সিনেমা রিভিউ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সিনেমা রিভিউ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১৬

চারপাশের পরিবেশটা এমন যে সিনেমা দেখে রিভিউ লেখার মতো স্বস্তিদায়ক মুড আসলে নাই তারপরও নানা কারণে লিখতে বসছি শুরুতেই এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলি বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এবারের ঈদ একটা টার্নিং পয়েন্ট হইতে পারে সেই টার্নিং পয়েন্টটা আমাদের নিয়মিত নির্মাতারা অনুভব করতে পারলে সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির লাভ, নিজেদেরও লাভ এইটাই ছবির রিভিউ লিখতে বসার প্রধান কারণ আর আর কারণগুলো মূখ্য নয়, গৌন তাই সেগুলো অনুল্লেখ্যই থাকলো


শিকারি ছবি দেখতে আমার বিশেষ কোনও আগ্রহ ছিলো না আর দশটা বাংলাদেশী বাণিজ্যিক ছবির মতোই আগ্রহ তবে একটা বিষয় খুব চোখে পড়েছে, এই ছবির নায়ক সাকিব খান কে নিয়ে আমাদের অনলাইন রূচিবান স্বদেশবানদের সুনামের হুরহুরি বহুদিন আগে কোনও একজন বলছিলো, আমাদের দেশের মানুষ নিজের দেশের পণ্য বিদেশ ফেরত হইলে তা বেশি দাম দিয়া কিনতে আগ্রহ দেখায় কারণ ঐটা বিদেশী পণ্য কিন্তু নিজের দেশের পণ্যটারে নিজের ব্যবহারের উপযুক্ত মনে করে না অথচ এই দেশের আলো বাতাসেই আমরা বড় হইছি বড় হওয়ার পর প্রয়োজন মনে করি বিদেশী পণ্য সাকিবকে নিয়া অতি মাতামাতির কারণে আমার এই রকম মনে হইছে আর কি তবে মাতামাতি ভালো বিশেষ করে সব ধরণের তারকাদের নিয়েই তো মাতামাতি হবে নইলে তারা তারকা কেনো? তবে যাদেরকে কখনো সাকিবের ছবি হলে গিয়ে দেখতে শুনি নাই তারাই যখন সাকিব নিয়ে মাতামাতি শুরু করলেন তখন কিছুটা প্রশ্ন জাগতেই পারে সেই কারণে শিকারি দেখার আগ্রহ তৈরি হয় এর আগে অবশ্য একটা কথা না বললেই নয় তা হইলো আমি নিয়মিত হলে গিয়া বাংলা সিনেমা দেখি এই কথা শুইন্যা অনেকের চক্ষু কপালেও উঠে আমার অবশ্য মুচকি মুচকি হাসি পায় কারণ, ঐ কপালে ওঠা চোখ দেখতে আমার ভাল্লাগে একই সাথে ছবির কয়েকটা গান দেখে মনে হইছে সাকিবের নতুন লুক, সব্যসাচী চক্রবর্তিও অভিনয় করতেছে ছবিটা দেখাই উচিত তাই ঈদের দিন অর্ধেক ঘুম বাতিল করে জয়কে ডেকে আনলাম ছবি দেখার জন্য সে আসতে আসতে ১০ মিনিট ছবি চলে গেছে
হলে ঢুকে দেখি কোনও এক ধর্মগুরু পূজার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর তার সাথে তার সমর্থক ভক্তঅনুরাগিরা উৎসব করছে এমন পরিস্থিতিতে প্রফেশনাল কিলার হিরো সাকিব এবং কার্য সমাধা করার পরই মূল গল্পে ঢুকে গেলো সিনেমা ভালোই খারাপ না ফর্মুলা ছবি হিসেবে টানটান গল্প রাখার চেষ্টা একটা ঘটনা শেষ হতে না হতেই আর একটা ঘটনা যদিও সবগুলো ঘটনাই ঘটতে যাবে অনুমিত সেইসব অনুমিত ঘটনাগুলোই দেখা যাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো নির্মাণে অপেক্ষাকৃত ভালো অর্থে বলছি এই কারণে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশী বা ভারতীয় বাংলা সিনেমার যেই নির্মাণ মান তার সাথে এর একটু পার্থক্য আছে পার্থক্যটা কেমন? এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কিছুদিন আগেও আমরা দেখে এসেছি সিনেমা চারটা গানের তিনটাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দৃশ্যায়ন যার কোরিগ্রাফার হয়ত কোনও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঐ গানগুলোকে বারবার দেখিয়ে দেখিয়ে লোকজনকে হলে নেয়া হতো, আর ছবির নির্মাণহতো বাংলাদেশী গড়পড়তা টিভি নাটকের চেয়ে একটু ভালো তো ঐ রকম একটা আশঙ্কা নিয়েই ছবি দেখতে বসেছিলাম কিন্তু সেই আশঙ্কা পুরোপুরি মিলে নি তাই কিছুটা সন্দেহও ছিলো পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা এই রকম বাণিজ্যিক ছবি কি আসলেই বানাতে শুরু করে দিলেন? হ্যা, এই প্রশ্নটাই বাংলাদেশের সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের একটা প্রশ্ন কারণ ফেসবুক মারফতই না, বাস্তবেও দেখলাম সিনেমা হল ভর্তি লোকজন বিকাল সাড়ে পাঁচটার টিকিট তাই অগ্রীম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দুপুর ১টায় যা বিগত কয়েক বছরে কল্পনাতীত সেই কল্পনা যদি বাস্তব হয় তবে প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলা সিনেমা কি তবে সুদিন ফিরে পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো ধীরে বৎস, ধীরে এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে বাংলা সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের প্রশ্নের উত্তরটাও চলে আসে কারণ, পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা যদি এই মানের ছবিও নিয়মিত বানায় আর তা অনায়াসে আমাদের সিনেমাহলের দর্শকরা লুফে নেবে কারণ আমাদের বাংলাদেশের নির্মাতারা এতটুকুও বানাতে পারছেন না এমনকি অনেক নামি দামি নির্মাতাদের ছবিও তাই বলে ফলে কলকাতার নির্মাতারা হলে জায়গা পাকা করে নিলে এফডিসিতে এখনো যেমন কিছু সিনেমার কাজ চলে, তখন আর কিছুই চলবে না তখন বরংচ সেইসব নির্মাতাদের দক্ষিণী কুশলীদের ভাড়া করা ছাড়া উপায় থাকবে না তাই নিজেদের মান উন্নয়ন খুব জরুরী ঘরের দর্শকদের জন্য, নিজেদের জন্য, নিজেদের সিনেমার জন্য তো বটেই  
এতক্ষণ ধান বানতে গিয়ে শীবের গীত শোনালাম কি আর করা, কখনো কখনো বৃষ্টির চেয়ে ছাতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে কি না! তোশিকারি একদম গতানুগতিক একটা ফর্মুলা ছবি যার গানগুলোতে আমাদের দেশী নায়ক সাকিবকে নতুন লুকে দেখা গেছে যা বড় পর্দায় দেখে আপনার ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে পুরো ছবির সবচে আরামদায়ক ভিজ্যুয়াল বলতে ঐ গানগুলোই তবে হ্যা, আনুপাতিক হারে ছবির যে নির্মাণ তা মন্দের ভালো অন্তত এই কোয়ালিটিই আপাতত পাতে জুটছে যে এই বেশি এই প্রসঙ্গে জেনে নেয়া যাক ছবির নির্মাতার নাম বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবির প্রসঙ্গ আসলেও বাংলাদেশী যেই পরিচালকের নাম আমরা জানলাম সেই পরিচালকের নাম জাকির হোসেন সীমান্ত আর ভারতের অংশের পরিচালক ছিলেন জয়দ্বীপ মুখার্জি আইএমডিবি সূত্র বলে জয়দ্বীপ আগে টিভি নির্মাতা ছিলেন বেশ কয়েকটি টিভি সিরিয়াল তিনি বানাইছেন তার মাঝে ব্যোমকেশ উল্লেখযোগ্য একটি তবে দুই দেশের ছবি হইলেও বাংলাদেশের কোনও অংশই ছবির ছিলো না এইটা নামকাওয়াস্তে কেবল

ছবির গল্প নিয়ে অভিযোগ করতে চাই না কারণ, গল্প নিয়ে প্রত্যাশাই ছিলো না সেই তুলনায় অনেক ভালো গল্প ও চিত্রনাট্য তবে গল্প চিত্রনাট্যের চেয়ে বেশ কিছু মজার ছিলো ছবির সংলাপ এবার আসুন জানি, ছবির গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার কে বা কারা ছবির চিত্রনাট্য বিষয়ক তথ্য খুঁজতে গিয়ে দুই প্রকার তথ্য পাওয়া গেলো উইকিপিডিয়া বলছে পেলে ভট্টাচার্যই ও আব্দুল্লাহ জহির বাবু ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছে আবার আইএমডিবি বলছে জয়দ্বীপ মুখার্জি ও পেলে ভট্টাচার্য দুজন মিলে লিখেছে আসল সত্য কোনটা তারাই জানে
ছবিতে সব্যসাচী চক্রবর্তীর অভিনয় দেখার লোভ ছিলো তাতে টান পড়েছে উল্টো দুই জনের অভিনয়ে বিনোদিত হয়েছি তার একজন হিন্দী ছবির ভিলেন রাহুল দেব আর একজন কলকাতার অভিনয়শিল্পী খরাজ মুখোপাধ্যায় তবে এইসব ভালো মন্দের চেয়ে সবচে বেশী যা ভালো লেগেছে তা হলো ছবি দেখার জন্য মানুষের হলে ভীড় করা দেখে কারণ ভালো মন্দ তো পরে, আগে তো ছবিটা দেখতে হবে নইলে ছবি হবে না ভবিষ্যতে

শেষ পর্যন্ত যেই কথা বলতে চাই তা হলো এই ছবি লোকজন মজা করে দেখবে ভুলে যাবে মনপুড়া ছবি দেখে আমরা যেমন বেশ কয়েকদিন আলোচনা করেছি কেউ কেউ একাধিকবারও দেখেছি, এই ছবি তেমন নয় কিন্তু চকচকে ঝকঝকে বলে লোকজনের আগ্রহটাও চকচকেই আর এমন আগ্রহ তৈরি করতে না পারলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবি আর বানাইতে হবে না কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসা অনেক ভালো তার চেয়ে

কি শিকার করলো শিকারি?

at বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৭, ২০১৬  |  2 comments

চারপাশের পরিবেশটা এমন যে সিনেমা দেখে রিভিউ লেখার মতো স্বস্তিদায়ক মুড আসলে নাই তারপরও নানা কারণে লিখতে বসছি শুরুতেই এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলি বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এবারের ঈদ একটা টার্নিং পয়েন্ট হইতে পারে সেই টার্নিং পয়েন্টটা আমাদের নিয়মিত নির্মাতারা অনুভব করতে পারলে সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির লাভ, নিজেদেরও লাভ এইটাই ছবির রিভিউ লিখতে বসার প্রধান কারণ আর আর কারণগুলো মূখ্য নয়, গৌন তাই সেগুলো অনুল্লেখ্যই থাকলো


শিকারি ছবি দেখতে আমার বিশেষ কোনও আগ্রহ ছিলো না আর দশটা বাংলাদেশী বাণিজ্যিক ছবির মতোই আগ্রহ তবে একটা বিষয় খুব চোখে পড়েছে, এই ছবির নায়ক সাকিব খান কে নিয়ে আমাদের অনলাইন রূচিবান স্বদেশবানদের সুনামের হুরহুরি বহুদিন আগে কোনও একজন বলছিলো, আমাদের দেশের মানুষ নিজের দেশের পণ্য বিদেশ ফেরত হইলে তা বেশি দাম দিয়া কিনতে আগ্রহ দেখায় কারণ ঐটা বিদেশী পণ্য কিন্তু নিজের দেশের পণ্যটারে নিজের ব্যবহারের উপযুক্ত মনে করে না অথচ এই দেশের আলো বাতাসেই আমরা বড় হইছি বড় হওয়ার পর প্রয়োজন মনে করি বিদেশী পণ্য সাকিবকে নিয়া অতি মাতামাতির কারণে আমার এই রকম মনে হইছে আর কি তবে মাতামাতি ভালো বিশেষ করে সব ধরণের তারকাদের নিয়েই তো মাতামাতি হবে নইলে তারা তারকা কেনো? তবে যাদেরকে কখনো সাকিবের ছবি হলে গিয়ে দেখতে শুনি নাই তারাই যখন সাকিব নিয়ে মাতামাতি শুরু করলেন তখন কিছুটা প্রশ্ন জাগতেই পারে সেই কারণে শিকারি দেখার আগ্রহ তৈরি হয় এর আগে অবশ্য একটা কথা না বললেই নয় তা হইলো আমি নিয়মিত হলে গিয়া বাংলা সিনেমা দেখি এই কথা শুইন্যা অনেকের চক্ষু কপালেও উঠে আমার অবশ্য মুচকি মুচকি হাসি পায় কারণ, ঐ কপালে ওঠা চোখ দেখতে আমার ভাল্লাগে একই সাথে ছবির কয়েকটা গান দেখে মনে হইছে সাকিবের নতুন লুক, সব্যসাচী চক্রবর্তিও অভিনয় করতেছে ছবিটা দেখাই উচিত তাই ঈদের দিন অর্ধেক ঘুম বাতিল করে জয়কে ডেকে আনলাম ছবি দেখার জন্য সে আসতে আসতে ১০ মিনিট ছবি চলে গেছে
হলে ঢুকে দেখি কোনও এক ধর্মগুরু পূজার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর তার সাথে তার সমর্থক ভক্তঅনুরাগিরা উৎসব করছে এমন পরিস্থিতিতে প্রফেশনাল কিলার হিরো সাকিব এবং কার্য সমাধা করার পরই মূল গল্পে ঢুকে গেলো সিনেমা ভালোই খারাপ না ফর্মুলা ছবি হিসেবে টানটান গল্প রাখার চেষ্টা একটা ঘটনা শেষ হতে না হতেই আর একটা ঘটনা যদিও সবগুলো ঘটনাই ঘটতে যাবে অনুমিত সেইসব অনুমিত ঘটনাগুলোই দেখা যাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো নির্মাণে অপেক্ষাকৃত ভালো অর্থে বলছি এই কারণে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশী বা ভারতীয় বাংলা সিনেমার যেই নির্মাণ মান তার সাথে এর একটু পার্থক্য আছে পার্থক্যটা কেমন? এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কিছুদিন আগেও আমরা দেখে এসেছি সিনেমা চারটা গানের তিনটাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দৃশ্যায়ন যার কোরিগ্রাফার হয়ত কোনও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঐ গানগুলোকে বারবার দেখিয়ে দেখিয়ে লোকজনকে হলে নেয়া হতো, আর ছবির নির্মাণহতো বাংলাদেশী গড়পড়তা টিভি নাটকের চেয়ে একটু ভালো তো ঐ রকম একটা আশঙ্কা নিয়েই ছবি দেখতে বসেছিলাম কিন্তু সেই আশঙ্কা পুরোপুরি মিলে নি তাই কিছুটা সন্দেহও ছিলো পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা এই রকম বাণিজ্যিক ছবি কি আসলেই বানাতে শুরু করে দিলেন? হ্যা, এই প্রশ্নটাই বাংলাদেশের সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের একটা প্রশ্ন কারণ ফেসবুক মারফতই না, বাস্তবেও দেখলাম সিনেমা হল ভর্তি লোকজন বিকাল সাড়ে পাঁচটার টিকিট তাই অগ্রীম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দুপুর ১টায় যা বিগত কয়েক বছরে কল্পনাতীত সেই কল্পনা যদি বাস্তব হয় তবে প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলা সিনেমা কি তবে সুদিন ফিরে পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো ধীরে বৎস, ধীরে এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে বাংলা সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের প্রশ্নের উত্তরটাও চলে আসে কারণ, পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা যদি এই মানের ছবিও নিয়মিত বানায় আর তা অনায়াসে আমাদের সিনেমাহলের দর্শকরা লুফে নেবে কারণ আমাদের বাংলাদেশের নির্মাতারা এতটুকুও বানাতে পারছেন না এমনকি অনেক নামি দামি নির্মাতাদের ছবিও তাই বলে ফলে কলকাতার নির্মাতারা হলে জায়গা পাকা করে নিলে এফডিসিতে এখনো যেমন কিছু সিনেমার কাজ চলে, তখন আর কিছুই চলবে না তখন বরংচ সেইসব নির্মাতাদের দক্ষিণী কুশলীদের ভাড়া করা ছাড়া উপায় থাকবে না তাই নিজেদের মান উন্নয়ন খুব জরুরী ঘরের দর্শকদের জন্য, নিজেদের জন্য, নিজেদের সিনেমার জন্য তো বটেই  
এতক্ষণ ধান বানতে গিয়ে শীবের গীত শোনালাম কি আর করা, কখনো কখনো বৃষ্টির চেয়ে ছাতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে কি না! তোশিকারি একদম গতানুগতিক একটা ফর্মুলা ছবি যার গানগুলোতে আমাদের দেশী নায়ক সাকিবকে নতুন লুকে দেখা গেছে যা বড় পর্দায় দেখে আপনার ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে পুরো ছবির সবচে আরামদায়ক ভিজ্যুয়াল বলতে ঐ গানগুলোই তবে হ্যা, আনুপাতিক হারে ছবির যে নির্মাণ তা মন্দের ভালো অন্তত এই কোয়ালিটিই আপাতত পাতে জুটছে যে এই বেশি এই প্রসঙ্গে জেনে নেয়া যাক ছবির নির্মাতার নাম বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবির প্রসঙ্গ আসলেও বাংলাদেশী যেই পরিচালকের নাম আমরা জানলাম সেই পরিচালকের নাম জাকির হোসেন সীমান্ত আর ভারতের অংশের পরিচালক ছিলেন জয়দ্বীপ মুখার্জি আইএমডিবি সূত্র বলে জয়দ্বীপ আগে টিভি নির্মাতা ছিলেন বেশ কয়েকটি টিভি সিরিয়াল তিনি বানাইছেন তার মাঝে ব্যোমকেশ উল্লেখযোগ্য একটি তবে দুই দেশের ছবি হইলেও বাংলাদেশের কোনও অংশই ছবির ছিলো না এইটা নামকাওয়াস্তে কেবল

