সিনেমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সিনেমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১৬

চারপাশের পরিবেশটা এমন যে সিনেমা দেখে রিভিউ লেখার মতো স্বস্তিদায়ক মুড আসলে নাই তারপরও নানা কারণে লিখতে বসছি শুরুতেই এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলি বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এবারের ঈদ একটা টার্নিং পয়েন্ট হইতে পারে সেই টার্নিং পয়েন্টটা আমাদের নিয়মিত নির্মাতারা অনুভব করতে পারলে সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির লাভ, নিজেদেরও লাভ এইটাই ছবির রিভিউ লিখতে বসার প্রধান কারণ আর আর কারণগুলো মূখ্য নয়, গৌন তাই সেগুলো অনুল্লেখ্যই থাকলো


শিকারি ছবি দেখতে আমার বিশেষ কোনও আগ্রহ ছিলো না আর দশটা বাংলাদেশী বাণিজ্যিক ছবির মতোই আগ্রহ তবে একটা বিষয় খুব চোখে পড়েছে, এই ছবির নায়ক সাকিব খান কে নিয়ে আমাদের অনলাইন রূচিবান স্বদেশবানদের সুনামের হুরহুরি বহুদিন আগে কোনও একজন বলছিলো, আমাদের দেশের মানুষ নিজের দেশের পণ্য বিদেশ ফেরত হইলে তা বেশি দাম দিয়া কিনতে আগ্রহ দেখায় কারণ ঐটা বিদেশী পণ্য কিন্তু নিজের দেশের পণ্যটারে নিজের ব্যবহারের উপযুক্ত মনে করে না অথচ এই দেশের আলো বাতাসেই আমরা বড় হইছি বড় হওয়ার পর প্রয়োজন মনে করি বিদেশী পণ্য সাকিবকে নিয়া অতি মাতামাতির কারণে আমার এই রকম মনে হইছে আর কি তবে মাতামাতি ভালো বিশেষ করে সব ধরণের তারকাদের নিয়েই তো মাতামাতি হবে নইলে তারা তারকা কেনো? তবে যাদেরকে কখনো সাকিবের ছবি হলে গিয়ে দেখতে শুনি নাই তারাই যখন সাকিব নিয়ে মাতামাতি শুরু করলেন তখন কিছুটা প্রশ্ন জাগতেই পারে সেই কারণে শিকারি দেখার আগ্রহ তৈরি হয় এর আগে অবশ্য একটা কথা না বললেই নয় তা হইলো আমি নিয়মিত হলে গিয়া বাংলা সিনেমা দেখি এই কথা শুইন্যা অনেকের চক্ষু কপালেও উঠে আমার অবশ্য মুচকি মুচকি হাসি পায় কারণ, ঐ কপালে ওঠা চোখ দেখতে আমার ভাল্লাগে একই সাথে ছবির কয়েকটা গান দেখে মনে হইছে সাকিবের নতুন লুক, সব্যসাচী চক্রবর্তিও অভিনয় করতেছে ছবিটা দেখাই উচিত তাই ঈদের দিন অর্ধেক ঘুম বাতিল করে জয়কে ডেকে আনলাম ছবি দেখার জন্য সে আসতে আসতে ১০ মিনিট ছবি চলে গেছে
হলে ঢুকে দেখি কোনও এক ধর্মগুরু পূজার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর তার সাথে তার সমর্থক ভক্তঅনুরাগিরা উৎসব করছে এমন পরিস্থিতিতে প্রফেশনাল কিলার হিরো সাকিব এবং কার্য সমাধা করার পরই মূল গল্পে ঢুকে গেলো সিনেমা ভালোই খারাপ না ফর্মুলা ছবি হিসেবে টানটান গল্প রাখার চেষ্টা একটা ঘটনা শেষ হতে না হতেই আর একটা ঘটনা যদিও সবগুলো ঘটনাই ঘটতে যাবে অনুমিত সেইসব অনুমিত ঘটনাগুলোই দেখা যাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো নির্মাণে অপেক্ষাকৃত ভালো অর্থে বলছি এই কারণে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশী বা ভারতীয় বাংলা সিনেমার যেই নির্মাণ মান তার সাথে এর একটু পার্থক্য আছে পার্থক্যটা কেমন? এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কিছুদিন আগেও আমরা দেখে এসেছি সিনেমা চারটা গানের তিনটাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দৃশ্যায়ন যার কোরিগ্রাফার হয়ত কোনও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঐ গানগুলোকে বারবার দেখিয়ে দেখিয়ে লোকজনকে হলে নেয়া হতো, আর ছবির নির্মাণহতো বাংলাদেশী গড়পড়তা টিভি নাটকের চেয়ে একটু ভালো তো ঐ রকম একটা আশঙ্কা নিয়েই ছবি দেখতে বসেছিলাম কিন্তু সেই আশঙ্কা পুরোপুরি মিলে নি তাই কিছুটা সন্দেহও ছিলো পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা এই রকম বাণিজ্যিক ছবি কি আসলেই বানাতে শুরু করে দিলেন? হ্যা, এই প্রশ্নটাই বাংলাদেশের সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের একটা প্রশ্ন কারণ ফেসবুক মারফতই না, বাস্তবেও দেখলাম সিনেমা হল ভর্তি লোকজন বিকাল সাড়ে পাঁচটার টিকিট তাই অগ্রীম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দুপুর ১টায় যা বিগত কয়েক বছরে কল্পনাতীত সেই কল্পনা যদি বাস্তব হয় তবে প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলা সিনেমা কি তবে সুদিন ফিরে পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো ধীরে বৎস, ধীরে এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে বাংলা সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের প্রশ্নের উত্তরটাও চলে আসে কারণ, পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা যদি এই মানের ছবিও নিয়মিত বানায় আর তা অনায়াসে আমাদের সিনেমাহলের দর্শকরা লুফে নেবে কারণ আমাদের বাংলাদেশের নির্মাতারা এতটুকুও বানাতে পারছেন না এমনকি অনেক নামি দামি নির্মাতাদের ছবিও তাই বলে ফলে কলকাতার নির্মাতারা হলে জায়গা পাকা করে নিলে এফডিসিতে এখনো যেমন কিছু সিনেমার কাজ চলে, তখন আর কিছুই চলবে না তখন বরংচ সেইসব নির্মাতাদের দক্ষিণী কুশলীদের ভাড়া করা ছাড়া উপায় থাকবে না তাই নিজেদের মান উন্নয়ন খুব জরুরী ঘরের দর্শকদের জন্য, নিজেদের জন্য, নিজেদের সিনেমার জন্য তো বটেই  
এতক্ষণ ধান বানতে গিয়ে শীবের গীত শোনালাম কি আর করা, কখনো কখনো বৃষ্টির চেয়ে ছাতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে কি না! তোশিকারি একদম গতানুগতিক একটা ফর্মুলা ছবি যার গানগুলোতে আমাদের দেশী নায়ক সাকিবকে নতুন লুকে দেখা গেছে যা বড় পর্দায় দেখে আপনার ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে পুরো ছবির সবচে আরামদায়ক ভিজ্যুয়াল বলতে ঐ গানগুলোই তবে হ্যা, আনুপাতিক হারে ছবির যে নির্মাণ তা মন্দের ভালো অন্তত এই কোয়ালিটিই আপাতত পাতে জুটছে যে এই বেশি এই প্রসঙ্গে জেনে নেয়া যাক ছবির নির্মাতার নাম বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবির প্রসঙ্গ আসলেও বাংলাদেশী যেই পরিচালকের নাম আমরা জানলাম সেই পরিচালকের নাম জাকির হোসেন সীমান্ত আর ভারতের অংশের পরিচালক ছিলেন জয়দ্বীপ মুখার্জি আইএমডিবি সূত্র বলে জয়দ্বীপ আগে টিভি নির্মাতা ছিলেন বেশ কয়েকটি টিভি সিরিয়াল তিনি বানাইছেন তার মাঝে ব্যোমকেশ উল্লেখযোগ্য একটি তবে দুই দেশের ছবি হইলেও বাংলাদেশের কোনও অংশই ছবির ছিলো না এইটা নামকাওয়াস্তে কেবল

