লেইখ্যা, প্রডাকশন হাউজরে
কইলাম এইটা একটা ভালো স্ক্রিপ্ট,
তোমরা
দেখতে পারো। তিনদিন পরে তারা আমারে ডাকলো,
আর কইলো
তাগো এই স্ক্রিপ্ট পছন্দ হইছে। তারা এইটা নিয়া একটা চুক্তিও করতে চাইলো। সবাই একই
প্রসেসের মধ্যে দিয় গেলো। দেখলাম সবাই স্ক্রিপ্টটা পছন্দ করতেছে। (স্ক্রিপ্ট যখন
লেখা হয় তখন তানোভিচ প্যারিসে থাকে। সে তখন মূল বিষয় থেইক্যা বহু দূরে। তার তো
জন্ম আগের যোগোস্লাভিয়ায়। কিন্তু সারাজেভো থেইক্যা সে যখন ১৯৯৪ সালে বেলজিয়ামে
সিনামা নিয়া পড়তে যায়, তখন তার বয়স ২৪।
প্রশ্ন :
তুমি যখন শুরু করছিলা, তখন তুমি ডকুমেন্টারির মতো কইরা শুরু করছিলা। কি মনে কইরা
তুমি এইটা করছিলা? তোমার কখন মনে
হইলো যে, যুদ্ধের বিষয়
তোমার ফিচার ফিল্মের জন্য একটা ভালো সাবজেক্ট?
উত্তর :
যুদ্ধ আসলে
কখনোই ফিচার ফিল্মের জন্য ভালো বিষয় না। আমি পরিস্কার কইরা কইতেছি, আমার কখনোই মনে
হইতো না বিষয় একটা বড় কথা, আমার মনে হইতো
তুমি সাবজেক্টটারে কেমনে ট্রিট করতেছো তাই বড়। আমি এইখানে গতকালই এক সাংবাদিকের
লগে কথা কইতেছিলাম। তারে কইলাম,
এই
সুইমিং পুলটারে দেখো। একজন ভালো সিনামাওয়ালা এই সুইমিং পুল লইয়াও এক থেকে দেড়
ঘন্টার একটা সিনামা বানাইয়া ফেলতে পারে। যদি সে জানে যে, কেমনে কি করতে
হইবো। আমি আবারো কইতেছি, এইটা কোনও বিষয়ই
ছিলো না। শত শত ছবি যুদ্ধ আর প্রেম লইয়া,
কিন্তু
আমরা কয়টারে মনে রাখি? আমরা মনে রাখি
অল্প কায়টারেই। তাই কই, যু্দ্ধও ভালো
বিষয় হইতে পারে যদি তুমি এইটারে ঠিকমতো দেখাইতে পারো আর তোমার নতুন কিছু কওয়ার
থাকে। আমি আর এমন কোনো সিনামা বানামুনা,
যেইখানে
প্রথম বিশ মিনিটের মধ্যে ২০০ তরুণ সৈন্য মইরা যায়।