ছবির গল্প নিয়ে অভিযোগ করতে চাই না কারণ, গল্প নিয়ে প্রত্যাশাই ছিলো না সেই তুলনায় অনেক ভালো গল্প ও চিত্রনাট্য তবে গল্প চিত্রনাট্যের চেয়ে বেশ কিছু মজার ছিলো ছবির সংলাপ এবার আসুন জানি, ছবির গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার কে বা কারা ছবির চিত্রনাট্য বিষয়ক তথ্য খুঁজতে গিয়ে দুই প্রকার তথ্য পাওয়া গেলো উইকিপিডিয়া বলছে পেলে ভট্টাচার্যই ও আব্দুল্লাহ জহির বাবু ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছে আবার আইএমডিবি বলছে জয়দ্বীপ মুখার্জি ও পেলে ভট্টাচার্য দুজন মিলে লিখেছে আসল সত্য কোনটা তারাই জানে
ছবিতে সব্যসাচী চক্রবর্তীর অভিনয় দেখার লোভ ছিলো তাতে টান পড়েছে উল্টো দুই জনের অভিনয়ে বিনোদিত হয়েছি তার একজন হিন্দী ছবির ভিলেন রাহুল দেব আর একজন কলকাতার অভিনয়শিল্পী খরাজ মুখোপাধ্যায় তবে এইসব ভালো মন্দের চেয়ে সবচে বেশী যা ভালো লেগেছে তা হলো ছবি দেখার জন্য মানুষের হলে ভীড় করা দেখে কারণ ভালো মন্দ তো পরে, আগে তো ছবিটা দেখতে হবে নইলে ছবি হবে না ভবিষ্যতে

শেষ পর্যন্ত যেই কথা বলতে চাই তা হলো এই ছবি লোকজন মজা করে দেখবে ভুলে যাবে মনপুড়া ছবি দেখে আমরা যেমন বেশ কয়েকদিন আলোচনা করেছি কেউ কেউ একাধিকবারও দেখেছি, এই ছবি তেমন নয় কিন্তু চকচকে ঝকঝকে বলে লোকজনের আগ্রহটাও চকচকেই আর এমন আগ্রহ তৈরি করতে না পারলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবি আর বানাইতে হবে না কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসা অনেক ভালো তার চেয়ে

Read More

শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৬

যা হয় আর কি, কোনও ভালো বই পড়ার পর বা কোনও ভালো ছবি দেখার পর মাথার ভেতর গেঁথে যায়। এ সময় মগজের ভেতর ঐ বই বা সিনেমা নিয়া যা থাকে তা চিন্তার উদ্রেগ ঘটাইলেও সাথে কিছুটা চাপও তৈরি করে। তখন মাথা থেকে সেই চাপ নামানোর প্রয়োজন হয়। এই সময় দরকার প্রয়োজন গল্প করা। ছবির গল্প, বইয়ের গল্প। মন খুলে গল্প করলে পড়া বইটা বা দেখা সিনেমাটার ব্যাপ্তি বাড়ে। আর কে না জানে, চারপাশের বিষয়গুলোর ব্যাপ্তি বাড়লে সাথে সাথে কিছুটা নিজেরও বাড়ে। তাই নিজের ব্যাপ্তির লোভে সিনেমা বা বইয়ের কাছাকাছি থাকা, আর সেইসব নিয়া গল্পে মাতা।
মাসটাং মূলত দক্ষিণ আমেরিকান এক প্রকার ঘোড়া। যা কিনা আকারে অন্য সব ঘোড়ার চাইতে একটু ছোট, কিন্তু তার গতি একটু বেশিই। সে তাই ছোটেও নিজের মতো, অনেকটা দুর্বার গতিময়। তুরস্কের যেই ছবিটার নাম ‘মাসটাং’ তার কেন্দ্রীয় চরিত্রটাও এমনই। অন্য সবার চেয়ে ছোট, কিন্তু গতিশীল। ছোটেও নিজের মতো। সেই ছোট ঘোড়ার গল্পই বলেছেন টার্কিস তরুণ নির্মাতা ডেনিজ এরগোভেন।
টার্কিস এই তরুণ নির্মাতার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাসটাং’। চলতি বছরের অস্কারে সেরা বিদেশী ভাষার সিনেমা ক্যাটাগরিতে অফিসিয়াল এন্ট্রি অবশ্য ফরাশি ছবি হিসেবে। কিন্তু তাতে ছবির কোনও কিছুই যায় আসে না। কারণ ছবির ভাষা, চরিত্র, প্রেক্ষাপট, গল্প সবটাই তুরস্কের।
প্রায় মাস দেড়েক পর একই দিনে তিনটা ছবি দেখার মিশন নিয়ে বসে প্রথমটা দেখেই আর কোনও ছবির কথা ভাবতে পারিনাই। ৩৭ বছর টার্কিস তরুণী ডেনিজ এর ছবি দেখে মনে হইছে ‘লালে’র জীবন সংগ্রামের বাকিটুকু কতই না বৈচিত্রময়। কারণ, যে মেয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবার সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে বড় বোনের বিয়ে ভেঙে দেবার সাহস করে তার জীবনে বৈচিত্র আসবে না কি আমার জীবনে আসবে? ;)
ছবির বিকল্প শিরোনাম হইতে পারে, পঞ্চকন্যার আখ্যান। হ্যা, তুরস্কের কোনও এক সমুদ্র তীরবর্তি এক গ্রামের পাঁচ বোনের আখ্যান এই সিনেমা। একই পরিবারের পিঠাপিঠি পাঁচ বোনের জীবনের গল্প।  তাদের বন্ধুর জীবনের গল্প। মা ছাড়া পরিবারে বাবা আর দাদির কাছে বেড়ে ওঠা বোনেরা যারা কিনা সহপাঠীদের নিয়ে সমুদ্রে দল বেধে ¯œান করলে বাবার সন্দেহ হয়। আর তাদের নিয়ে যায় সতীত্ব পরীক্ষা করাতে। এই জীবন কি এখনো আছে?  বোধ করি নারী নির্মাতার শৈশবে দেখা অভিজ্ঞতা এই জায়গায় প্রভাব পড়েছে।

এই রকম একটা অভিজ্ঞতা দিয়া যেখানে ছবি শুরু তখন ছবির গল্পটা কেমন হতে পারে? আপনার আমার ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে এক এক করে অল্প কন্যা দায়গ্রস্থ পিতার স্বস্তির দিকে ছুটে যাওয়ার গল্প হতে পারতো ‘মাসটাং’। কিন্তু তা না হয়ে হয়ে উঠেছে এক ভবিষ্যতের চিহ্ন। আর সেই ভবিষ্যতের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলো পাঁচ বোনের সবচে ছোট ‘লালে’। তার চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখতে চাইলে ছবিটা দেখতে পারেন। বলে রাখা ভালো অস্কারের সেরা বিদেশী ভাষার ছবিতে এখন পর্যন্ত তুরস্কের কোনও ছবি সেরা পাঁচে আসতে পারেনি। যে কয়েকবার আসছে তার একটাও তুরস্কের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নয়। ভিন্ন কোনও দেশ থেকে। এইটাও সেই দলেরই একটা ছবি। তবে এইসব তথ্য আর প্রসংশা মাথায় না রেখেও ছবিটা দেখে ফেলতে পারেন এক বসাতেই।

মাসটাং : পঞ্চকন্যার আখ্যান

at শনিবার, মার্চ ১৯, ২০১৬  |  No comments

যা হয় আর কি, কোনও ভালো বই পড়ার পর বা কোনও ভালো ছবি দেখার পর মাথার ভেতর গেঁথে যায়। এ সময় মগজের ভেতর ঐ বই বা সিনেমা নিয়া যা থাকে তা চিন্তার উদ্রেগ ঘটাইলেও সাথে কিছুটা চাপও তৈরি করে। তখন মাথা থেকে সেই চাপ নামানোর প্রয়োজন হয়। এই সময় দরকার প্রয়োজন গল্প করা। ছবির গল্প, বইয়ের গল্প। মন খুলে গল্প করলে পড়া বইটা বা দেখা সিনেমাটার ব্যাপ্তি বাড়ে। আর কে না জানে, চারপাশের বিষয়গুলোর ব্যাপ্তি বাড়লে সাথে সাথে কিছুটা নিজেরও বাড়ে। তাই নিজের ব্যাপ্তির লোভে সিনেমা বা বইয়ের কাছাকাছি থাকা, আর সেইসব নিয়া গল্পে মাতা।
মাসটাং মূলত দক্ষিণ আমেরিকান এক প্রকার ঘোড়া। যা কিনা আকারে অন্য সব ঘোড়ার চাইতে একটু ছোট, কিন্তু তার গতি একটু বেশিই। সে তাই ছোটেও নিজের মতো, অনেকটা দুর্বার গতিময়। তুরস্কের যেই ছবিটার নাম ‘মাসটাং’ তার কেন্দ্রীয় চরিত্রটাও এমনই। অন্য সবার চেয়ে ছোট, কিন্তু গতিশীল। ছোটেও নিজের মতো। সেই ছোট ঘোড়ার গল্পই বলেছেন টার্কিস তরুণ নির্মাতা ডেনিজ এরগোভেন।
টার্কিস এই তরুণ নির্মাতার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাসটাং’। চলতি বছরের অস্কারে সেরা বিদেশী ভাষার সিনেমা ক্যাটাগরিতে অফিসিয়াল এন্ট্রি অবশ্য ফরাশি ছবি হিসেবে। কিন্তু তাতে ছবির কোনও কিছুই যায় আসে না। কারণ ছবির ভাষা, চরিত্র, প্রেক্ষাপট, গল্প সবটাই তুরস্কের।
প্রায় মাস দেড়েক পর একই দিনে তিনটা ছবি দেখার মিশন নিয়ে বসে প্রথমটা দেখেই আর কোনও ছবির কথা ভাবতে পারিনাই। ৩৭ বছর টার্কিস তরুণী ডেনিজ এর ছবি দেখে মনে হইছে ‘লালে’র জীবন সংগ্রামের বাকিটুকু কতই না বৈচিত্রময়। কারণ, যে মেয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবার সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে বড় বোনের বিয়ে ভেঙে দেবার সাহস করে তার জীবনে বৈচিত্র আসবে না কি আমার জীবনে আসবে? ;)
ছবির বিকল্প শিরোনাম হইতে পারে, পঞ্চকন্যার আখ্যান। হ্যা, তুরস্কের কোনও এক সমুদ্র তীরবর্তি এক গ্রামের পাঁচ বোনের আখ্যান এই সিনেমা। একই পরিবারের পিঠাপিঠি পাঁচ বোনের জীবনের গল্প।  তাদের বন্ধুর জীবনের গল্প। মা ছাড়া পরিবারে বাবা আর দাদির কাছে বেড়ে ওঠা বোনেরা যারা কিনা সহপাঠীদের নিয়ে সমুদ্রে দল বেধে ¯œান করলে বাবার সন্দেহ হয়। আর তাদের নিয়ে যায় সতীত্ব পরীক্ষা করাতে। এই জীবন কি এখনো আছে?  বোধ করি নারী নির্মাতার শৈশবে দেখা অভিজ্ঞতা এই জায়গায় প্রভাব পড়েছে।

এই রকম একটা অভিজ্ঞতা দিয়া যেখানে ছবি শুরু তখন ছবির গল্পটা কেমন হতে পারে? আপনার আমার ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে এক এক করে অল্প কন্যা দায়গ্রস্থ পিতার স্বস্তির দিকে ছুটে যাওয়ার গল্প হতে পারতো ‘মাসটাং’। কিন্তু তা না হয়ে হয়ে উঠেছে এক ভবিষ্যতের চিহ্ন। আর সেই ভবিষ্যতের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলো পাঁচ বোনের সবচে ছোট ‘লালে’। তার চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখতে চাইলে ছবিটা দেখতে পারেন। বলে রাখা ভালো অস্কারের সেরা বিদেশী ভাষার ছবিতে এখন পর্যন্ত তুরস্কের কোনও ছবি সেরা পাঁচে আসতে পারেনি। যে কয়েকবার আসছে তার একটাও তুরস্কের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নয়। ভিন্ন কোনও দেশ থেকে। এইটাও সেই দলেরই একটা ছবি। তবে এইসব তথ্য আর প্রসংশা মাথায় না রেখেও ছবিটা দেখে ফেলতে পারেন এক বসাতেই।