ছবির গল্প নিয়ে অভিযোগ করতে চাই না কারণ, গল্প নিয়ে প্রত্যাশাই ছিলো না সেই তুলনায় অনেক ভালো গল্প ও চিত্রনাট্য তবে গল্প চিত্রনাট্যের চেয়ে বেশ কিছু মজার ছিলো ছবির সংলাপ এবার আসুন জানি, ছবির গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার কে বা কারা ছবির চিত্রনাট্য বিষয়ক তথ্য খুঁজতে গিয়ে দুই প্রকার তথ্য পাওয়া গেলো উইকিপিডিয়া বলছে পেলে ভট্টাচার্যই ও আব্দুল্লাহ জহির বাবু ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছে আবার আইএমডিবি বলছে জয়দ্বীপ মুখার্জি ও পেলে ভট্টাচার্য দুজন মিলে লিখেছে আসল সত্য কোনটা তারাই জানে
ছবিতে সব্যসাচী চক্রবর্তীর অভিনয় দেখার লোভ ছিলো তাতে টান পড়েছে উল্টো দুই জনের অভিনয়ে বিনোদিত হয়েছি তার একজন হিন্দী ছবির ভিলেন রাহুল দেব আর একজন কলকাতার অভিনয়শিল্পী খরাজ মুখোপাধ্যায় তবে এইসব ভালো মন্দের চেয়ে সবচে বেশী যা ভালো লেগেছে তা হলো ছবি দেখার জন্য মানুষের হলে ভীড় করা দেখে কারণ ভালো মন্দ তো পরে, আগে তো ছবিটা দেখতে হবে নইলে ছবি হবে না ভবিষ্যতে

শেষ পর্যন্ত যেই কথা বলতে চাই তা হলো এই ছবি লোকজন মজা করে দেখবে ভুলে যাবে মনপুড়া ছবি দেখে আমরা যেমন বেশ কয়েকদিন আলোচনা করেছি কেউ কেউ একাধিকবারও দেখেছি, এই ছবি তেমন নয় কিন্তু চকচকে ঝকঝকে বলে লোকজনের আগ্রহটাও চকচকেই আর এমন আগ্রহ তৈরি করতে না পারলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবি আর বানাইতে হবে না কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসা অনেক ভালো তার চেয়ে

কি শিকার করলো শিকারি?

at বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৭, ২০১৬  |  2 comments

চারপাশের পরিবেশটা এমন যে সিনেমা দেখে রিভিউ লেখার মতো স্বস্তিদায়ক মুড আসলে নাই তারপরও নানা কারণে লিখতে বসছি শুরুতেই এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলি বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এবারের ঈদ একটা টার্নিং পয়েন্ট হইতে পারে সেই টার্নিং পয়েন্টটা আমাদের নিয়মিত নির্মাতারা অনুভব করতে পারলে সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির লাভ, নিজেদেরও লাভ এইটাই ছবির রিভিউ লিখতে বসার প্রধান কারণ আর আর কারণগুলো মূখ্য নয়, গৌন তাই সেগুলো অনুল্লেখ্যই থাকলো


শিকারি ছবি দেখতে আমার বিশেষ কোনও আগ্রহ ছিলো না আর দশটা বাংলাদেশী বাণিজ্যিক ছবির মতোই আগ্রহ তবে একটা বিষয় খুব চোখে পড়েছে, এই ছবির নায়ক সাকিব খান কে নিয়ে আমাদের অনলাইন রূচিবান স্বদেশবানদের সুনামের হুরহুরি বহুদিন আগে কোনও একজন বলছিলো, আমাদের দেশের মানুষ নিজের দেশের পণ্য বিদেশ ফেরত হইলে তা বেশি দাম দিয়া কিনতে আগ্রহ দেখায় কারণ ঐটা বিদেশী পণ্য কিন্তু নিজের দেশের পণ্যটারে নিজের ব্যবহারের উপযুক্ত মনে করে না অথচ এই দেশের আলো বাতাসেই আমরা বড় হইছি বড় হওয়ার পর প্রয়োজন মনে করি বিদেশী পণ্য সাকিবকে নিয়া অতি মাতামাতির কারণে আমার এই রকম মনে হইছে আর কি তবে মাতামাতি ভালো বিশেষ করে সব ধরণের তারকাদের নিয়েই তো মাতামাতি হবে নইলে তারা তারকা কেনো? তবে যাদেরকে কখনো সাকিবের ছবি হলে গিয়ে দেখতে শুনি নাই তারাই যখন সাকিব নিয়ে মাতামাতি শুরু করলেন তখন কিছুটা প্রশ্ন জাগতেই পারে সেই কারণে শিকারি দেখার আগ্রহ তৈরি হয় এর আগে অবশ্য একটা কথা না বললেই নয় তা হইলো আমি নিয়মিত হলে গিয়া বাংলা সিনেমা দেখি এই কথা শুইন্যা অনেকের চক্ষু কপালেও উঠে আমার অবশ্য মুচকি মুচকি হাসি পায় কারণ, ঐ কপালে ওঠা চোখ দেখতে আমার ভাল্লাগে একই সাথে ছবির কয়েকটা গান দেখে মনে হইছে সাকিবের নতুন লুক, সব্যসাচী চক্রবর্তিও অভিনয় করতেছে ছবিটা দেখাই উচিত তাই ঈদের দিন অর্ধেক ঘুম বাতিল করে জয়কে ডেকে আনলাম ছবি দেখার জন্য সে আসতে আসতে ১০ মিনিট ছবি চলে গেছে
হলে ঢুকে দেখি কোনও এক ধর্মগুরু পূজার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর তার সাথে তার সমর্থক ভক্তঅনুরাগিরা উৎসব করছে এমন পরিস্থিতিতে প্রফেশনাল কিলার হিরো সাকিব এবং কার্য সমাধা করার পরই মূল গল্পে ঢুকে গেলো সিনেমা ভালোই খারাপ না ফর্মুলা ছবি হিসেবে টানটান গল্প রাখার চেষ্টা একটা ঘটনা শেষ হতে না হতেই আর একটা ঘটনা যদিও সবগুলো ঘটনাই ঘটতে যাবে অনুমিত সেইসব অনুমিত ঘটনাগুলোই দেখা যাচ্ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো নির্মাণে অপেক্ষাকৃত ভালো অর্থে বলছি এই কারণে যে, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশী বা ভারতীয় বাংলা সিনেমার যেই নির্মাণ মান তার সাথে এর একটু পার্থক্য আছে পার্থক্যটা কেমন? এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কিছুদিন আগেও আমরা দেখে এসেছি সিনেমা চারটা গানের তিনটাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দৃশ্যায়ন যার কোরিগ্রাফার হয়ত কোনও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঐ গানগুলোকে বারবার দেখিয়ে দেখিয়ে লোকজনকে হলে নেয়া হতো, আর ছবির নির্মাণহতো বাংলাদেশী গড়পড়তা টিভি নাটকের চেয়ে একটু ভালো তো ঐ রকম একটা আশঙ্কা নিয়েই ছবি দেখতে বসেছিলাম কিন্তু সেই আশঙ্কা পুরোপুরি মিলে নি তাই কিছুটা সন্দেহও ছিলো পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা এই রকম বাণিজ্যিক ছবি কি আসলেই বানাতে শুরু করে দিলেন? হ্যা, এই প্রশ্নটাই বাংলাদেশের সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের একটা প্রশ্ন কারণ ফেসবুক মারফতই না, বাস্তবেও দেখলাম সিনেমা হল ভর্তি লোকজন বিকাল সাড়ে পাঁচটার টিকিট তাই অগ্রীম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দুপুর ১টায় যা বিগত কয়েক বছরে কল্পনাতীত সেই কল্পনা যদি বাস্তব হয় তবে প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলা সিনেমা কি তবে সুদিন ফিরে পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো ধীরে বৎস, ধীরে এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে বাংলা সিনেমার টার্নিং পয়েন্টের প্রশ্নের উত্তরটাও চলে আসে কারণ, পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতারা যদি এই মানের ছবিও নিয়মিত বানায় আর তা অনায়াসে আমাদের সিনেমাহলের দর্শকরা লুফে নেবে কারণ আমাদের বাংলাদেশের নির্মাতারা এতটুকুও বানাতে পারছেন না এমনকি অনেক নামি দামি নির্মাতাদের ছবিও তাই বলে ফলে কলকাতার নির্মাতারা হলে জায়গা পাকা করে নিলে এফডিসিতে এখনো যেমন কিছু সিনেমার কাজ চলে, তখন আর কিছুই চলবে না তখন বরংচ সেইসব নির্মাতাদের দক্ষিণী কুশলীদের ভাড়া করা ছাড়া উপায় থাকবে না তাই নিজেদের মান উন্নয়ন খুব জরুরী ঘরের দর্শকদের জন্য, নিজেদের জন্য, নিজেদের সিনেমার জন্য তো বটেই  
এতক্ষণ ধান বানতে গিয়ে শীবের গীত শোনালাম কি আর করা, কখনো কখনো বৃষ্টির চেয়ে ছাতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে কি না! তোশিকারি একদম গতানুগতিক একটা ফর্মুলা ছবি যার গানগুলোতে আমাদের দেশী নায়ক সাকিবকে নতুন লুকে দেখা গেছে যা বড় পর্দায় দেখে আপনার ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে পুরো ছবির সবচে আরামদায়ক ভিজ্যুয়াল বলতে ঐ গানগুলোই তবে হ্যা, আনুপাতিক হারে ছবির যে নির্মাণ তা মন্দের ভালো অন্তত এই কোয়ালিটিই আপাতত পাতে জুটছে যে এই বেশি এই প্রসঙ্গে জেনে নেয়া যাক ছবির নির্মাতার নাম বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবির প্রসঙ্গ আসলেও বাংলাদেশী যেই পরিচালকের নাম আমরা জানলাম সেই পরিচালকের নাম জাকির হোসেন সীমান্ত আর ভারতের অংশের পরিচালক ছিলেন জয়দ্বীপ মুখার্জি আইএমডিবি সূত্র বলে জয়দ্বীপ আগে টিভি নির্মাতা ছিলেন বেশ কয়েকটি টিভি সিরিয়াল তিনি বানাইছেন তার মাঝে ব্যোমকেশ উল্লেখযোগ্য একটি তবে দুই দেশের ছবি হইলেও বাংলাদেশের কোনও অংশই ছবির ছিলো না এইটা নামকাওয়াস্তে কেবল