Read More

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫


 
গত কয়েকদিন আগে কাজের ফাঁকে হঠাৎ ফ্রান্সের একটি দৈনিক পত্রিকায় একটি সৌদি নারী চলচ্চিত্রকারের একটি সাক্ষাৎকার চোখে পড়লইন্টারভিউটি পড়ার পর জানা গেলো, তিনিই সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা। এবং তার ছবি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক ও দুবাই চলচ্চিত্র উৎসবেও একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ইসলামী রক্ষণশীল আইনে জীবন পরিচালিত একটি দেশে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা মানে সত্যিই একটি বিরাট বিপ্লব। এই বিপ্লবে অনুপ্রেরণা দিতেই অনেকাংশে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত বা উন্নত হলেও সাংস্কৃতিক ভাবে বিশ্বে কোনও প্রভাব ফেলতে না পারা জাতি বা দেশগুলোর চলচ্চিত্র অনেক বড় বড় উৎসব কমিটি একটি বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে থাকে। এটাকে একদিক থেকে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি বা অন্যদিক থেকে সংস্কৃতির উদার নৈতিকতার প্রমাণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরস্কৃত বা আলোচিত চলচ্চিত্রগুলো সেইভাবেই আলোচনায় আসে, যেগুলো ইউরোপিয় দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে ‘প্রেজেন্টেড প্রডাক্ট’টির ভাবনা বা রূপ মিলে থাকে। আর এই কথার প্রমাণ আমরা একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখতে পাই। আমার চারপাশে এর বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে। তার ভেতরে আমি সবার আগে রাখবো ২০১০ এর অস্কার পুরস্কারকে। সে বছর ভারতীয় প্রেক্ষাপটের একটি গল্প নিয়ে হলিউড ভিত্তিক নির্মাতা ড্যানি বয়েল বানিয়েছিলো স্লামডগ মিলিয়নিয়ার ছবিটি। ছবির নামটি যদি আপনি বাংলা করেন, তাহলে দেখবেন সেখানে বস্তির একটি শিশুকে কুকুর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তারা আদতে মানুষই নয়। আর এর মিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্প যদি উৎকৃষ্ট রূপে ইউরোপিয়দের সামনে প্রেজেন্টেশন করা যায়, তবে তা যে লুফে নিবেই তার প্রমাণ তো আপনার হাতের কাছেই। তেমনি বাংলাদেশের দিকে তাকালেও আমরা ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ছবি বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে সেগুলো যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ঠ যুক্তিযুক্ত, তবুও সেগুলোতে বাংলাদেশকে ইউরোপিয়রা যেমন দেখতে চায় তেমনই দেখানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমি সব সময়ই প্রত্যাশা করবো এমন কোনও গল্পের ছবি ইউরোপিয়দের কাছ থেকে সেরার স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনুক, যে ছবিটি কিনা আমরা যেভাবে বাংলাদেশকে দেখতে পছন্দ করি সেভাবেই বা তেমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে।
এতক্ষণ যে কাসুন্দি ঘাটলাম এর একটা বড় কারণ হলো আমাদেরো এক ধরণের ইউরোপিয় নাক সিটকানো ভাবটা রয়েছে। আমরাও অনেক সময় তাদের (ইউরোপিয়) চোখে দেখতে চাই বা দেখে থাকি। আর তাই আমরা প্রায়ই আমাদের কর্মকে সবার আগে তুলনা করি তাদেরই সাথে। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় অনেক বিভ্রান্তির তৈরি হয়। এতে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ক্ষতি হয়। যা কখনোই কাম্য নয়।  এই কথাগুলো বলার প্রধান কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’ নিয়ে গল্প নকলের অভিযোগের প্রেক্ষাপটকে নিয়ে। আমি মূলত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র টেলিভিশন আর তুর্কী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইলমাজ ইর্দোগান এর ভিজনটেলে ’র তূলনামূলক আলোচনার পথ তৈরি করতে চাই। তাই শুরুতেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা নিয়ে অযথা কথাগুলো বলে নিলাম।
‘টেলিভিশন’ ছবির পোস্টার
বাংলা টেলিভিশন সিনেমার গল্প বর্তমান সমসাময়িক কালের এক জন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। যে দ্বীপের মানুষ ঠিক আধুনিক কালের হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোয়া পায় না।  আর ভিজনটেলে’র গল্পের প্রেক্ষাপট ৭০ এর দশকের তুরস্কের এক অতিদূর্গম অঞ্চলের। কিন্তু তা নির্মাণ হয়েছে ২০০১ সালে। বাংলাদেশে নতুন কোনও কিছু হলেই তার জেনে না জেনে দুইটা পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে যায়। আর বিপক্ষ দল সব সময়ই বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে মাঝখানে থাকা মানুষদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে। অপরদিকে পক্ষ দল নিজেদের ঢোল এত জোড়ে বাজাতে যায়, যে তা হয় ফেটে যায় নয়তো ফাটার উপক্রম হয়। এই অবস্থায় মাঝখানে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে থাকতে হলেও প্রয়োজন পড়ে কিছুটা আস্থা ও যুক্তির। যেখান থেকে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়, তেমন স্থান ছাড়া আর এর বিকল্প থাকে না।
টেলিভিশন ছবি মুক্তির পরপরই যে অভিযোগটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়, তা হলো এটি তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো। কিন্তু আদতে তা তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো হয় নি। টেলিভিশন ছবির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক। বলতে গেলে পরিচালকের বাবার ও তার নিজের জীবনের সাথে কিছুটা আত্ম জৈবনিকও । অপরদিকে তুর্কী ছবির গল্প তেমন আত্ম জৈবনিক কি না তা জানা যায় নি। তবে দুইটা ছবিতেই কম বেশী হাস্যরস, ট্রাজেডি, প্রেম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্লাইমেক্স সবই রয়েছে। তবে প্রত্যেকটাই নিজস্ব ঢংয়ে। এক্ষেত্রে ভিজনটেলেসাথে টেলিভিশনএর ফর্মুলাগত মিল পাওয়া যায়। যদিও পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক ছবিই প্রায় কাছাকাছি ফর্মূলা মেইনটেইন করে।
তুরস্ক অর্ধেক এশিয় আর অর্ধেক ইউরোপিয়। তবে তার সংস্কৃতি ও জীবন ধারার সাথে ইউরোপের জীবনের মিল রয়েছে বেশী। অর্থনৈতিকভাবে এশিয় সাধারণ দেশগুলোর চেয়ে একটু এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় তারা কর্মে ও জাতেও বেশীরভাগ ইউরোপিয়ই। তার প্রমাণ তাদের সিনেমাতেও পাওয়া যায়। এই ভিজনটেলের নির্মাণশৈলি ও গল্প বলার ধরণ (স্টোরি টেলিং) কিন্তু বেশ আরামদায়ক। টেলিভিশন  ছবিতে গল্প বলাটা পুরোপুরি আরামদায়ক না হলেও পিড়াদায়ক নয়। তুর্কী ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু পুরস্কার পেলেও খুব উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও পুরস্কার তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু পুরো ছবিটা চমৎকার উপভোগ্য বলেই কিনা, ছবিটি যথেষ্ঠ ব্যবসাসফল হয়েছিলো দেশে ও দেশের বাইরেও। এর অনুপ্রেরণায় পরিচালক এই ছবির সিক্যুয়েল করেছিলেন। 
টার্কিস ‘ভিজনটেলে’ ছবির পোস্টার
ভিজনটেলে দেখার সময় মনে হচ্ছিল ইউরোপেরই কোনো পরিচালক ইচ্ছাপূর্বক একটু পুরনো আমেজে পুরনো একটি গল্প বলছেন। আর তাই কিছু কিছু অনুভূতির ব্যবহার তিনি করেছেন দুর্দান্ত। ঠিক একই ধরণের হিসেব খাটানোর চেষ্টা আমরা দেখি টেলিভিশন  এ। এ ছবিতে কেবল প্রেমিকার অপমানের পরই পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে উঠা যুবকটি পিতার আশ্রয়েই প্রতিপক্ষ হয়ে গেলো। এটা সম্ভব মনে হলেও মেনে নিতে কষ্ট হয় এই কারণে যে, যে সন্তান পিতার অবাধ্য হয়ে যায়, পিতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে সেই সন্তানকে বর্জন করে এর ঠিক উল্টো রূপও রয়েছে। যার ফলে দেখা যায় পিতা ও সন্তানের যে ট্রাডিশনাল বৈপরীত্য অনেক সময় প্রগতিশীল পিতা মেনে নেয়। কিন্তু টেলিভিশন র পিতা কিন্তু সেই প্রগতিশীল ব্যক্তি নয়। ফলে এই বিরোধটা টিকে থাকার কথা থাকলেও উভয়েই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এখানে সরে এসেছে। যার দরুন, পিতা পুত্রের এই আঁচরণকে কিছুটা গরমিল মনে হয়েছে।
ভিজনটেলে মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির সুবিধা অনেক সময় হৃদয়ের বিপরীতে ধাবিত করতে পারে। একই সাথে যদি সেই প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করা না জানা থাকে তবে তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ভাবনাটা দারুণ ভাবে মিলে। তার প্রমাণ, স্বাধীনভাবে কথা বলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত ইন্টারনেট ও ব্লগে প্রকাশিত কথা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করা।
বিপরীতে টেলিভিশন ছবির মূল প্রতিপাদ্য আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির কাছে পরাজিত গোড়ামি বা সংস্কার ভাবনা। যা এক দিক দিয়ে প্রযুক্তির বিশাল গ্রহণযোগ্যতাকে উপস্থাপন করে, পাশাপাশি ধর্মের রক্ষণশীল জায়গা থেকে সড়ে আসার যে আহ্বান তাও যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এইসব বিষয় তুচ্ছ হয়ে যায় ছবির বিপনন পদ্ধতি বা চিন্তার কারণে। শুরুতে যে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম, যে ইউরোপিয়রা কেন তৃতীয় বিশ্বসহ শিল্প সাহিত্যের দিক থেকে তাদের চেয়ে একটু কম পারঙ্গমদের কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। সে প্রসঙ্গ চলে আসে কারণ টেলিভিশন ছবির পরিচালকের বক্তব্য। ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশের দুই একজন পরিচালক ও তাদের ছবির কথা। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছিলেন আমাদের দেশের কিছু পরিচালক পশ্চিমাদের পছন্দের ছবি বানায়। কিন্তু তাদের সেই ছবি পশ্চিমের দেশগুলোতে আর বিক্রি হচ্ছে না। যার কারণে আর পশ্চিমাদের পছন্দের কথা চিন্তা করে ছবি বানালে চলবে না।  নিঃসন্দেহে এ আশার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত রেকর্ড বলে টেলিভিশন ছবিতেও কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সেই পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করি। নয়তো টেলিভিশন শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় কারণে একটা গ্রামের মানুষদের নিষিদ্ধ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আবার সেই টেলিভিশনের কাছেই পরাজয় স্বীকার করতে হয় না।
সব কিছুর পরেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকির টেলিভিশন আর ভিজনটেলে পৃথক দুটো ছবি। পৃথক অনুভূতির গল্প বলে বিধায়ই কেবল ছবিগুলো পৃথক নয়, বরং আমি ভিটনটেলে কে এগিয়ে রাখবো  তার নির্মাণশৈলি বা তার গল্প বলার ধরণের কারণেই। সর্বোপরি দুটোই টেলিভিশন সংক্রান্ত সিনেমা।  
 (গদ্যটি লেখা হয়েছিলো ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারিতে। ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে পড়াটাই নিরাপদ হবে।)

আমাদের ও তাদের ‘টেলিভিশন’

at বুধবার, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৫  |  1 comment


 
গত কয়েকদিন আগে কাজের ফাঁকে হঠাৎ ফ্রান্সের একটি দৈনিক পত্রিকায় একটি সৌদি নারী চলচ্চিত্রকারের একটি সাক্ষাৎকার চোখে পড়লইন্টারভিউটি পড়ার পর জানা গেলো, তিনিই সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা। এবং তার ছবি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক ও দুবাই চলচ্চিত্র উৎসবেও একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ইসলামী রক্ষণশীল আইনে জীবন পরিচালিত একটি দেশে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা মানে সত্যিই একটি বিরাট বিপ্লব। এই বিপ্লবে অনুপ্রেরণা দিতেই অনেকাংশে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত বা উন্নত হলেও সাংস্কৃতিক ভাবে বিশ্বে কোনও প্রভাব ফেলতে না পারা জাতি বা দেশগুলোর চলচ্চিত্র অনেক বড় বড় উৎসব কমিটি একটি বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে থাকে। এটাকে একদিক থেকে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি বা অন্যদিক থেকে সংস্কৃতির উদার নৈতিকতার প্রমাণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরস্কৃত বা আলোচিত চলচ্চিত্রগুলো সেইভাবেই আলোচনায় আসে, যেগুলো ইউরোপিয় দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে ‘প্রেজেন্টেড প্রডাক্ট’টির ভাবনা বা রূপ মিলে থাকে। আর এই কথার প্রমাণ আমরা একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখতে পাই। আমার চারপাশে এর বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে। তার ভেতরে আমি সবার আগে রাখবো ২০১০ এর অস্কার পুরস্কারকে। সে বছর ভারতীয় প্রেক্ষাপটের একটি গল্প নিয়ে হলিউড ভিত্তিক নির্মাতা ড্যানি বয়েল বানিয়েছিলো স্লামডগ মিলিয়নিয়ার ছবিটি। ছবির নামটি যদি আপনি বাংলা করেন, তাহলে দেখবেন সেখানে বস্তির একটি শিশুকে কুকুর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তারা আদতে মানুষই নয়। আর এর মিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্প যদি উৎকৃষ্ট রূপে ইউরোপিয়দের সামনে প্রেজেন্টেশন করা যায়, তবে তা যে লুফে নিবেই তার প্রমাণ তো আপনার হাতের কাছেই। তেমনি বাংলাদেশের দিকে তাকালেও আমরা ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ছবি বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে সেগুলো যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ঠ যুক্তিযুক্ত, তবুও সেগুলোতে বাংলাদেশকে ইউরোপিয়রা যেমন দেখতে চায় তেমনই দেখানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমি সব সময়ই প্রত্যাশা করবো এমন কোনও গল্পের ছবি ইউরোপিয়দের কাছ থেকে সেরার স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনুক, যে ছবিটি কিনা আমরা যেভাবে বাংলাদেশকে দেখতে পছন্দ করি সেভাবেই বা তেমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে।
এতক্ষণ যে কাসুন্দি ঘাটলাম এর একটা বড় কারণ হলো আমাদেরো এক ধরণের ইউরোপিয় নাক সিটকানো ভাবটা রয়েছে। আমরাও অনেক সময় তাদের (ইউরোপিয়) চোখে দেখতে চাই বা দেখে থাকি। আর তাই আমরা প্রায়ই আমাদের কর্মকে সবার আগে তুলনা করি তাদেরই সাথে। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় অনেক বিভ্রান্তির তৈরি হয়। এতে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ক্ষতি হয়। যা কখনোই কাম্য নয়।  এই কথাগুলো বলার প্রধান কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’ নিয়ে গল্প নকলের অভিযোগের প্রেক্ষাপটকে নিয়ে। আমি মূলত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র টেলিভিশন আর তুর্কী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইলমাজ ইর্দোগান এর ভিজনটেলে ’র তূলনামূলক আলোচনার পথ তৈরি করতে চাই। তাই শুরুতেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা নিয়ে অযথা কথাগুলো বলে নিলাম।
‘টেলিভিশন’ ছবির পোস্টার
বাংলা টেলিভিশন সিনেমার গল্প বর্তমান সমসাময়িক কালের এক জন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। যে দ্বীপের মানুষ ঠিক আধুনিক কালের হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোয়া পায় না।  আর ভিজনটেলে’র গল্পের প্রেক্ষাপট ৭০ এর দশকের তুরস্কের এক অতিদূর্গম অঞ্চলের। কিন্তু তা নির্মাণ হয়েছে ২০০১ সালে। বাংলাদেশে নতুন কোনও কিছু হলেই তার জেনে না জেনে দুইটা পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে যায়। আর বিপক্ষ দল সব সময়ই বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে মাঝখানে থাকা মানুষদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে। অপরদিকে পক্ষ দল নিজেদের ঢোল এত জোড়ে বাজাতে যায়, যে তা হয় ফেটে যায় নয়তো ফাটার উপক্রম হয়। এই অবস্থায় মাঝখানে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে থাকতে হলেও প্রয়োজন পড়ে কিছুটা আস্থা ও যুক্তির। যেখান থেকে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়, তেমন স্থান ছাড়া আর এর বিকল্প থাকে না।
টেলিভিশন ছবি মুক্তির পরপরই যে অভিযোগটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়, তা হলো এটি তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো। কিন্তু আদতে তা তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো হয় নি। টেলিভিশন ছবির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক। বলতে গেলে পরিচালকের বাবার ও তার নিজের জীবনের সাথে কিছুটা আত্ম জৈবনিকও । অপরদিকে তুর্কী ছবির গল্প তেমন আত্ম জৈবনিক কি না তা জানা যায় নি। তবে দুইটা ছবিতেই কম বেশী হাস্যরস, ট্রাজেডি, প্রেম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্লাইমেক্স সবই রয়েছে। তবে প্রত্যেকটাই নিজস্ব ঢংয়ে। এক্ষেত্রে ভিজনটেলেসাথে টেলিভিশনএর ফর্মুলাগত মিল পাওয়া যায়। যদিও পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক ছবিই প্রায় কাছাকাছি ফর্মূলা মেইনটেইন করে।
তুরস্ক অর্ধেক এশিয় আর অর্ধেক ইউরোপিয়। তবে তার সংস্কৃতি ও জীবন ধারার সাথে ইউরোপের জীবনের মিল রয়েছে বেশী। অর্থনৈতিকভাবে এশিয় সাধারণ দেশগুলোর চেয়ে একটু এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় তারা কর্মে ও জাতেও বেশীরভাগ ইউরোপিয়ই। তার প্রমাণ তাদের সিনেমাতেও পাওয়া যায়। এই ভিজনটেলের নির্মাণশৈলি ও গল্প বলার ধরণ (স্টোরি টেলিং) কিন্তু বেশ আরামদায়ক। টেলিভিশন  ছবিতে গল্প বলাটা পুরোপুরি আরামদায়ক না হলেও পিড়াদায়ক নয়। তুর্কী ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু পুরস্কার পেলেও খুব উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও পুরস্কার তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু পুরো ছবিটা চমৎকার উপভোগ্য বলেই কিনা, ছবিটি যথেষ্ঠ ব্যবসাসফল হয়েছিলো দেশে ও দেশের বাইরেও। এর অনুপ্রেরণায় পরিচালক এই ছবির সিক্যুয়েল করেছিলেন। 
টার্কিস ‘ভিজনটেলে’ ছবির পোস্টার
ভিজনটেলে দেখার সময় মনে হচ্ছিল ইউরোপেরই কোনো পরিচালক ইচ্ছাপূর্বক একটু পুরনো আমেজে পুরনো একটি গল্প বলছেন। আর তাই কিছু কিছু অনুভূতির ব্যবহার তিনি করেছেন দুর্দান্ত। ঠিক একই ধরণের হিসেব খাটানোর চেষ্টা আমরা দেখি টেলিভিশন  এ। এ ছবিতে কেবল প্রেমিকার অপমানের পরই পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে উঠা যুবকটি পিতার আশ্রয়েই প্রতিপক্ষ হয়ে গেলো। এটা সম্ভব মনে হলেও মেনে নিতে কষ্ট হয় এই কারণে যে, যে সন্তান পিতার অবাধ্য হয়ে যায়, পিতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে সেই সন্তানকে বর্জন করে এর ঠিক উল্টো রূপও রয়েছে। যার ফলে দেখা যায় পিতা ও সন্তানের যে ট্রাডিশনাল বৈপরীত্য অনেক সময় প্রগতিশীল পিতা মেনে নেয়। কিন্তু টেলিভিশন র পিতা কিন্তু সেই প্রগতিশীল ব্যক্তি নয়। ফলে এই বিরোধটা টিকে থাকার কথা থাকলেও উভয়েই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এখানে সরে এসেছে। যার দরুন, পিতা পুত্রের এই আঁচরণকে কিছুটা গরমিল মনে হয়েছে।
ভিজনটেলে মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির সুবিধা অনেক সময় হৃদয়ের বিপরীতে ধাবিত করতে পারে। একই সাথে যদি সেই প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করা না জানা থাকে তবে তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ভাবনাটা দারুণ ভাবে মিলে। তার প্রমাণ, স্বাধীনভাবে কথা বলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত ইন্টারনেট ও ব্লগে প্রকাশিত কথা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করা।
বিপরীতে টেলিভিশন ছবির মূল প্রতিপাদ্য আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির কাছে পরাজিত গোড়ামি বা সংস্কার ভাবনা। যা এক দিক দিয়ে প্রযুক্তির বিশাল গ্রহণযোগ্যতাকে উপস্থাপন করে, পাশাপাশি ধর্মের রক্ষণশীল জায়গা থেকে সড়ে আসার যে আহ্বান তাও যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এইসব বিষয় তুচ্ছ হয়ে যায় ছবির বিপনন পদ্ধতি বা চিন্তার কারণে। শুরুতে যে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম, যে ইউরোপিয়রা কেন তৃতীয় বিশ্বসহ শিল্প সাহিত্যের দিক থেকে তাদের চেয়ে একটু কম পারঙ্গমদের কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। সে প্রসঙ্গ চলে আসে কারণ টেলিভিশন ছবির পরিচালকের বক্তব্য। ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশের দুই একজন পরিচালক ও তাদের ছবির কথা। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছিলেন আমাদের দেশের কিছু পরিচালক পশ্চিমাদের পছন্দের ছবি বানায়। কিন্তু তাদের সেই ছবি পশ্চিমের দেশগুলোতে আর বিক্রি হচ্ছে না। যার কারণে আর পশ্চিমাদের পছন্দের কথা চিন্তা করে ছবি বানালে চলবে না।  নিঃসন্দেহে এ আশার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত রেকর্ড বলে টেলিভিশন ছবিতেও কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সেই পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করি। নয়তো টেলিভিশন শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় কারণে একটা গ্রামের মানুষদের নিষিদ্ধ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আবার সেই টেলিভিশনের কাছেই পরাজয় স্বীকার করতে হয় না।
সব কিছুর পরেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকির টেলিভিশন আর ভিজনটেলে পৃথক দুটো ছবি। পৃথক অনুভূতির গল্প বলে বিধায়ই কেবল ছবিগুলো পৃথক নয়, বরং আমি ভিটনটেলে কে এগিয়ে রাখবো  তার নির্মাণশৈলি বা তার গল্প বলার ধরণের কারণেই। সর্বোপরি দুটোই টেলিভিশন সংক্রান্ত সিনেমা।  
 (গদ্যটি লেখা হয়েছিলো ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারিতে। ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে পড়াটাই নিরাপদ হবে।)