ছবির গল্প নিয়ে অভিযোগ করতে চাই না কারণ, গল্প নিয়ে প্রত্যাশাই ছিলো না সেই তুলনায় অনেক ভালো গল্প ও চিত্রনাট্য তবে গল্প চিত্রনাট্যের চেয়ে বেশ কিছু মজার ছিলো ছবির সংলাপ এবার আসুন জানি, ছবির গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার কে বা কারা ছবির চিত্রনাট্য বিষয়ক তথ্য খুঁজতে গিয়ে দুই প্রকার তথ্য পাওয়া গেলো উইকিপিডিয়া বলছে পেলে ভট্টাচার্যই ও আব্দুল্লাহ জহির বাবু ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছে আবার আইএমডিবি বলছে জয়দ্বীপ মুখার্জি ও পেলে ভট্টাচার্য দুজন মিলে লিখেছে আসল সত্য কোনটা তারাই জানে
ছবিতে সব্যসাচী চক্রবর্তীর অভিনয় দেখার লোভ ছিলো তাতে টান পড়েছে উল্টো দুই জনের অভিনয়ে বিনোদিত হয়েছি তার একজন হিন্দী ছবির ভিলেন রাহুল দেব আর একজন কলকাতার অভিনয়শিল্পী খরাজ মুখোপাধ্যায় তবে এইসব ভালো মন্দের চেয়ে সবচে বেশী যা ভালো লেগেছে তা হলো ছবি দেখার জন্য মানুষের হলে ভীড় করা দেখে কারণ ভালো মন্দ তো পরে, আগে তো ছবিটা দেখতে হবে নইলে ছবি হবে না ভবিষ্যতে

শেষ পর্যন্ত যেই কথা বলতে চাই তা হলো এই ছবি লোকজন মজা করে দেখবে ভুলে যাবে মনপুড়া ছবি দেখে আমরা যেমন বেশ কয়েকদিন আলোচনা করেছি কেউ কেউ একাধিকবারও দেখেছি, এই ছবি তেমন নয় কিন্তু চকচকে ঝকঝকে বলে লোকজনের আগ্রহটাও চকচকেই আর এমন আগ্রহ তৈরি করতে না পারলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবি আর বানাইতে হবে না কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসা অনেক ভালো তার চেয়ে

Read More

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫


 
গত কয়েকদিন আগে কাজের ফাঁকে হঠাৎ ফ্রান্সের একটি দৈনিক পত্রিকায় একটি সৌদি নারী চলচ্চিত্রকারের একটি সাক্ষাৎকার চোখে পড়লইন্টারভিউটি পড়ার পর জানা গেলো, তিনিই সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা। এবং তার ছবি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক ও দুবাই চলচ্চিত্র উৎসবেও একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ইসলামী রক্ষণশীল আইনে জীবন পরিচালিত একটি দেশে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা মানে সত্যিই একটি বিরাট বিপ্লব। এই বিপ্লবে অনুপ্রেরণা দিতেই অনেকাংশে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত বা উন্নত হলেও সাংস্কৃতিক ভাবে বিশ্বে কোনও প্রভাব ফেলতে না পারা জাতি বা দেশগুলোর চলচ্চিত্র অনেক বড় বড় উৎসব কমিটি একটি বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে থাকে। এটাকে একদিক থেকে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি বা অন্যদিক থেকে সংস্কৃতির উদার নৈতিকতার প্রমাণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরস্কৃত বা আলোচিত চলচ্চিত্রগুলো সেইভাবেই আলোচনায় আসে, যেগুলো ইউরোপিয় দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে ‘প্রেজেন্টেড প্রডাক্ট’টির ভাবনা বা রূপ মিলে থাকে। আর এই কথার প্রমাণ আমরা একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখতে পাই। আমার চারপাশে এর বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে। তার ভেতরে আমি সবার আগে রাখবো ২০১০ এর অস্কার পুরস্কারকে। সে বছর ভারতীয় প্রেক্ষাপটের একটি গল্প নিয়ে হলিউড ভিত্তিক নির্মাতা ড্যানি বয়েল বানিয়েছিলো স্লামডগ মিলিয়নিয়ার ছবিটি। ছবির নামটি যদি আপনি বাংলা করেন, তাহলে দেখবেন সেখানে বস্তির একটি শিশুকে কুকুর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তারা আদতে মানুষই নয়। আর এর মিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্প যদি উৎকৃষ্ট রূপে ইউরোপিয়দের সামনে প্রেজেন্টেশন করা যায়, তবে তা যে লুফে নিবেই তার প্রমাণ তো আপনার হাতের কাছেই। তেমনি বাংলাদেশের দিকে তাকালেও আমরা ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ছবি বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে সেগুলো যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ঠ যুক্তিযুক্ত, তবুও সেগুলোতে বাংলাদেশকে ইউরোপিয়রা যেমন দেখতে চায় তেমনই দেখানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমি সব সময়ই প্রত্যাশা করবো এমন কোনও গল্পের ছবি ইউরোপিয়দের কাছ থেকে সেরার স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনুক, যে ছবিটি কিনা আমরা যেভাবে বাংলাদেশকে দেখতে পছন্দ করি সেভাবেই বা তেমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে।
এতক্ষণ যে কাসুন্দি ঘাটলাম এর একটা বড় কারণ হলো আমাদেরো এক ধরণের ইউরোপিয় নাক সিটকানো ভাবটা রয়েছে। আমরাও অনেক সময় তাদের (ইউরোপিয়) চোখে দেখতে চাই বা দেখে থাকি। আর তাই আমরা প্রায়ই আমাদের কর্মকে সবার আগে তুলনা করি তাদেরই সাথে। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় অনেক বিভ্রান্তির তৈরি হয়। এতে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ক্ষতি হয়। যা কখনোই কাম্য নয়।  এই কথাগুলো বলার প্রধান কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’ নিয়ে গল্প নকলের অভিযোগের প্রেক্ষাপটকে নিয়ে। আমি মূলত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র টেলিভিশন আর তুর্কী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইলমাজ ইর্দোগান এর ভিজনটেলে ’র তূলনামূলক আলোচনার পথ তৈরি করতে চাই। তাই শুরুতেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা নিয়ে অযথা কথাগুলো বলে নিলাম।
‘টেলিভিশন’ ছবির পোস্টার
বাংলা টেলিভিশন সিনেমার গল্প বর্তমান সমসাময়িক কালের এক জন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। যে দ্বীপের মানুষ ঠিক আধুনিক কালের হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোয়া পায় না।  আর ভিজনটেলে’র গল্পের প্রেক্ষাপট ৭০ এর দশকের তুরস্কের এক অতিদূর্গম অঞ্চলের। কিন্তু তা নির্মাণ হয়েছে ২০০১ সালে। বাংলাদেশে নতুন কোনও কিছু হলেই তার জেনে না জেনে দুইটা পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে যায়। আর বিপক্ষ দল সব সময়ই বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে মাঝখানে থাকা মানুষদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে। অপরদিকে পক্ষ দল নিজেদের ঢোল এত জোড়ে বাজাতে যায়, যে তা হয় ফেটে যায় নয়তো ফাটার উপক্রম হয়। এই অবস্থায় মাঝখানে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে থাকতে হলেও প্রয়োজন পড়ে কিছুটা আস্থা ও যুক্তির। যেখান থেকে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়, তেমন স্থান ছাড়া আর এর বিকল্প থাকে না।