Read More

বুধবার, ১৮ জুন, ২০১৪

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, শাহরুখ খানের বয়স কত? আপনি হয়তো অনুমানে একটা তথ্য দিবেন। হয়তো তা সত্যও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনাকেই যদি আবার জিজ্ঞেস করা শাহরুখ কি তার স্বপ্নের বাইরের কোনও জীবনকে আজো পর্দায় রাঙিয়েছেন কি না তাহলে আপনি উত্তর দিতে গিয়ে বিব্রত হতে পারেন। আপনার বিব্রত হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ, বলিউডের এই বাদশাহ তার স্বপ্নের বাইরের কোনও জীবনকে সম্ভবত এখনো পর্দায় সাজাতে পারেন নি। আর এই মনে হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে দাঁড়ায় সেলিম আহমেদ পরিচালিত ছবি ‌আদম সন্তান আবু দেখার পর। ইংরেজিতে ছবিটির নাম Abu, Son of Adam । এই ছবি দেখার সাথে শাহরুখের কি সম্পর্ক তা আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে। আপনার কৌতুহল মিটিয়ে তারপর ছবির প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। এই ছবিটি ভারতের অঙ্গ রাজ্য মালয়ালাম অঞ্চলের একটি ছবি। ভাষাও ঐ অঞ্চলের। তবে ছবির ভাষাটা আর ঐ অঞ্চলের নেই। ছবিটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের মানবিক মানুষের এক চমৎকার অনুভূতির গল্প। আর এই কারণেই ভারতের সিনেমা মাফিয়া করণ জোহর চেয়েছিলেন ছবিটি হিন্দীতে পুনঃনির্মাণ করতে। কিন্তু হয়ে উঠেনি। তার প্রধান কারণ ঐ শাহরুখ খান। করণ চেয়েছিলেন এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আবুর চরিত্রে অভিনয় করুক শাহরুখ খান। এ কারণেই বোধ হয় ক্ষেপে গিয়ে কখনো হিন্দী ছবি বানাবেন না বলে রীতিমত ঘোষণা দিয়েছেন এই ছবির নির্মাতা সেলিম।
ছবির গল্প পুরোপুরি বলে দেয়া ছবির আলোচনা বা রিভিউ এর শর্ত না। তাই আমিও এই ছবির গল্প পুরোপুরি বলবো না। যেটুকু আমার বলা প্রয়োজন সেটুকুই বলবো। আমি যা বলতে চাই আমাদের ছবির যে কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু, সে ঐ অঞ্চলের বলতে গেলে মেগাস্টারের মতো। উইকিপিডিয়ার মতো মুক্ত কোষে গেলেও তার সম্পর্কে যে তথ্য আপনি পাবেন তা রীতিমত আশ্চর্যজনক। কারণ, তিনি তার চুয়াল্লিশ বছর জীবনে প্রায় ২শ ৪১টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার ছবির সবই কিন্তু একই ধাচের নায়োকোচিত নয়। কিছুটা এক্সট্রা লুক নিয়ে একদমই খাঁটি অভিনেতার মেজাজে তিনি অভিনয় করেন। আর এ কারণেই সেলিম আহমেদ তাকে তার দ্বিগুণ বয়সেরও বেশী চরিত্রে কাস্ট করেছেন। ছবিতে তার অভিনয় এতই চমৎকার ছিলো যে, সে ঐ বছর ভারতের জাতীয় পুরস্কারও জিতে নেয়। তার অভিনয়ের মাঝ দিয়ে তিনি কি করতে চেয়েছেন? এই প্রশ্নের চেয়ে বেটার হয় ছবিতে তিনি কি করেছেন? আবু ও তার স্ত্রী একটা স্বপ্নের পেছনে ছুটেছেন। আর এই স্বপ্ন ধরার জন্য তিনি তার সাধ্যের মধ্যে সবটুকুই করেছেন। কিন্তু স্বপ্নটা তার বাস্তবে রূপ নেয় নি। কি সেই স্বপ্ন? তা জানতে হলে আপনাকে ছবিটা দেখতে হবে। ছবিতে আসলে আপনারই একটা স্বপ্নে সেও ধরতে চেয়েছেন। ধরতে গিয়ে তিনি মোটেও ক্লান্ত হন নি। তার কাছে ধরা পড়তে না পেরে ক্লান্ত হয়েছে স্বপ্নটিই। আসলে আমাদের তো স্বপ্নই থাকে। স্বপ্নগুলোই তো বাঁচিয়ে রাখে, তাকেও বাঁচিয়ে রেখেছে তার স্বপ্ন, আমাদের স্বপ্ন। কারণ আমরা জানি ছবি ফুরিয়ে যাবে কিন্তু স্বপ্নটা ফুরাবে না।
ছবিটার সবচেয়ে বড় আবেদন এর মানবিক আকাঙ্খা। এই আকাঙ্খার জের ধরেই ছবির গল্পটা এগোয়। আসতে থাকে স্বপ্ন পূরণের সংগ্রাম। পৃথিবীর প্রায় তাবৎ ক্লাসিক গল্পের সাথে এক ধরনের সংগ্রামের যে সম্পর্কটা আছে, এই ছবিতেও তার একটা বড় প্রভাব আছে। ভারতের ছবি বললেই আপনার চোখে যে চোখ ধাধানো ছবি, মারমার কাটকাট অ্যাকশন, নায়িকার আকর্ষণীয় শরীর প্রদর্শণ, একটু পর পর যে গানের বাহারি ছবির চেহারা ভেসে আসে এখানে তার অনেক কিছুই নেই বলে আপনি হয়তো হতাশ হবেন। আদতে আপনাকে হতাশ হবার জন্যে নয়, এই ছবির মূল সুর সম্ভবত আশাতেই। একটু আগেও তাই বলতে চেয়েছি আমি।
ছবির কথা বলতে গিয়ে আশার কথাটা আমি বারবার বলছি এর পেছনে আরো একটা কারণ আছে। আর তা হলো ছবির পেছনের গল্পটাও অনেকটা আশাব্যাঞ্জক। ছবির যে পরিচালক সেলিম আহমেদ, তিনি প্রথমে টেলিভিশনের নির্মাতা ছিলেন। টিভিতে কাজ করে করে টাকা সঞ্চয় করে নিজের ছবির প্রযোজনা নিজেই করেছেন। কারণ তিনি জানতেন ভারতে তার মতো মানবিক গল্পের ছবির জন্য ব্যবসায়ী প্রযোজকেরা টাকা ঢালবে না। আর কেন ঢালবে না এ গল্পতো শুরুতেই বলেই দিয়েছি। নির্মাতা যখন ছবির বাজেট যখন করতে যান তখন দেখেন যে ৩৫ এম.এম এ তার ছবি বানানো কঠিন। তো তিনি ঐ সময় খরচ কমানোর কথা চিন্তা করে ১৬ এম.এম এ ছবি স্যুট করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ছবির চিত্রগ্রাহকের সাথে কথা বলে শেষ পর্যন্ত তিনি ছবিটি স্যুট করেছিলেন ডিজিটালে। যদিও ডিজিটালে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিই তিনি ব্যবহার করেছেন, তার ফলও আমরা পর্দায় দেখি। কি অনুভূতিপ্রবণ ছবি উঠে আসে পর্দায়। যেনবা বাস্তব মানুষগুলোই চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে। আরও মজার তথ্য হলো এই ছবি যেমন নির্মাতার প্রথম সিনেমা, তেমনি পর্দার পেছনে কাজ করা অধিকাংশেরই এই ছবি দিয়ে ডেব্যু। আর এর মাঝেও আর্ট ডিরেকশনে সেরা আঞ্চলিক পুরস্কারটাও ছবির শিল্প নির্দেশকের কাছেই গেছে। এইসব তথ্য আপনি ছবির উইকি থেকেই পাবেন। এর জন্য আমার কোনও কৃতিত্ব নেই। আমি শুধু বলতে চাই ছবিটি আপনি দেখুন।

সর্বোপরি আপনি যদি নাচ গানের জগতের বাইরের একটি ছবি দেখতে চান, আর মনে করছেন যে সিনেমার নামে দেয়া সময়টা আমি আমার অনুভূতির সাথে কাটাবো। কাটাবো মানবিক বোধ ও পরিপার্শ্বিকতার সাথে তবে আদামিন্তে মাকান আবু ‘Abu, Son of Adam’ একটি উত্তম ছবি। সিনেমা বিষয়ক বিনোদনের জগতে আপনাকে পূর্ণ বিনোদনই দিবে এই ১শ মিনিটের পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। জয় হোক সিনেমার।  

আবু, সন অব আদম : সিনেমাটিক বিনোদন ও অনুভূতির গল্প

at বুধবার, জুন ১৮, ২০১৪  |  No comments

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, শাহরুখ খানের বয়স কত? আপনি হয়তো অনুমানে একটা তথ্য দিবেন। হয়তো তা সত্যও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনাকেই যদি আবার জিজ্ঞেস করা শাহরুখ কি তার স্বপ্নের বাইরের কোনও জীবনকে আজো পর্দায় রাঙিয়েছেন কি না তাহলে আপনি উত্তর দিতে গিয়ে বিব্রত হতে পারেন। আপনার বিব্রত হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ, বলিউডের এই বাদশাহ তার স্বপ্নের বাইরের কোনও জীবনকে সম্ভবত এখনো পর্দায় সাজাতে পারেন নি। আর এই মনে হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে দাঁড়ায় সেলিম আহমেদ পরিচালিত ছবি ‌আদম সন্তান আবু দেখার পর। ইংরেজিতে ছবিটির নাম Abu, Son of Adam । এই ছবি দেখার সাথে শাহরুখের কি সম্পর্ক তা আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে। আপনার কৌতুহল মিটিয়ে তারপর ছবির প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। এই ছবিটি ভারতের অঙ্গ রাজ্য মালয়ালাম অঞ্চলের একটি ছবি। ভাষাও ঐ অঞ্চলের। তবে ছবির ভাষাটা আর ঐ অঞ্চলের নেই। ছবিটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের মানবিক মানুষের এক চমৎকার অনুভূতির গল্প। আর এই কারণেই ভারতের সিনেমা মাফিয়া করণ জোহর চেয়েছিলেন ছবিটি হিন্দীতে পুনঃনির্মাণ করতে। কিন্তু হয়ে উঠেনি। তার প্রধান কারণ ঐ শাহরুখ খান। করণ চেয়েছিলেন এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আবুর চরিত্রে অভিনয় করুক শাহরুখ খান। এ কারণেই বোধ হয় ক্ষেপে গিয়ে কখনো হিন্দী ছবি বানাবেন না বলে রীতিমত ঘোষণা দিয়েছেন এই ছবির নির্মাতা সেলিম।
ছবির গল্প পুরোপুরি বলে দেয়া ছবির আলোচনা বা রিভিউ এর শর্ত না। তাই আমিও এই ছবির গল্প পুরোপুরি বলবো না। যেটুকু আমার বলা প্রয়োজন সেটুকুই বলবো। আমি যা বলতে চাই আমাদের ছবির যে কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু, সে ঐ অঞ্চলের বলতে গেলে মেগাস্টারের মতো। উইকিপিডিয়ার মতো মুক্ত কোষে গেলেও তার সম্পর্কে যে তথ্য আপনি পাবেন তা রীতিমত আশ্চর্যজনক। কারণ, তিনি তার চুয়াল্লিশ বছর জীবনে প্রায় ২শ ৪১টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার ছবির সবই কিন্তু একই ধাচের নায়োকোচিত নয়। কিছুটা এক্সট্রা লুক নিয়ে একদমই খাঁটি অভিনেতার মেজাজে তিনি অভিনয় করেন। আর এ কারণেই সেলিম আহমেদ তাকে তার দ্বিগুণ বয়সেরও বেশী চরিত্রে কাস্ট করেছেন। ছবিতে তার অভিনয় এতই চমৎকার ছিলো যে, সে ঐ বছর ভারতের জাতীয় পুরস্কারও জিতে নেয়। তার অভিনয়ের মাঝ দিয়ে তিনি কি করতে চেয়েছেন? এই প্রশ্নের চেয়ে বেটার হয় ছবিতে তিনি কি করেছেন? আবু ও তার স্ত্রী একটা স্বপ্নের পেছনে ছুটেছেন। আর এই স্বপ্ন ধরার জন্য তিনি তার সাধ্যের মধ্যে সবটুকুই করেছেন। কিন্তু স্বপ্নটা তার বাস্তবে রূপ নেয় নি। কি সেই স্বপ্ন? তা জানতে হলে আপনাকে ছবিটা দেখতে হবে। ছবিতে আসলে আপনারই একটা স্বপ্নে সেও ধরতে চেয়েছেন। ধরতে গিয়ে তিনি মোটেও ক্লান্ত হন নি। তার কাছে ধরা পড়তে না পেরে ক্লান্ত হয়েছে স্বপ্নটিই। আসলে আমাদের তো স্বপ্নই থাকে। স্বপ্নগুলোই তো বাঁচিয়ে রাখে, তাকেও বাঁচিয়ে রেখেছে তার স্বপ্ন, আমাদের স্বপ্ন। কারণ আমরা জানি ছবি ফুরিয়ে যাবে কিন্তু স্বপ্নটা ফুরাবে না।
ছবিটার সবচেয়ে বড় আবেদন এর মানবিক আকাঙ্খা। এই আকাঙ্খার জের ধরেই ছবির গল্পটা এগোয়। আসতে থাকে স্বপ্ন পূরণের সংগ্রাম। পৃথিবীর প্রায় তাবৎ ক্লাসিক গল্পের সাথে এক ধরনের সংগ্রামের যে সম্পর্কটা আছে, এই ছবিতেও তার একটা বড় প্রভাব আছে। ভারতের ছবি বললেই আপনার চোখে যে চোখ ধাধানো ছবি, মারমার কাটকাট অ্যাকশন, নায়িকার আকর্ষণীয় শরীর প্রদর্শণ, একটু পর পর যে গানের বাহারি ছবির চেহারা ভেসে আসে এখানে তার অনেক কিছুই নেই বলে আপনি হয়তো হতাশ হবেন। আদতে আপনাকে হতাশ হবার জন্যে নয়, এই ছবির মূল সুর সম্ভবত আশাতেই। একটু আগেও তাই বলতে চেয়েছি আমি।
ছবির কথা বলতে গিয়ে আশার কথাটা আমি বারবার বলছি এর পেছনে আরো একটা কারণ আছে। আর তা হলো ছবির পেছনের গল্পটাও অনেকটা আশাব্যাঞ্জক। ছবির যে পরিচালক সেলিম আহমেদ, তিনি প্রথমে টেলিভিশনের নির্মাতা ছিলেন। টিভিতে কাজ করে করে টাকা সঞ্চয় করে নিজের ছবির প্রযোজনা নিজেই করেছেন। কারণ তিনি জানতেন ভারতে তার মতো মানবিক গল্পের ছবির জন্য ব্যবসায়ী প্রযোজকেরা টাকা ঢালবে না। আর কেন ঢালবে না এ গল্পতো শুরুতেই বলেই দিয়েছি। নির্মাতা যখন ছবির বাজেট যখন করতে যান তখন দেখেন যে ৩৫ এম.এম এ তার ছবি বানানো কঠিন। তো তিনি ঐ সময় খরচ কমানোর কথা চিন্তা করে ১৬ এম.এম এ ছবি স্যুট করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ছবির চিত্রগ্রাহকের সাথে কথা বলে শেষ পর্যন্ত তিনি ছবিটি স্যুট করেছিলেন ডিজিটালে। যদিও ডিজিটালে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিই তিনি ব্যবহার করেছেন, তার ফলও আমরা পর্দায় দেখি। কি অনুভূতিপ্রবণ ছবি উঠে আসে পর্দায়। যেনবা বাস্তব মানুষগুলোই চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে। আরও মজার তথ্য হলো এই ছবি যেমন নির্মাতার প্রথম সিনেমা, তেমনি পর্দার পেছনে কাজ করা অধিকাংশেরই এই ছবি দিয়ে ডেব্যু। আর এর মাঝেও আর্ট ডিরেকশনে সেরা আঞ্চলিক পুরস্কারটাও ছবির শিল্প নির্দেশকের কাছেই গেছে। এইসব তথ্য আপনি ছবির উইকি থেকেই পাবেন। এর জন্য আমার কোনও কৃতিত্ব নেই। আমি শুধু বলতে চাই ছবিটি আপনি দেখুন।