টেলিভিশন ছবি মুক্তির পরপরই যে অভিযোগটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়, তা হলো এটি তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো। কিন্তু আদতে তা তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো হয় নি। টেলিভিশন ছবির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক। বলতে গেলে পরিচালকের বাবার ও তার নিজের জীবনের সাথে কিছুটা আত্ম জৈবনিকও । অপরদিকে তুর্কী ছবির গল্প তেমন আত্ম জৈবনিক কি না তা জানা যায় নি। তবে দুইটা ছবিতেই কম বেশী হাস্যরস, ট্রাজেডি, প্রেম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্লাইমেক্স সবই রয়েছে। তবে প্রত্যেকটাই নিজস্ব ঢংয়ে। এক্ষেত্রে ভিজনটেলেসাথে টেলিভিশনএর ফর্মুলাগত মিল পাওয়া যায়। যদিও পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক ছবিই প্রায় কাছাকাছি ফর্মূলা মেইনটেইন করে।
তুরস্ক অর্ধেক এশিয় আর অর্ধেক ইউরোপিয়। তবে তার সংস্কৃতি ও জীবন ধারার সাথে ইউরোপের জীবনের মিল রয়েছে বেশী। অর্থনৈতিকভাবে এশিয় সাধারণ দেশগুলোর চেয়ে একটু এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় তারা কর্মে ও জাতেও বেশীরভাগ ইউরোপিয়ই। তার প্রমাণ তাদের সিনেমাতেও পাওয়া যায়। এই ভিজনটেলের নির্মাণশৈলি ও গল্প বলার ধরণ (স্টোরি টেলিং) কিন্তু বেশ আরামদায়ক। টেলিভিশন  ছবিতে গল্প বলাটা পুরোপুরি আরামদায়ক না হলেও পিড়াদায়ক নয়। তুর্কী ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু পুরস্কার পেলেও খুব উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও পুরস্কার তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু পুরো ছবিটা চমৎকার উপভোগ্য বলেই কিনা, ছবিটি যথেষ্ঠ ব্যবসাসফল হয়েছিলো দেশে ও দেশের বাইরেও। এর অনুপ্রেরণায় পরিচালক এই ছবির সিক্যুয়েল করেছিলেন। 
টার্কিস ‘ভিজনটেলে’ ছবির পোস্টার
ভিজনটেলে দেখার সময় মনে হচ্ছিল ইউরোপেরই কোনো পরিচালক ইচ্ছাপূর্বক একটু পুরনো আমেজে পুরনো একটি গল্প বলছেন। আর তাই কিছু কিছু অনুভূতির ব্যবহার তিনি করেছেন দুর্দান্ত। ঠিক একই ধরণের হিসেব খাটানোর চেষ্টা আমরা দেখি টেলিভিশন  এ। এ ছবিতে কেবল প্রেমিকার অপমানের পরই পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে উঠা যুবকটি পিতার আশ্রয়েই প্রতিপক্ষ হয়ে গেলো। এটা সম্ভব মনে হলেও মেনে নিতে কষ্ট হয় এই কারণে যে, যে সন্তান পিতার অবাধ্য হয়ে যায়, পিতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে সেই সন্তানকে বর্জন করে এর ঠিক উল্টো রূপও রয়েছে। যার ফলে দেখা যায় পিতা ও সন্তানের যে ট্রাডিশনাল বৈপরীত্য অনেক সময় প্রগতিশীল পিতা মেনে নেয়। কিন্তু টেলিভিশন র পিতা কিন্তু সেই প্রগতিশীল ব্যক্তি নয়। ফলে এই বিরোধটা টিকে থাকার কথা থাকলেও উভয়েই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এখানে সরে এসেছে। যার দরুন, পিতা পুত্রের এই আঁচরণকে কিছুটা গরমিল মনে হয়েছে।
ভিজনটেলে মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির সুবিধা অনেক সময় হৃদয়ের বিপরীতে ধাবিত করতে পারে। একই সাথে যদি সেই প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করা না জানা থাকে তবে তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ভাবনাটা দারুণ ভাবে মিলে। তার প্রমাণ, স্বাধীনভাবে কথা বলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত ইন্টারনেট ও ব্লগে প্রকাশিত কথা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করা।
বিপরীতে টেলিভিশন ছবির মূল প্রতিপাদ্য আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির কাছে পরাজিত গোড়ামি বা সংস্কার ভাবনা। যা এক দিক দিয়ে প্রযুক্তির বিশাল গ্রহণযোগ্যতাকে উপস্থাপন করে, পাশাপাশি ধর্মের রক্ষণশীল জায়গা থেকে সড়ে আসার যে আহ্বান তাও যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এইসব বিষয় তুচ্ছ হয়ে যায় ছবির বিপনন পদ্ধতি বা চিন্তার কারণে। শুরুতে যে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম, যে ইউরোপিয়রা কেন তৃতীয় বিশ্বসহ শিল্প সাহিত্যের দিক থেকে তাদের চেয়ে একটু কম পারঙ্গমদের কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। সে প্রসঙ্গ চলে আসে কারণ টেলিভিশন ছবির পরিচালকের বক্তব্য। ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশের দুই একজন পরিচালক ও তাদের ছবির কথা। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছিলেন আমাদের দেশের কিছু পরিচালক পশ্চিমাদের পছন্দের ছবি বানায়। কিন্তু তাদের সেই ছবি পশ্চিমের দেশগুলোতে আর বিক্রি হচ্ছে না। যার কারণে আর পশ্চিমাদের পছন্দের কথা চিন্তা করে ছবি বানালে চলবে না।  নিঃসন্দেহে এ আশার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত রেকর্ড বলে টেলিভিশন ছবিতেও কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সেই পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করি। নয়তো টেলিভিশন শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় কারণে একটা গ্রামের মানুষদের নিষিদ্ধ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আবার সেই টেলিভিশনের কাছেই পরাজয় স্বীকার করতে হয় না।
সব কিছুর পরেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকির টেলিভিশন আর ভিজনটেলে পৃথক দুটো ছবি। পৃথক অনুভূতির গল্প বলে বিধায়ই কেবল ছবিগুলো পৃথক নয়, বরং আমি ভিটনটেলে কে এগিয়ে রাখবো  তার নির্মাণশৈলি বা তার গল্প বলার ধরণের কারণেই। সর্বোপরি দুটোই টেলিভিশন সংক্রান্ত সিনেমা।  
 (গদ্যটি লেখা হয়েছিলো ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারিতে। ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে পড়াটাই নিরাপদ হবে।)