সর্বোপরি আপনি যদি নাচ গানের জগতের বাইরের একটি ছবি দেখতে চান, আর মনে করছেন যে সিনেমার নামে দেয়া সময়টা আমি আমার অনুভূতির সাথে কাটাবো। কাটাবো মানবিক বোধ ও পরিপার্শ্বিকতার সাথে তবে আদামিন্তে মাকান আবু ‘Abu, Son of Adam’ একটি উত্তম ছবি। সিনেমা বিষয়ক বিনোদনের জগতে আপনাকে পূর্ণ বিনোদনই দিবে এই ১শ মিনিটের পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। জয় হোক সিনেমার।  

Read More

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ভারত বর্ষের সিনেমার ইতিহাসে যে সকল মানুষের নাম আবশ্যিক উপস্থিত হয় তার মাঝে ঋত্বিক কুমার ঘটক এর নাম আসবেই। নিজের জীবনকে তিনি কখনোই নিজের বলে ভাবেন নি। ভেবেছেন মানুষের জীবন হিসেবে। তাই আদ্যোপান্ত একজন আপোষহীন মানুষ হিসেবে দিনকে দিন বেড়ে ওঠেছেন, বাড়িয়েছেন তাঁর প্রতি শিল্পের দায়। এই দায় কি একটা কথা বা একটা গল্প বা একটা সিনেমার দায়? না এই দায় সংস্কৃতির দায়। সংস্কৃতি এই দায়কে পোষণ করে। তার নিরন্তর বয়ে চলার মাঝেই তা বয়ে চলে। নইলে দিনকে দিন মানুষের বুকের ভেতর থেকে সংস্কৃতির প্রতি যে টান, যাকে আমরা ভালোবাসা বা প্রেম বলি তা হয়তো থাকতো না। অথচ শিল্পের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ঋত্বিকের বেশি ছিলো দায়। সেই দায় থাকার কারনেই সে বলতে পেরেছিলো, সিনেমা আমার কাছে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটা মাধ্যম। যেদিন মানুষের কাছে পৌছুতে এর চেয়ে ভালো কোনও মাধ্যম চলে আসবে, সেদিন সিনেমাকে লাথি মেরে আমি তার কাছে চলে যাবো। অথচ এই শিল্পই কিনা ঋত্বিক কে বিক্রি করতে ছাড়ে নাকড়ায় গন্ডায় তোলে নেয় তার দাম আর সেই শিল্প যদি হয় সিনেমা তবে তো বলতে হবে বাণিজ্যিকি করণের ষোলকলা পূর্ণ হইলো। এত কথা বলার কারণ, ঋত্বিকের জীবনের ৯৫ ভাগ তথ্য ও ঘটনা নিয়ে ঋত্বিকের সিনেমার নামেই নতুন করে সিনেমা নির্মাণ হয়, তাও আবার সব চরিত্র কাল্পনিক অনুপ্রেরণা মাত্র উল্লেখ করে। তখন আর বলার কিছু থাকে না। থাকবে কি করে, বাজার অর্থনীতির নিয়মই যে তা।

তার দেশেরই একজন লেখক, যে কিনা ফিল্ম বানানোর চেষ্টা-চরিত্র করেও হয়েছেন কথা সাহিত্যিক। সেই শাহযাদ ফেরদাউস তার এক উপন্যাসে লিখেছিলেন মুক্ত বাজার অর্থনীতির চূড়ান্ত রূপ কাকে বলে। কিভাবে বাজার আমাদের গ্রাস করে, ঢুকে যায় আমাদের অন্দরেরও অন্দরে। যেখানে কেবল একা আমি, সেখানেও বাজার বিষয়টি চলে আসে। শাহযাদের উপন্যাসে আমরা দেখেছিলাম একজন তার জীবন থেকে বিক্রয় করার মত আর কিছু না পেয়ে অতীত বিক্রয় করে দেয় চড়া দামে। তারপর সে বুঝতে শুরু করে সে আসলে তার বায়বীয় অতীতটা কি, আর এর প্রভাবটাই বা কোথায় গিয়ে পরে। যেমন রাতে ছোট ছেলে এসে জিজ্ঞাসা করে, বাবা অতীত কি? ছেলেকে বুঝানোর জন্য সে বলে, সকালে যে তোমার ক্ষুধা লেগেছিলো, তুমি খেয়েছিলে সেটা অতীত। তখন ছেলেটা বলে তুমি যে তোমার মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে, সেটাও কি তাহলে অতীত? তুমি কি তা বিক্রি করে দিয়েছো? সেই প্রশ্নের উত্তর তার আর কিছু বলার থাকে না। আর এভাবেই বুঝতে পারে সব কিছু পণ্য হয়ে গেলে মানুষের অন্তঃসার শূন্যতার কোনও মূল্য থাকে না। কমলেশ্বর মুখার্জীর পরিচালিত মেঘে ঢাকা তারা ছবিটাও তেমনি ঋত্বিক কুমার ঘটকের অন্তঃসার সব কিছু দিয়েই নির্মিত। আর তাই পরিচালক নতুন কোনও গল্প এখানে বলতে পারে নি। বলেছে ঋত্বিকেরই জীবন ও গল্প। তাও আবার কাল্পনিক মোড়কে।
কি আছে মেঘে ঢাকা তারায়? এই ছবির গল্প নীলকণ্ঠ বাগচী নামের একজন সংস্কৃতি কর্মীর। যিনি সংস্কৃতিকে মনে করতেন সমাজ বদলের হাতিয়ার। তাই শুরুতে গান, গান থেকে নাটক, নাটক থেকে সিনেমায় এসেছিলেন তিনি। পার্টির সদস্যদের তিনি বলেছিলেন, মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য সিনেমার চেয়ে ভালো কোনও মাধ্যম তার কাছে এলে সে সিনেমাকে লাথি মেরে চলে যাবে। সেই মানুষটা এক সময় পার্টির কাছেও হয়ে পড়েছিলেন ব্রাত্য। জীবন, সমাজ ও সংসারে এই মানুষটি সারা জীবন তার কথা বলতে গিয়ে চারপাশের মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে মানুষের জন্যই হাহাকার করেছেন। আর এই সিনেমার গল্পই ছিলো এই জীবন। যা কিনা ঋত্বিক ঘটকেরই পূর্ণ জীবনের সংস্কৃতিকর্মী অংশটিই মূখ্য ছিলো। শিল্প শ্রমিক ঋত্বিকের এইসব জীবন নাটক কম বেশী সবাই জানে। তবে কখনোই পর্দায় অন্যের দ্বারা রূপান্তরিত হবে আর তা প্রদর্শণের আগে বলবে তা কাল্পনিক ও মিলে যাওয়া কাকতালীয় এটা বোধহয় এক ধরনের ভাড়ামি ছাড়া আর কিছু নয়।
ঋত্বিকের জীবন নিয়ে সিনেমা হচ্ছে জেনে ভালোই লেগেছিলো। ছবির ট্রেলার দেখে মুগ্ধও হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছিলো বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া ছবির রিভিউ। কিন্তু কোথাও দেখিনি ছবি সম্পর্কে এই গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে মুখ খুলতে। এসবও এক প্রকার বোঝাপড়ার বিষয়। যেমন জেনে আসছি, কাক কাকের মাংস খায় না। তেমনই এই ছবি সম্পর্কে বলেছেন সে দেশের মিডিয়া। যেই লোকটা এমনই দেশাল ছিলেন, যে দেশি মদে বুদ হয়ে থাকা মানুষটাকে বন্ধুরা জোর করে এক পেগ ভদকা খাইয়ে দিতে চাইলেও তাতে তার বিতৃষ্ণা হতো। সেই লোকটার জীবনটা মহৎ হয়ে উঠতে পারতো এই ছবির একটি মাত্র মিথ্যা না থাকলে। আর তা হলো ঐ এই ছবির সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক মন্তব্যে।

পরিচালক কমলেশ্বরের ইচ্ছার জগতে ঋত্বিক না হয় বিক্রি হয়েই গেলো, তা তো আর রুখতে পারা গেলো না। তাই বলে ছবিটা কি এনজয় করেছি কি না সে কথাও তো বলতেই হয়। হ্যা, ছবিটা বেশ হয়েছে মাইরি। এই ছবির প্রত্যেকটা অণুষঙ্গ যদি ঋত্বিক না হতো তবে তা পূর্ণতা পেতো বলেই মনে করি। রঙিন ছবির দুনিয়ায়ও সাদাকালো পর্দার ছবিতে দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি তো লোভ লাগানোর মতোই। এর সাথে শাশ্বতর অভিনয়ও বেশ উপভোগ্য ছিলো। সম্ভবত এই ছবিতেই সবচে ভালো আর সবচে বেশী অভিনয় করার সুযোগ পেলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র মানে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে মনে পড়ছে না। কিন্তু শাশ্বতর প্রসঙ্গ আসলেই মনে হয় এই রকম মোটকু একটা মানুষ কি করে ঋত্বিক ঘটকের চরিত্রে নির্বাচিত হলেন? এর প্রশ্নের উত্তর পেতে অবশ্য বেশী দেরি হয় না। কারণ, মঞ্চে আমরা যেসব অভিনয় পদ্ধতির কথা জেনেছিলাম তার মাঝে একটি পদ্ধতি ব্রেটল ব্রেখট এর। ব্রেখট বলতেন মঞ্চের অভিনয় যেহেতু পুরোপুরি বাস্তব নয়, তাই সেখানেও কিছু গল্পের সাথে অবাস্তব সম্পর্কযুক্ত বিষয় রাখতেই হবে। বিষয়টা অনেকটা এরকম, যে চিড়িয়াখানার গল্প বলা হলেও সেখানে হয়তো একটা সোফা থাকবে। যাতে বিষয়টি পুরোপুরি বাস্তবানুগ না হয়। এখানে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে পরিচালক এই পদ্ধতিই এপ্লাই করেছেন বলে বোধ করি। তবে শাশ্বত অভিনয় ভালো করেছেন। তার তুলনায় অনন্যা চ্যাটার্জির অভিনয় তেমন কোনও নজর কাড়ে নি। তবুও আমরা পুরো ১৫৫ মিনিট বসে ছিলাম পর্দার সামনে। কারণ, ঐ ঋত্বিক। ঐ ঋত্বিকের জন্যই উঠার উপায় ছিলো না। তবে শেষ দৃশ্যে এসেও প্রশ্ন থেকেই যায়। যেখানে একজন রিফিউজি মেয়ের সাথে মনের আনন্দে ঋত্বিক বেড়িয়ে পড়েছেন অজানা গন্তব্যে। আর সেই ছবিটাই ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে যাচ্ছে। ঋত্বিক কি আসলেই এই রঙিন জীবনের দেখা পেয়েছিলেন? নাকি বরাবরই স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন একটা রঙিন সমাজের? যেই সমাজ তাকে কখনোই চিনতে, মূল্যায়ন করতে পারে নি। বরং আশার বদলে হতাশাই উপহার দিয়েছে। এত কিছুর পরও শ্রীমাণ ঋত্বিক কুমার ঘটক ভালোবেসে গেছেন মানুষকে। কারণ, তিনি জানতেন সব সময়ের সব কিছুই এই মানুষগুলোর জন্যই। আর মানুষই সব। বাকি সব মিথ্যা। 

অন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহিরে

at মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৩  |  No comments

ভারত বর্ষের সিনেমার ইতিহাসে যে সকল মানুষের নাম আবশ্যিক উপস্থিত হয় তার মাঝে ঋত্বিক কুমার ঘটক এর নাম আসবেই। নিজের জীবনকে তিনি কখনোই নিজের বলে ভাবেন নি। ভেবেছেন মানুষের জীবন হিসেবে। তাই আদ্যোপান্ত একজন আপোষহীন মানুষ হিসেবে দিনকে দিন বেড়ে ওঠেছেন, বাড়িয়েছেন তাঁর প্রতি শিল্পের দায়। এই দায় কি একটা কথা বা একটা গল্প বা একটা সিনেমার দায়? না এই দায় সংস্কৃতির দায়। সংস্কৃতি এই দায়কে পোষণ করে। তার নিরন্তর বয়ে চলার মাঝেই তা বয়ে চলে। নইলে দিনকে দিন মানুষের বুকের ভেতর থেকে সংস্কৃতির প্রতি যে টান, যাকে আমরা ভালোবাসা বা প্রেম বলি তা হয়তো থাকতো না। অথচ শিল্পের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ঋত্বিকের বেশি ছিলো দায়। সেই দায় থাকার কারনেই সে বলতে পেরেছিলো, সিনেমা আমার কাছে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটা মাধ্যম। যেদিন মানুষের কাছে পৌছুতে এর চেয়ে ভালো কোনও মাধ্যম চলে আসবে, সেদিন সিনেমাকে লাথি মেরে আমি তার কাছে চলে যাবো। অথচ এই শিল্পই কিনা ঋত্বিক কে বিক্রি করতে ছাড়ে নাকড়ায় গন্ডায় তোলে নেয় তার দাম আর সেই শিল্প যদি হয় সিনেমা তবে তো বলতে হবে বাণিজ্যিকি করণের ষোলকলা পূর্ণ হইলো। এত কথা বলার কারণ, ঋত্বিকের জীবনের ৯৫ ভাগ তথ্য ও ঘটনা নিয়ে ঋত্বিকের সিনেমার নামেই নতুন করে সিনেমা নির্মাণ হয়, তাও আবার সব চরিত্র কাল্পনিক অনুপ্রেরণা মাত্র উল্লেখ করে। তখন আর বলার কিছু থাকে না। থাকবে কি করে, বাজার অর্থনীতির নিয়মই যে তা।