আমাদের ও তাদের ‘টেলিভিশন’

at বুধবার, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৫  |  1 comment


 
গত কয়েকদিন আগে কাজের ফাঁকে হঠাৎ ফ্রান্সের একটি দৈনিক পত্রিকায় একটি সৌদি নারী চলচ্চিত্রকারের একটি সাক্ষাৎকার চোখে পড়লইন্টারভিউটি পড়ার পর জানা গেলো, তিনিই সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা। এবং তার ছবি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক ও দুবাই চলচ্চিত্র উৎসবেও একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ইসলামী রক্ষণশীল আইনে জীবন পরিচালিত একটি দেশে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা মানে সত্যিই একটি বিরাট বিপ্লব। এই বিপ্লবে অনুপ্রেরণা দিতেই অনেকাংশে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত বা উন্নত হলেও সাংস্কৃতিক ভাবে বিশ্বে কোনও প্রভাব ফেলতে না পারা জাতি বা দেশগুলোর চলচ্চিত্র অনেক বড় বড় উৎসব কমিটি একটি বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে থাকে। এটাকে একদিক থেকে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি বা অন্যদিক থেকে সংস্কৃতির উদার নৈতিকতার প্রমাণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পুরস্কৃত বা আলোচিত চলচ্চিত্রগুলো সেইভাবেই আলোচনায় আসে, যেগুলো ইউরোপিয় দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে ‘প্রেজেন্টেড প্রডাক্ট’টির ভাবনা বা রূপ মিলে থাকে। আর এই কথার প্রমাণ আমরা একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখতে পাই। আমার চারপাশে এর বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে। তার ভেতরে আমি সবার আগে রাখবো ২০১০ এর অস্কার পুরস্কারকে। সে বছর ভারতীয় প্রেক্ষাপটের একটি গল্প নিয়ে হলিউড ভিত্তিক নির্মাতা ড্যানি বয়েল বানিয়েছিলো স্লামডগ মিলিয়নিয়ার ছবিটি। ছবির নামটি যদি আপনি বাংলা করেন, তাহলে দেখবেন সেখানে বস্তির একটি শিশুকে কুকুর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তারা আদতে মানুষই নয়। আর এর মিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্প যদি উৎকৃষ্ট রূপে ইউরোপিয়দের সামনে প্রেজেন্টেশন করা যায়, তবে তা যে লুফে নিবেই তার প্রমাণ তো আপনার হাতের কাছেই। তেমনি বাংলাদেশের দিকে তাকালেও আমরা ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ছবি বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে সেগুলো যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ঠ যুক্তিযুক্ত, তবুও সেগুলোতে বাংলাদেশকে ইউরোপিয়রা যেমন দেখতে চায় তেমনই দেখানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমি সব সময়ই প্রত্যাশা করবো এমন কোনও গল্পের ছবি ইউরোপিয়দের কাছ থেকে সেরার স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনুক, যে ছবিটি কিনা আমরা যেভাবে বাংলাদেশকে দেখতে পছন্দ করি সেভাবেই বা তেমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে।
এতক্ষণ যে কাসুন্দি ঘাটলাম এর একটা বড় কারণ হলো আমাদেরো এক ধরণের ইউরোপিয় নাক সিটকানো ভাবটা রয়েছে। আমরাও অনেক সময় তাদের (ইউরোপিয়) চোখে দেখতে চাই বা দেখে থাকি। আর তাই আমরা প্রায়ই আমাদের কর্মকে সবার আগে তুলনা করি তাদেরই সাথে। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় অনেক বিভ্রান্তির তৈরি হয়। এতে শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ক্ষতি হয়। যা কখনোই কাম্য নয়।  এই কথাগুলো বলার প্রধান কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’ নিয়ে গল্প নকলের অভিযোগের প্রেক্ষাপটকে নিয়ে। আমি মূলত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র টেলিভিশন আর তুর্কী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইলমাজ ইর্দোগান এর ভিজনটেলে ’র তূলনামূলক আলোচনার পথ তৈরি করতে চাই। তাই শুরুতেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা নিয়ে অযথা কথাগুলো বলে নিলাম।