তার দেশেরই একজন লেখক, যে কিনা ফিল্ম বানানোর চেষ্টা-চরিত্র করেও হয়েছেন কথা সাহিত্যিক। সেই শাহযাদ ফেরদাউস তার এক উপন্যাসে লিখেছিলেন মুক্ত বাজার অর্থনীতির চূড়ান্ত রূপ কাকে বলে। কিভাবে বাজার আমাদের গ্রাস করে, ঢুকে যায় আমাদের অন্দরেরও অন্দরে। যেখানে কেবল একা আমি, সেখানেও বাজার বিষয়টি চলে আসে। শাহযাদের উপন্যাসে আমরা দেখেছিলাম একজন তার জীবন থেকে বিক্রয় করার মত আর কিছু না পেয়ে অতীত বিক্রয় করে দেয় চড়া দামে। তারপর সে বুঝতে শুরু করে সে আসলে তার বায়বীয় অতীতটা কি, আর এর প্রভাবটাই বা কোথায় গিয়ে পরে। যেমন রাতে ছোট ছেলে এসে জিজ্ঞাসা করে, বাবা অতীত কি? ছেলেকে বুঝানোর জন্য সে বলে, সকালে যে তোমার ক্ষুধা লেগেছিলো, তুমি খেয়েছিলে সেটা অতীত। তখন ছেলেটা বলে তুমি যে তোমার মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে, সেটাও কি তাহলে অতীত? তুমি কি তা বিক্রি করে দিয়েছো? সেই প্রশ্নের উত্তর তার আর কিছু বলার থাকে না। আর এভাবেই বুঝতে পারে সব কিছু পণ্য হয়ে গেলে মানুষের অন্তঃসার শূন্যতার কোনও মূল্য থাকে না। কমলেশ্বর মুখার্জীর পরিচালিত মেঘে ঢাকা তারা ছবিটাও তেমনি ঋত্বিক কুমার ঘটকের অন্তঃসার সব কিছু দিয়েই নির্মিত। আর তাই পরিচালক নতুন কোনও গল্প এখানে বলতে পারে নি। বলেছে ঋত্বিকেরই জীবন ও গল্প। তাও আবার কাল্পনিক মোড়কে।
কি আছে মেঘে ঢাকা তারায়? এই ছবির গল্প নীলকণ্ঠ বাগচী নামের একজন সংস্কৃতি কর্মীর। যিনি সংস্কৃতিকে মনে করতেন সমাজ বদলের হাতিয়ার। তাই শুরুতে গান, গান থেকে নাটক, নাটক থেকে সিনেমায় এসেছিলেন তিনি। পার্টির সদস্যদের তিনি বলেছিলেন, মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য সিনেমার চেয়ে ভালো কোনও মাধ্যম তার কাছে এলে সে সিনেমাকে লাথি মেরে চলে যাবে। সেই মানুষটা এক সময় পার্টির কাছেও হয়ে পড়েছিলেন ব্রাত্য। জীবন, সমাজ ও সংসারে এই মানুষটি সারা জীবন তার কথা বলতে গিয়ে চারপাশের মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে মানুষের জন্যই হাহাকার করেছেন। আর এই সিনেমার গল্পই ছিলো এই জীবন। যা কিনা ঋত্বিক ঘটকেরই পূর্ণ জীবনের সংস্কৃতিকর্মী অংশটিই মূখ্য ছিলো। শিল্প শ্রমিক ঋত্বিকের এইসব জীবন নাটক কম বেশী সবাই জানে। তবে কখনোই পর্দায় অন্যের দ্বারা রূপান্তরিত হবে আর তা প্রদর্শণের আগে বলবে তা কাল্পনিক ও মিলে যাওয়া কাকতালীয় এটা বোধহয় এক ধরনের ভাড়ামি ছাড়া আর কিছু নয়।
ঋত্বিকের জীবন নিয়ে সিনেমা হচ্ছে জেনে ভালোই লেগেছিলো। ছবির ট্রেলার দেখে মুগ্ধও হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছিলো বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া ছবির রিভিউ। কিন্তু কোথাও দেখিনি ছবি সম্পর্কে এই গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে মুখ খুলতে। এসবও এক প্রকার বোঝাপড়ার বিষয়। যেমন জেনে আসছি, কাক কাকের মাংস খায় না। তেমনই এই ছবি সম্পর্কে বলেছেন সে দেশের মিডিয়া। যেই লোকটা এমনই দেশাল ছিলেন, যে দেশি মদে বুদ হয়ে থাকা মানুষটাকে বন্ধুরা জোর করে এক পেগ ভদকা খাইয়ে দিতে চাইলেও তাতে তার বিতৃষ্ণা হতো। সেই লোকটার জীবনটা মহৎ হয়ে উঠতে পারতো এই ছবির একটি মাত্র মিথ্যা না থাকলে। আর তা হলো ঐ এই ছবির সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক মন্তব্যে।

পরিচালক কমলেশ্বরের ইচ্ছার জগতে ঋত্বিক না হয় বিক্রি হয়েই গেলো, তা তো আর রুখতে পারা গেলো না। তাই বলে ছবিটা কি এনজয় করেছি কি না সে কথাও তো বলতেই হয়। হ্যা, ছবিটা বেশ হয়েছে মাইরি। এই ছবির প্রত্যেকটা অণুষঙ্গ যদি ঋত্বিক না হতো তবে তা পূর্ণতা পেতো বলেই মনে করি। রঙিন ছবির দুনিয়ায়ও সাদাকালো পর্দার ছবিতে দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি তো লোভ লাগানোর মতোই। এর সাথে শাশ্বতর অভিনয়ও বেশ উপভোগ্য ছিলো। সম্ভবত এই ছবিতেই সবচে ভালো আর সবচে বেশী অভিনয় করার সুযোগ পেলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র মানে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে মনে পড়ছে না। কিন্তু শাশ্বতর প্রসঙ্গ আসলেই মনে হয় এই রকম মোটকু একটা মানুষ কি করে ঋত্বিক ঘটকের চরিত্রে নির্বাচিত হলেন? এর প্রশ্নের উত্তর পেতে অবশ্য বেশী দেরি হয় না। কারণ, মঞ্চে আমরা যেসব অভিনয় পদ্ধতির কথা জেনেছিলাম তার মাঝে একটি পদ্ধতি ব্রেটল ব্রেখট এর। ব্রেখট বলতেন মঞ্চের অভিনয় যেহেতু পুরোপুরি বাস্তব নয়, তাই সেখানেও কিছু গল্পের সাথে অবাস্তব সম্পর্কযুক্ত বিষয় রাখতেই হবে। বিষয়টা অনেকটা এরকম, যে চিড়িয়াখানার গল্প বলা হলেও সেখানে হয়তো একটা সোফা থাকবে। যাতে বিষয়টি পুরোপুরি বাস্তবানুগ না হয়। এখানে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে পরিচালক এই পদ্ধতিই এপ্লাই করেছেন বলে বোধ করি। তবে শাশ্বত অভিনয় ভালো করেছেন। তার তুলনায় অনন্যা চ্যাটার্জির অভিনয় তেমন কোনও নজর কাড়ে নি। তবুও আমরা পুরো ১৫৫ মিনিট বসে ছিলাম পর্দার সামনে। কারণ, ঐ ঋত্বিক। ঐ ঋত্বিকের জন্যই উঠার উপায় ছিলো না। তবে শেষ দৃশ্যে এসেও প্রশ্ন থেকেই যায়। যেখানে একজন রিফিউজি মেয়ের সাথে মনের আনন্দে ঋত্বিক বেড়িয়ে পড়েছেন অজানা গন্তব্যে। আর সেই ছবিটাই ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে যাচ্ছে। ঋত্বিক কি আসলেই এই রঙিন জীবনের দেখা পেয়েছিলেন? নাকি বরাবরই স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন একটা রঙিন সমাজের? যেই সমাজ তাকে কখনোই চিনতে, মূল্যায়ন করতে পারে নি। বরং আশার বদলে হতাশাই উপহার দিয়েছে। এত কিছুর পরও শ্রীমাণ ঋত্বিক কুমার ঘটক ভালোবেসে গেছেন মানুষকে। কারণ, তিনি জানতেন সব সময়ের সব কিছুই এই মানুষগুলোর জন্যই। আর মানুষই সব। বাকি সব মিথ্যা। 

Read More

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

পৃথিবীর ইতিহাসে এত বেশী মিশ্র ভাবনা-সংস্কৃতি আর চারিত্রের সংমিশ্রণ নিয়ে আমরা বেড়ে ওঠছি যে, ব্যাতিক্রম বাদে সবাই আমরা নানা ক্ষেত্রে সংকীর্ণতার চরম পরিচয় দিয়ে থাকি। আমাদের নানা সংকীর্ণতার মধ্যে আমাদের সামনে মানুষের যে সংকীর্ণ পরিচয়টা সবচে বেশী ব্যাথিত করে তা হলো মানুষ সত্যটা বলে না। কেবল যে নিজের স্বার্থের জন্য তা নয়, কিছুটা ঈর্ষাকাতর, কিছুটা অযোগ্যতা, কিছুটা লোভ, কিছুটা ব্যার্থতা থেকেও মানুষ এই কাজ করে। আর তার প্রভাব পরে সংস্কৃতিতে। এর সবচে বড় উদাহরণ জীবনানন্দ দাশের সাথে রজনীকান্ত দাশ-দের আচরণ। এখানে অবশ্য একটি বিষয় একটু বেশীই কাজ করে, তা হলো অযোগ্যতা। বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে, আমি অধম তুমি উত্তম হইবে কেন? এমন বিষয় নিয়ে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় কথা হচ্ছিলো একজনের সাথে। তিনি বলছিলেন, সমসাময়িকদের থেকে ইচ্ছাকৃত দূরে থাকি। কারণ তারা কখনোই সৎ নয়, সত্য কে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে তারা আগ্রহী নয়। এই মুখোশে ভর্তি সময়ে তাই সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে যেমন বলাল মানুষের অভাব তেমন, ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলাও অনেক কঠিন। তবে আমি আজ একটি ভালোর কথাই বলবো। আর তা হলো কামার আহমেদ সাইমন ও সারা আফরীন নির্মিত ছবি শুনতে কি পাও এর কথা।
বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়, তবে যে কথাটা সবার শেষে অথবা সবার শুরুতে বলতে পারি তা হলো ছবিটা অনবদ্য। শুরুতেই একটু ছবির চারপাশ ঘুরে আসি। আমরা বই পড়ি, গান শুনি, ছবি দেখি, চিত্রকলা দেখি কি জন্যে? প্রত্যেকটা মহৎ শিল্পই তো আমাদের নতুন একটি জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় বা ঐ জগতে ভ্রমণ করিয়ে নিয়ে আসে। একটা চমৎকার বই পড়ার পর, বইয়ে লেখা চরিত্রগুলো যেমন আমাদের চারপাশে বিরাজ করে, তেমন একটা ভালো ছবির চরিত্রগুলোও কি তেমন করে না? আমার তেমনই হয়। আমি বুদ হয়ে থাকি মুগ্ধতা মাখা সেইসব বই পড়ে অথবা ছবি দেখে। আর বাংলাদেশের সিনেমা দেখতে গিয়ে নানা কারণে প্রত্যাশা শূন্য রেখে দেখতে হয়। তবে কিছুটা প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে। নয়তো এই প্রাপ্তি অপ্রাপ্তিতে রূপান্তর হয় বড় করুণ আকারে। এইসব প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির মাঝে হঠাৎ করে জ্বলে ওঠে সূর্য। ঝলসে যেতে চায় চোখ। তবে রেহাই মিলে, কারণ চোখগুলো এতদিনে আর টলমলে নেই।
কামার আহমেদ সাইমন ও সারা আফরীন তাঁদের ছবি শুনতে কি পাও এর জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। পৃথিবীর সবচে পুরনো চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনি হয়েছে এই ছবি দিয়ে (খবর ), প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের অন্যতম প্রামান্য উৎসবসিনেমা দ্যু রিলেমূল আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতায়শ্রেষ্ঠ ছবি পুরষ্কার গ্রা প্রী পেয়েছে এই ছবি। এমন সংবাদ আমরা প্রতিবারই জেনেছি সংবাদ মাধ্যমে।  এমন সংবাদ পেলে কি ছবি দেখার আগ্রহ বাড়ে না? তো আমার বা আমাদেরো এমন আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু ছবি দেখার সৌভাগ্য হচ্ছে না। কারণ, ছবিটির শো হচ্ছে না কোথাও। এর মাঝে একদিন খবরের কাগজে দেখলাম ছবির প্রিমিয়ার হয়ে গেছে পাবলিক লাইব্রেরিতে। প্রিমিয়ার হওয়ার আগে খবর পাই নি, খবর পাইলাম প্রিমিয়ারের পর। তাই আরো কিছুটা রাগ হলো। কদিন পর দেখলাম ছবিটার একটি শো হচ্ছে ঢাবির টিএসসিসে ডিইউএফএস এর আয়োজনে। খবরটা এমন সময় হাতে পাইলাম যে ততক্ষণে অফিস শিডিউল বদলানোর সুযোগ নেই। আবারো ক্ষেদ জমলো মনে। আর এই ক্ষেদ মিটানোর সুযোগ হলো সম্প্রতি নির্মাতার নিজস্ব আয়োজনে ছবি দেখার সুযোগ পেয়ে। সত্যি বলছি, ছবি দেখার পর ছবির নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট সকল মানুষের প্রতি আর কোনও অভিযোগ নেই। সংবাদ মাধ্যমে এই ছবি সম্পর্কে জেনেছিলাম এটি একটি প্রামাণ্যচিত্র। কিন্তু ছবি দেখার পর এই শব্দটির ব্যবহারকে আমার মনে হয়েছে ছবিটির অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এই ছবিটিকে আমরা প্রামাণ্যচিত্র না বলে যদি শুধু একটি সিনেমা বলি তবে তা পূর্ণতা পাবে। এমন কথাই পরিচালক ছবি শুরু হওয়ার আগে বলেছিলেন আমাদের। বলেছিলেন, ছবি দেখার সময় আপনারা ছবিটি প্রামাণ্যচিত্র না ফিচার ফিল্ম তা মাথায় না রেখে দেখবেন, দেখার পর যা মনে হয় বলবেন। হ্যা, তাই করেছিলাম। আর এখন বলতে হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্রের যে তথাকথিত ফর্ম আমরা আগে দেখেছি, তা এখানে নেই। আবার ফিকশনেও যা দেখি তাও এখানে নেই। এখানে তবে কি আছে? এখানে আছে জীবন ও বাস্তবতা। আছে সংগ্রাম, প্রেম, দ্বন্দ্ব, রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বপ্ন, স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প। এবার বলুন, এত কিছু যদি কোনও কিছুতে থাকে তবে তাকে কি আপনি প্রামাণ্যচিত্র বলবেন? এইসব তো পরিকল্পিত চিত্রনাট্যের সাজানো ছবিতে থাকে। হ্যা, এই ছবির চিত্রনাট্যও সাজানো। তবে তা বাস্তবকে দেখে, সেখান থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন সাইমন। আর এইসব খুঁজে খুঁজে বের করে তাঁর ছবির মালা গেথেছেন। এই কারণে ছবি দেখার সময় ভুলেই গিয়েছিলাম প্রামাণ্যচিত্র না ফিকশন দেখছি।
ছবির গল্পের মূল চরিত্র ৩ জন সংগ্রামী। তারা হলেন ২০০৯ সালের ২৫ মে বাংলাদেশে আঘাত হানা আইলায় আক্রান্ত একটি পরিবার। পরিবারটির প্রধান পুরুষ চরিত্র সৌমেন, প্রধান নারী চরিত্র রাখী ও তাদের চার বছর বয়স্ক একমাত্র সন্তান রাহুল। বাড়িঘর হারিয়ে আরো হাজার হাজার নারী পুরুষের সাথে যখন তারা পথে আশ্রয় নেয়। ছবির সমগ্রতা জুড়ে আছে এই তিনজন। এই তিনজনের জীবন ও তাদের চারপাশের মাধ্যমে উঠে এসেছে আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান,রাষ্ট্র ও তার অগোছালো জীবনের ছবি।নব্বই মিনিটের এই ছবি পর্দায় শেষ হলেও কিন্তু শেষ হয় না তাদের প্রতিদিনকার সংগ্রামের গল্প। কারণ, মানুষের সংগ্রাম যে শেষ হয় না কখনো,সে কথাও বলা আছে এই ছবিতে। 
শুরুতে যে কথা বলতে চেয়েছিলাম। তা হলো আমাদের সংকীর্ণতার সুযোগে জীবনানন্দ তার কবিতার খাতা ট্রাঙ্কে ভরে রাখে। আমরা এমন সংকীর্ণতাকে নিয়েই বেড়ে ওঠি, তাই আমাদের চারপাশে জীবনানন্দ-রা বারবার আসে না। তেমনি আমাদের দেশের সিনেমার রঙিন মানুষদের জগৎটা আরো লোভের, আরো রূঢ়। তাদের মুখ থেকে অন্যের ভালোটা বের হয় না। যতটা না বলে আম পাবলিক। আমাদের এইসব আশা-হতাশা নিয়েই যেহেতু বাঁচতে হবে, দেখতে হবে কিভাবে একটা শিল্পের ফুল গোবরে পদ্ম হয়ে ফুটে। তাই আমরাও প্রস্তুত হয়েই থাকি। সৌমেন, রাখি আর রাহুলরা যেমন প্রতিদিন সংগ্রাম করে ঝড়-তুফানের সঙ্গে পাশাপাশি আমরাও মুখে কুলুপ আটা সভ্যতার চারপাশেই বেড়ে ওঠি ফুলকে ফুল আর ময়লা আবর্জনাকে নোংরা বলে জানান দিতে।

বিষাদের কাঁচপোকাদের দখলে থেকে থেকে তো আমার আপনার চিন্তায় কিছুটা শ্যাওলা জমে আছে। শুনতে কি পাও- ছবি দেখার পর আপনার আমার মগজের সেই শ্যাওলা কাটিয়ে তুলবে বলে আশা করি। চাই এই ছবি দেখুক কোষ্ঠ-কাঠিন্যে ভরা বুদ্ধিজীবী, দেখে কিছু বলতে না পেরে মুখ লুকিয়ে প্রদর্শণী থেকে বেরিয়ে যাক। আর আমাদের পথে প্রান্তরের কোটি জনতা ছবির মানুষ হয়ে ওঠুক, দেখুক তাদের জীবন আমাদের চলচ্চিত্রে। কারণ, মনে করি যতদিন সাধারণ মানুষ চলচ্চিত্রের চরিত্র হয়ে উঠতে না পারে ততদিন আমাদের সিনেমা বদলাবে না। জয় হোক সিনেমার, জয় হোক সাধারণ মানুষের। 




শুনতে কি পাও: আমার সিনেমা দর্শন

at সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৩  |  2 comments

পৃথিবীর ইতিহাসে এত বেশী মিশ্র ভাবনা-সংস্কৃতি আর চারিত্রের সংমিশ্রণ নিয়ে আমরা বেড়ে ওঠছি যে, ব্যাতিক্রম বাদে সবাই আমরা নানা ক্ষেত্রে সংকীর্ণতার চরম পরিচয় দিয়ে থাকি। আমাদের নানা সংকীর্ণতার মধ্যে আমাদের সামনে মানুষের যে সংকীর্ণ পরিচয়টা সবচে বেশী ব্যাথিত করে তা হলো মানুষ সত্যটা বলে না। কেবল যে নিজের স্বার্থের জন্য তা নয়, কিছুটা ঈর্ষাকাতর, কিছুটা অযোগ্যতা, কিছুটা লোভ, কিছুটা ব্যার্থতা থেকেও মানুষ এই কাজ করে। আর তার প্রভাব পরে সংস্কৃতিতে। এর সবচে বড় উদাহরণ জীবনানন্দ দাশের সাথে রজনীকান্ত দাশ-দের আচরণ। এখানে অবশ্য একটি বিষয় একটু বেশীই কাজ করে, তা হলো অযোগ্যতা। বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে, আমি অধম তুমি উত্তম হইবে কেন? এমন বিষয় নিয়ে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় কথা হচ্ছিলো একজনের সাথে। তিনি বলছিলেন, সমসাময়িকদের থেকে ইচ্ছাকৃত দূরে থাকি। কারণ তারা কখনোই সৎ নয়, সত্য কে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে তারা আগ্রহী নয়। এই মুখোশে ভর্তি সময়ে তাই সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে যেমন বলাল মানুষের অভাব তেমন, ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলাও অনেক কঠিন। তবে আমি আজ একটি ভালোর কথাই বলবো। আর তা হলো কামার আহমেদ সাইমন ও সারা আফরীন নির্মিত ছবি শুনতে কি পাও এর কথা।
বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়, তবে যে কথাটা সবার শেষে অথবা সবার শুরুতে বলতে পারি তা হলো ছবিটা অনবদ্য। শুরুতেই একটু ছবির চারপাশ ঘুরে আসি। আমরা বই পড়ি, গান শুনি, ছবি দেখি, চিত্রকলা দেখি কি জন্যে? প্রত্যেকটা মহৎ শিল্পই তো আমাদের নতুন একটি জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় বা ঐ জগতে ভ্রমণ করিয়ে নিয়ে আসে। একটা চমৎকার বই পড়ার পর, বইয়ে লেখা চরিত্রগুলো যেমন আমাদের চারপাশে বিরাজ করে, তেমন একটা ভালো ছবির চরিত্রগুলোও কি তেমন করে না? আমার তেমনই হয়। আমি বুদ হয়ে থাকি মুগ্ধতা মাখা সেইসব বই পড়ে অথবা ছবি দেখে। আর বাংলাদেশের সিনেমা দেখতে গিয়ে নানা কারণে প্রত্যাশা শূন্য রেখে দেখতে হয়। তবে কিছুটা প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে। নয়তো এই প্রাপ্তি অপ্রাপ্তিতে রূপান্তর হয় বড় করুণ আকারে। এইসব প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির মাঝে হঠাৎ করে জ্বলে ওঠে সূর্য। ঝলসে যেতে চায় চোখ। তবে রেহাই মিলে, কারণ চোখগুলো এতদিনে আর টলমলে নেই।
কামার আহমেদ সাইমন ও সারা আফরীন তাঁদের ছবি শুনতে কি পাও এর জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। পৃথিবীর সবচে পুরনো চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনি হয়েছে এই ছবি দিয়ে (খবর ), প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের অন্যতম প্রামান্য উৎসবসিনেমা দ্যু রিলেমূল আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতায়শ্রেষ্ঠ ছবি পুরষ্কার গ্রা প্রী পেয়েছে এই ছবি। এমন সংবাদ আমরা প্রতিবারই জেনেছি সংবাদ মাধ্যমে।  এমন সংবাদ পেলে কি ছবি দেখার আগ্রহ বাড়ে না? তো আমার বা আমাদেরো এমন আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু ছবি দেখার সৌভাগ্য হচ্ছে না। কারণ, ছবিটির শো হচ্ছে না কোথাও। এর মাঝে একদিন খবরের কাগজে দেখলাম ছবির প্রিমিয়ার হয়ে গেছে পাবলিক লাইব্রেরিতে। প্রিমিয়ার হওয়ার আগে খবর পাই নি, খবর পাইলাম প্রিমিয়ারের পর। তাই আরো কিছুটা রাগ হলো। কদিন পর দেখলাম ছবিটার একটি শো হচ্ছে ঢাবির টিএসসিসে ডিইউএফএস এর আয়োজনে। খবরটা এমন সময় হাতে পাইলাম যে ততক্ষণে অফিস শিডিউল বদলানোর সুযোগ নেই। আবারো ক্ষেদ জমলো মনে। আর এই ক্ষেদ মিটানোর সুযোগ হলো সম্প্রতি নির্মাতার নিজস্ব আয়োজনে ছবি দেখার সুযোগ পেয়ে। সত্যি বলছি, ছবি দেখার পর ছবির নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট সকল মানুষের প্রতি আর কোনও অভিযোগ নেই। সংবাদ মাধ্যমে এই ছবি সম্পর্কে জেনেছিলাম এটি একটি প্রামাণ্যচিত্র। কিন্তু ছবি দেখার পর এই শব্দটির ব্যবহারকে আমার মনে হয়েছে ছবিটির অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এই ছবিটিকে আমরা প্রামাণ্যচিত্র না বলে যদি শুধু একটি সিনেমা বলি তবে তা পূর্ণতা পাবে। এমন কথাই পরিচালক ছবি শুরু হওয়ার আগে বলেছিলেন আমাদের। বলেছিলেন, ছবি দেখার সময় আপনারা ছবিটি প্রামাণ্যচিত্র না ফিচার ফিল্ম তা মাথায় না রেখে দেখবেন, দেখার পর যা মনে হয় বলবেন। হ্যা, তাই করেছিলাম। আর এখন বলতে হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্রের যে তথাকথিত ফর্ম আমরা আগে দেখেছি, তা এখানে নেই। আবার ফিকশনেও যা দেখি তাও এখানে নেই। এখানে তবে কি আছে? এখানে আছে জীবন ও বাস্তবতা। আছে সংগ্রাম, প্রেম, দ্বন্দ্ব, রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বপ্ন, স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প। এবার বলুন, এত কিছু যদি কোনও কিছুতে থাকে তবে তাকে কি আপনি প্রামাণ্যচিত্র বলবেন? এইসব তো পরিকল্পিত চিত্রনাট্যের সাজানো ছবিতে থাকে। হ্যা, এই ছবির চিত্রনাট্যও সাজানো। তবে তা বাস্তবকে দেখে, সেখান থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন সাইমন। আর এইসব খুঁজে খুঁজে বের করে তাঁর ছবির মালা গেথেছেন। এই কারণে ছবি দেখার সময় ভুলেই গিয়েছিলাম প্রামাণ্যচিত্র না ফিকশন দেখছি।
ছবির গল্পের মূল চরিত্র ৩ জন সংগ্রামী। তারা হলেন ২০০৯ সালের ২৫ মে বাংলাদেশে আঘাত হানা আইলায় আক্রান্ত একটি পরিবার। পরিবারটির প্রধান পুরুষ চরিত্র সৌমেন, প্রধান নারী চরিত্র রাখী ও তাদের চার বছর বয়স্ক একমাত্র সন্তান রাহুল। বাড়িঘর হারিয়ে আরো হাজার হাজার নারী পুরুষের সাথে যখন তারা পথে আশ্রয় নেয়। ছবির সমগ্রতা জুড়ে আছে এই তিনজন। এই তিনজনের জীবন ও তাদের চারপাশের মাধ্যমে উঠে এসেছে আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান,রাষ্ট্র ও তার অগোছালো জীবনের ছবি।নব্বই মিনিটের এই ছবি পর্দায় শেষ হলেও কিন্তু শেষ হয় না তাদের প্রতিদিনকার সংগ্রামের গল্প। কারণ, মানুষের সংগ্রাম যে শেষ হয় না কখনো,সে কথাও বলা আছে এই ছবিতে। 
শুরুতে যে কথা বলতে চেয়েছিলাম। তা হলো আমাদের সংকীর্ণতার সুযোগে জীবনানন্দ তার কবিতার খাতা ট্রাঙ্কে ভরে রাখে। আমরা এমন সংকীর্ণতাকে নিয়েই বেড়ে ওঠি, তাই আমাদের চারপাশে জীবনানন্দ-রা বারবার আসে না। তেমনি আমাদের দেশের সিনেমার রঙিন মানুষদের জগৎটা আরো লোভের, আরো রূঢ়। তাদের মুখ থেকে অন্যের ভালোটা বের হয় না। যতটা না বলে আম পাবলিক। আমাদের এইসব আশা-হতাশা নিয়েই যেহেতু বাঁচতে হবে, দেখতে হবে কিভাবে একটা শিল্পের ফুল গোবরে পদ্ম হয়ে ফুটে। তাই আমরাও প্রস্তুত হয়েই থাকি। সৌমেন, রাখি আর রাহুলরা যেমন প্রতিদিন সংগ্রাম করে ঝড়-তুফানের সঙ্গে পাশাপাশি আমরাও মুখে কুলুপ আটা সভ্যতার চারপাশেই বেড়ে ওঠি ফুলকে ফুল আর ময়লা আবর্জনাকে নোংরা বলে জানান দিতে।

বিষাদের কাঁচপোকাদের দখলে থেকে থেকে তো আমার আপনার চিন্তায় কিছুটা শ্যাওলা জমে আছে। শুনতে কি পাও- ছবি দেখার পর আপনার আমার মগজের সেই শ্যাওলা কাটিয়ে তুলবে বলে আশা করি। চাই এই ছবি দেখুক কোষ্ঠ-কাঠিন্যে ভরা বুদ্ধিজীবী, দেখে কিছু বলতে না পেরে মুখ লুকিয়ে প্রদর্শণী থেকে বেরিয়ে যাক। আর আমাদের পথে প্রান্তরের কোটি জনতা ছবির মানুষ হয়ে ওঠুক, দেখুক তাদের জীবন আমাদের চলচ্চিত্রে। কারণ, মনে করি যতদিন সাধারণ মানুষ চলচ্চিত্রের চরিত্র হয়ে উঠতে না পারে ততদিন আমাদের সিনেমা বদলাবে না। জয় হোক সিনেমার, জয় হোক সাধারণ মানুষের। 




Read More

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৩

ঢাকা তখন আমার খুব একটা পরিচিত নাএর আগে খুব কম আসা হইছেএর মধ্যে বিশেষ কাজে আমি তখন ঢাকায়জিগাতলায় এক বড় ভাই এর বাসায় আগের দিন এসে হাজির হইছিআর এক বন্ধুরে ফোন করে তার খবর নেওয়ার সময় জানলাম সেও তখন ঢাকায়ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা খুব সম্ভবত তিন কি চারকিন্তু সবার কাছে গিয়ে থাকার মতো হৃদ্যতাও ছিলো নাঐ বড় ভাইয়ের কাছেও তুলনামূলক কম ছিলোএই সুযোগে সেটা হয়ে গেলোএকই সাথে ঐ বন্ধু যখন ঢাকায় আছে, তার সাথে দেখা করা যায় কি না সেই চিন্তা করেই তাকে ফোন দেইদিলাম ফোন, ফোনে কথা বলে জানা গেলো, সে কালকে বিকালে বলাকায় ছবি দেখবেদিল চাহতা হ্যায়আমার জানা ছিলো দেশি-বিদেশী ফিল্ম নিয়ে ঢাকায় তখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছেতো তাকে বললাম ঠিক আছে, আমিও দেখবোসেই সূত্রে ফারহান আখতারের প্রথম পরিচালনার ছবি দিল চাহতা হ্যায় বলাকায় দেখা আমার প্রথম ছবিতার পরে আকাশে অনেক মেঘ হইছে, বৃষ্টি হইছেগ্রীষ্ম, বসন্তও আসছে গেছেকর্মের সন্ধ্যানে ঢাকায় আইসা আস্তানাও গাড়া হইছে আমারকিন্তু এতদিনে নানান জায়গায় ছবি দেখা হইলেও বলাকায় আর দেখা হয় নাইতো সেই বলাকায় দেখতে গেছিলাম পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সাম্প্রতিক ছবি  ‘পোড়ামন
আমি যদি বলাকায় সিনেমা দেখার জার্নির কথা চিন্তা করি, তাইলে রীতিমত অধঃপতন হইছেকিন্তু এই ঘটনাকে আমি অধঃপতন হিসেবে না দেখে দেখবো নতুন শুরু হিসেবেসেই দিক থেকে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্রভালো মন্দ দুই আছেতা কেন সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলি পরিচালক জাকির হোসেন রাজু সম্পর্কেপরিচালক জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশের আশি ও নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মীতাঁর সমসাময়িকেরা যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচিত হলেও তাদের মূল পেশা দাঁড়িয়েছে অন্য কিছুসেখানে তিনি তাদের থেকে একটু ব্যাতিক্রমব্যতিক্রম এই কারণে যে, তার সময়ের অন্য পরিচালকদের মতো তিনি বিকল্প পথে হাঁটেন নিতিনি হেঁটেছেন প্রথাগত পথেএবং এই পথেই রাজুর প্রচেষ্টাও অনুল্লেখ্য নয়সেই দিক থেকে তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিচিত পথের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবেও একজনপাশাপাশি তার প্রথম চলচ্চিত্র আমাদের শৈশবের  নায়ক সালমান শাহ্‌র ছবি জীবন সংসারজীবন সংসারের একটা দৃশ্য এখনো আমার মনে আছেসালমানকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার পর সে নিজের পয়সায় রোজগার করে পিতৃতুল্য বড় ভাই আর মাতৃতুল্য ভাবির জন্য মিষ্টি নিয়ে আসেবাড়ির ভেতর যায় নাবাড়ির চাকরের কাছে এই মিষ্টি দিয়ে পাঠায়চাকর তার এক ছোট ভাইয়ের প্রথম রোজগারের মিষ্টি বলে ভাই-ভাবিকে খাওয়ায়এমন আবেগময় দৃশ্য তিনি নিজে নির্মাণ করছিলেনতার এই ছবি ঐ সময় সুপারহিট হয়েছিলোএর পরবর্তিতেও তিনি বেশ চমৎকার সৃজনশীল সামাজিক গল্প নিয়ে এফডিসির ভেতর থেকেই ছবি করেছেনআর এই কারণেই তার কাছে প্রত্যাশাও অন্য সবার চেয়ে একটু বেশীইসেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বেশ কিছুদিন পর তিনি হাজির হলেন পোড়ামনছবি নিয়েআর সেই ছবি আমি আর আমার এক বন্ধু বলাকায় দেখে ফেলেছিছবি দেখার পর প্রথম যে কথা আমি বলবো, তা হলো পারলে ছবিটা দেখে ফেলুন
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসিআমাদের দেশে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনকারীরা কিভাবে কিভাবে যেনো ত্রিশ-পয়ত্রিশটা ইরানি ছবির ভিডিও টেপ আবিষ্কার করলোআর এ নিয়ে তাদের কত উল্লাশ আর মাতামাতিইরানি ছবির আদলে তারা ছবি বানানোর স্বপ্নও দেখেছিলোজাকির হোসেন রাজুর পরিচালক সত্ত্বা সৃষ্টি হওয়া সময়ের সাথে এই কথাগুলোর স্মরণ করছি এই কারণে যে, এখন একটা ছেলে ইনারিতু, কিম কি দুক, কার্লোস রেগাদাস, ক্রিস্টোফার নোলান, অনুরাগ কাশ্যপদের অহরহ আবিষ্কার করে তাদের মতো করে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখেতাই তাদের কাছে ২০১০ সালে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের তামিল নাডুতে বা কেরালায় কি ছবি নির্মাণ হবে তা তো তাদের জানাই থাকেএমনকি সেইখানে কোন ছবিটা সমালোচনায় রেটিং বেশী পায়, কোনটা ব্যবসা ভালো করে এই খবরও তাদের জন্য কিছুই নাএইটা বোধহয় অনেকে জানেই নাএই কথাগুলো বলা ঐ জাকির হোসেন রাজু প্রসঙ্গেইএই প্রসঙ্গ পরে আসুকআগে আসুক তার নির্মিত পোড়ামনকেমন করলো বলে আমার মনে হচ্ছে
পোড়ামনের শুরুটা অনেকটা জোর করে গল্পে বেশ কিছু চরিত্রের এস্টাব্লিশ করার মাধ্যমেশুরুর সিন দেখে ভাবছিলাম গল্পে অনেক বেশী জটিলতা/ প্যাচগোছ থাকবেকিন্তু নাদ্বিতীয় তৃতীয় সিন থেকেই বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটাই ফ্ল্যাশ ব্যাকএবং ঐদিনটা ছিলো ঈদের আগের দিনমনে রাইখ্যেন, ঈদের আগের দিনঐদিন ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প পিছাইলোএই প্রসঙ্গে কোনও আপত্তি নাইবিরতির পর দেখলাম ঐ গল্পের নায়ক পুলিশ হাজত থেকে পালাইছেআর ডিআইজির সফর উপলক্ষে এই খবর ধামাচাপা পড়ে গেলেও ওসি সাহেবের চাকরি বাঁচানোর চিন্তায়  আসামী ধরতে যায়ঐদিন রাতে আর বাসায় ফিরে নিতার পরের দিন কিন্তু ঈদ মনে রাইখ্যেনগিয়া দেখে, আমগো নায়কের প্রেমিকা নায়িকার বিয়া হইবোবাড়িঘর সাজানো হইতেছেবর যাত্রীও আসেযাই হোক এইখানে ছবি পুরাই হিটকারণ নায়ক মারামারি করতে জানেপিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছেএইসব দেখতে ভালোই লাগেকিন্তু পূজা আর ঈদ যদি স্ক্রিপ্ট রাইটার এক কইরা ফেলে তাইলে তো দিনে তিনটা ফিচার ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আমি লিখতে পারিযাক, আমার এমন স্ক্রিপ্ট লেখার আগ্রহ নাইএইভাবে বহু নাটকিয়তায় সিনেমা শেষ হইলোসিনেমার ক্ষণে ক্ষণে দর্শকদের হাতে তালি, শিষ বাজানো আর নিজেদের প্রত্যাশার সাথে গল্পের মিল হইলে পরে তালি শিষ দুইটাই একসাথে এইগুলো ব্যাপক এনজয়ের বিষয় ছিলো আমার জন্য
ছবি দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, পুরো ছবি বান্দরবানের মতো অসাধারণ লোকেশনে শ্যুট করাএই ছবি মার্কেটিংয়ের একটা বড় পয়েন্টই হইতে পারতো বাংলাদেশের পাহাড়ি প্রকৃতিকিন্তু দুই একটা গানে হাতে গোনা কয়েকটা দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ছাড়া ঐ প্রকৃতির ছবিই চোখে পড়লো নাঅন্তত এই বান্দরবান দেইখ্যা আমি মোটেও বান্দরবানের প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিবো নাযতটা না বন্ধুদের কাছ থেকে বলা, লেখা ও তোলা ছবি দেখে আহ্বানে সাড়া দিতে রাজি
এছাড়া এই ছবি দেখার আগে এই ছবি সম্পর্কে যা জেনে গেছি তাতে এই সিনেমার গল্পটা না বলে ঐ মায়না ছবির গল্পটাই বলি

তামিল প্রযোজক ও পরিচালক প্রভু সলোমনের সপ্তম ছবিউইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই ছবির বাজেট ছিলো ৫০ কোটি রুপিআমাদের পোড়ামনছবির বোধহয় এইখান থেকেই শুরু হইছে পেছানোতার বাজেট কোনও ভাবেই ষাট লাখের বেশী হবে নাঅন্তত তাই ধারণা করিআর এই কারণে গল্প, সংলাপ, চরিত্রের চিত্রায়ন প্রায় একই রকম করে নির্মাণ চেষ্টা করলেও মায়নার আশে পাশেও যায় নি এই ছবিতবে যারা তামিল ছবি দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না তাদের কাছে এ্ই গল্প একেবারেই নতুনআর তাদেরকেই সম্ভবত লক্ষ করে এই ছবির দর্শক চিন্তা করে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু এই ছবি নির্মাণ করছেসেই লক্ষ্যে সফলতা থাকলেও আমার প্রশ্ন, নকল ছবিই যদি বানাবেন তবে তার জন্য জাকির হোসেন রাজুর মতো পরিচালক কেন? তারপরো আমার একটা চাওয়া আছেযদি নকল ছবি দিয়াও সিনেমা হল মালিকরা হল টিকায়া রাখতে পারে তবে চলুক

‘পোড়ামন’ এ মন পোড়ে না

at মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৩  |  2 comments

ঢাকা তখন আমার খুব একটা পরিচিত নাএর আগে খুব কম আসা হইছেএর মধ্যে বিশেষ কাজে আমি তখন ঢাকায়জিগাতলায় এক বড় ভাই এর বাসায় আগের দিন এসে হাজির হইছিআর এক বন্ধুরে ফোন করে তার খবর নেওয়ার সময় জানলাম সেও তখন ঢাকায়ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা খুব সম্ভবত তিন কি চারকিন্তু সবার কাছে গিয়ে থাকার মতো হৃদ্যতাও ছিলো নাঐ বড় ভাইয়ের কাছেও তুলনামূলক কম ছিলোএই সুযোগে সেটা হয়ে গেলোএকই সাথে ঐ বন্ধু যখন ঢাকায় আছে, তার সাথে দেখা করা যায় কি না সেই চিন্তা করেই তাকে ফোন দেইদিলাম ফোন, ফোনে কথা বলে জানা গেলো, সে কালকে বিকালে বলাকায় ছবি দেখবেদিল চাহতা হ্যায়আমার জানা ছিলো দেশি-বিদেশী ফিল্ম নিয়ে ঢাকায় তখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছেতো তাকে বললাম ঠিক আছে, আমিও দেখবোসেই সূত্রে ফারহান আখতারের প্রথম পরিচালনার ছবি দিল চাহতা হ্যায় বলাকায় দেখা আমার প্রথম ছবিতার পরে আকাশে অনেক মেঘ হইছে, বৃষ্টি হইছেগ্রীষ্ম, বসন্তও আসছে গেছেকর্মের সন্ধ্যানে ঢাকায় আইসা আস্তানাও গাড়া হইছে আমারকিন্তু এতদিনে নানান জায়গায় ছবি দেখা হইলেও বলাকায় আর দেখা হয় নাইতো সেই বলাকায় দেখতে গেছিলাম পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সাম্প্রতিক ছবি  ‘পোড়ামন
আমি যদি বলাকায় সিনেমা দেখার জার্নির কথা চিন্তা করি, তাইলে রীতিমত অধঃপতন হইছেকিন্তু এই ঘটনাকে আমি অধঃপতন হিসেবে না দেখে দেখবো নতুন শুরু হিসেবেসেই দিক থেকে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্রভালো মন্দ দুই আছেতা কেন সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলি পরিচালক জাকির হোসেন রাজু সম্পর্কেপরিচালক জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশের আশি ও নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মীতাঁর সমসাময়িকেরা যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচিত হলেও তাদের মূল পেশা দাঁড়িয়েছে অন্য কিছুসেখানে তিনি তাদের থেকে একটু ব্যাতিক্রমব্যতিক্রম এই কারণে যে, তার সময়ের অন্য পরিচালকদের মতো তিনি বিকল্প পথে হাঁটেন নিতিনি হেঁটেছেন প্রথাগত পথেএবং এই পথেই রাজুর প্রচেষ্টাও অনুল্লেখ্য নয়সেই দিক থেকে তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিচিত পথের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবেও একজনপাশাপাশি তার প্রথম চলচ্চিত্র আমাদের শৈশবের  নায়ক সালমান শাহ্‌র ছবি জীবন সংসারজীবন সংসারের একটা দৃশ্য এখনো আমার মনে আছেসালমানকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার পর সে নিজের পয়সায় রোজগার করে পিতৃতুল্য বড় ভাই আর মাতৃতুল্য ভাবির জন্য মিষ্টি নিয়ে আসেবাড়ির ভেতর যায় নাবাড়ির চাকরের কাছে এই মিষ্টি দিয়ে পাঠায়চাকর তার এক ছোট ভাইয়ের প্রথম রোজগারের মিষ্টি বলে ভাই-ভাবিকে খাওয়ায়এমন আবেগময় দৃশ্য তিনি নিজে নির্মাণ করছিলেনতার এই ছবি ঐ সময় সুপারহিট হয়েছিলোএর পরবর্তিতেও তিনি বেশ চমৎকার সৃজনশীল সামাজিক গল্প নিয়ে এফডিসির ভেতর থেকেই ছবি করেছেনআর এই কারণেই তার কাছে প্রত্যাশাও অন্য সবার চেয়ে একটু বেশীইসেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বেশ কিছুদিন পর তিনি হাজির হলেন পোড়ামনছবি নিয়েআর সেই ছবি আমি আর আমার এক বন্ধু বলাকায় দেখে ফেলেছিছবি দেখার পর প্রথম যে কথা আমি বলবো, তা হলো পারলে ছবিটা দেখে ফেলুন
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসিআমাদের দেশে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনকারীরা কিভাবে কিভাবে যেনো ত্রিশ-পয়ত্রিশটা ইরানি ছবির ভিডিও টেপ আবিষ্কার করলোআর এ নিয়ে তাদের কত উল্লাশ আর মাতামাতিইরানি ছবির আদলে তারা ছবি বানানোর স্বপ্নও দেখেছিলোজাকির হোসেন রাজুর পরিচালক সত্ত্বা সৃষ্টি হওয়া সময়ের সাথে এই কথাগুলোর স্মরণ করছি এই কারণে যে, এখন একটা ছেলে ইনারিতু, কিম কি দুক, কার্লোস রেগাদাস, ক্রিস্টোফার নোলান, অনুরাগ কাশ্যপদের অহরহ আবিষ্কার করে তাদের মতো করে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখেতাই তাদের কাছে ২০১০ সালে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের তামিল নাডুতে বা কেরালায় কি ছবি নির্মাণ হবে তা তো তাদের জানাই থাকেএমনকি সেইখানে কোন ছবিটা সমালোচনায় রেটিং বেশী পায়, কোনটা ব্যবসা ভালো করে এই খবরও তাদের জন্য কিছুই নাএইটা বোধহয় অনেকে জানেই নাএই কথাগুলো বলা ঐ জাকির হোসেন রাজু প্রসঙ্গেইএই প্রসঙ্গ পরে আসুকআগে আসুক তার নির্মিত পোড়ামনকেমন করলো বলে আমার মনে হচ্ছে
পোড়ামনের শুরুটা অনেকটা জোর করে গল্পে বেশ কিছু চরিত্রের এস্টাব্লিশ করার মাধ্যমেশুরুর সিন দেখে ভাবছিলাম গল্পে অনেক বেশী জটিলতা/ প্যাচগোছ থাকবেকিন্তু নাদ্বিতীয় তৃতীয় সিন থেকেই বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটাই ফ্ল্যাশ ব্যাকএবং ঐদিনটা ছিলো ঈদের আগের দিনমনে রাইখ্যেন, ঈদের আগের দিনঐদিন ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প পিছাইলোএই প্রসঙ্গে কোনও আপত্তি নাইবিরতির পর দেখলাম ঐ গল্পের নায়ক পুলিশ হাজত থেকে পালাইছেআর ডিআইজির সফর উপলক্ষে এই খবর ধামাচাপা পড়ে গেলেও ওসি সাহেবের চাকরি বাঁচানোর চিন্তায়  আসামী ধরতে যায়ঐদিন রাতে আর বাসায় ফিরে নিতার পরের দিন কিন্তু ঈদ মনে রাইখ্যেনগিয়া দেখে, আমগো নায়কের প্রেমিকা নায়িকার বিয়া হইবোবাড়িঘর সাজানো হইতেছেবর যাত্রীও আসেযাই হোক এইখানে ছবি পুরাই হিটকারণ নায়ক মারামারি করতে জানেপিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছেএইসব দেখতে ভালোই লাগেকিন্তু পূজা আর ঈদ যদি স্ক্রিপ্ট রাইটার এক কইরা ফেলে তাইলে তো দিনে তিনটা ফিচার ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আমি লিখতে পারিযাক, আমার এমন স্ক্রিপ্ট লেখার আগ্রহ নাইএইভাবে বহু নাটকিয়তায় সিনেমা শেষ হইলোসিনেমার ক্ষণে ক্ষণে দর্শকদের হাতে তালি, শিষ বাজানো আর নিজেদের প্রত্যাশার সাথে গল্পের মিল হইলে পরে তালি শিষ দুইটাই একসাথে এইগুলো ব্যাপক এনজয়ের বিষয় ছিলো আমার জন্য
ছবি দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, পুরো ছবি বান্দরবানের মতো অসাধারণ লোকেশনে শ্যুট করাএই ছবি মার্কেটিংয়ের একটা বড় পয়েন্টই হইতে পারতো বাংলাদেশের পাহাড়ি প্রকৃতিকিন্তু দুই একটা গানে হাতে গোনা কয়েকটা দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ছাড়া ঐ প্রকৃতির ছবিই চোখে পড়লো নাঅন্তত এই বান্দরবান দেইখ্যা আমি মোটেও বান্দরবানের প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিবো নাযতটা না বন্ধুদের কাছ থেকে বলা, লেখা ও তোলা ছবি দেখে আহ্বানে সাড়া দিতে রাজি
এছাড়া এই ছবি দেখার আগে এই ছবি সম্পর্কে যা জেনে গেছি তাতে এই সিনেমার গল্পটা না বলে ঐ মায়না ছবির গল্পটাই বলি

তামিল প্রযোজক ও পরিচালক প্রভু সলোমনের সপ্তম ছবিউইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই ছবির বাজেট ছিলো ৫০ কোটি রুপিআমাদের পোড়ামনছবির বোধহয় এইখান থেকেই শুরু হইছে পেছানোতার বাজেট কোনও ভাবেই ষাট লাখের বেশী হবে নাঅন্তত তাই ধারণা করিআর এই কারণে গল্প, সংলাপ, চরিত্রের চিত্রায়ন প্রায় একই রকম করে নির্মাণ চেষ্টা করলেও মায়নার আশে পাশেও যায় নি এই ছবিতবে যারা তামিল ছবি দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না তাদের কাছে এ্ই গল্প একেবারেই নতুনআর তাদেরকেই সম্ভবত লক্ষ করে এই ছবির দর্শক চিন্তা করে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু এই ছবি নির্মাণ করছেসেই লক্ষ্যে সফলতা থাকলেও আমার প্রশ্ন, নকল ছবিই যদি বানাবেন তবে তার জন্য জাকির হোসেন রাজুর মতো পরিচালক কেন? তারপরো আমার একটা চাওয়া আছেযদি নকল ছবি দিয়াও সিনেমা হল মালিকরা হল টিকায়া রাখতে পারে তবে চলুক

Read More

এই সাইটের যে কোনও লেখা যে কেউ অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে। তবে লেখকের নাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

Blogger template Proudly Powered by Blogger. Arranged By: এতক্ষণে অরিন্দম