‘টেলিভিশন’ ছবির পোস্টার
বাংলা টেলিভিশন সিনেমার গল্প বর্তমান সমসাময়িক কালের এক জন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। যে দ্বীপের মানুষ ঠিক আধুনিক কালের হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোয়া পায় না।  আর ভিজনটেলে’র গল্পের প্রেক্ষাপট ৭০ এর দশকের তুরস্কের এক অতিদূর্গম অঞ্চলের। কিন্তু তা নির্মাণ হয়েছে ২০০১ সালে। বাংলাদেশে নতুন কোনও কিছু হলেই তার জেনে না জেনে দুইটা পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে যায়। আর বিপক্ষ দল সব সময়ই বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে মাঝখানে থাকা মানুষদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে। অপরদিকে পক্ষ দল নিজেদের ঢোল এত জোড়ে বাজাতে যায়, যে তা হয় ফেটে যায় নয়তো ফাটার উপক্রম হয়। এই অবস্থায় মাঝখানে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে থাকতে হলেও প্রয়োজন পড়ে কিছুটা আস্থা ও যুক্তির। যেখান থেকে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়, তেমন স্থান ছাড়া আর এর বিকল্প থাকে না।
টেলিভিশন ছবি মুক্তির পরপরই যে অভিযোগটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়, তা হলো এটি তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো। কিন্তু আদতে তা তুর্কী সিনেমার গল্প নকল করে বানানো হয় নি। টেলিভিশন ছবির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক। বলতে গেলে পরিচালকের বাবার ও তার নিজের জীবনের সাথে কিছুটা আত্ম জৈবনিকও । অপরদিকে তুর্কী ছবির গল্প তেমন আত্ম জৈবনিক কি না তা জানা যায় নি। তবে দুইটা ছবিতেই কম বেশী হাস্যরস, ট্রাজেডি, প্রেম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্লাইমেক্স সবই রয়েছে। তবে প্রত্যেকটাই নিজস্ব ঢংয়ে। এক্ষেত্রে ভিজনটেলেসাথে টেলিভিশনএর ফর্মুলাগত মিল পাওয়া যায়। যদিও পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক ছবিই প্রায় কাছাকাছি ফর্মূলা মেইনটেইন করে।
তুরস্ক অর্ধেক এশিয় আর অর্ধেক ইউরোপিয়। তবে তার সংস্কৃতি ও জীবন ধারার সাথে ইউরোপের জীবনের মিল রয়েছে বেশী। অর্থনৈতিকভাবে এশিয় সাধারণ দেশগুলোর চেয়ে একটু এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় তারা কর্মে ও জাতেও বেশীরভাগ ইউরোপিয়ই। তার প্রমাণ তাদের সিনেমাতেও পাওয়া যায়। এই ভিজনটেলের নির্মাণশৈলি ও গল্প বলার ধরণ (স্টোরি টেলিং) কিন্তু বেশ আরামদায়ক। টেলিভিশন  ছবিতে গল্প বলাটা পুরোপুরি আরামদায়ক না হলেও পিড়াদায়ক নয়। তুর্কী ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু পুরস্কার পেলেও খুব উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও পুরস্কার তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু পুরো ছবিটা চমৎকার উপভোগ্য বলেই কিনা, ছবিটি যথেষ্ঠ ব্যবসাসফল হয়েছিলো দেশে ও দেশের বাইরেও। এর অনুপ্রেরণায় পরিচালক এই ছবির সিক্যুয়েল করেছিলেন। 
টার্কিস ‘ভিজনটেলে’ ছবির পোস্টার
ভিজনটেলে দেখার সময় মনে হচ্ছিল ইউরোপেরই কোনো পরিচালক ইচ্ছাপূর্বক একটু পুরনো আমেজে পুরনো একটি গল্প বলছেন। আর তাই কিছু কিছু অনুভূতির ব্যবহার তিনি করেছেন দুর্দান্ত। ঠিক একই ধরণের হিসেব খাটানোর চেষ্টা আমরা দেখি টেলিভিশন  এ। এ ছবিতে কেবল প্রেমিকার অপমানের পরই পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে উঠা যুবকটি পিতার আশ্রয়েই প্রতিপক্ষ হয়ে গেলো। এটা সম্ভব মনে হলেও মেনে নিতে কষ্ট হয় এই কারণে যে, যে সন্তান পিতার অবাধ্য হয়ে যায়, পিতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের দেশে সেই সন্তানকে বর্জন করে এর ঠিক উল্টো রূপও রয়েছে। যার ফলে দেখা যায় পিতা ও সন্তানের যে ট্রাডিশনাল বৈপরীত্য অনেক সময় প্রগতিশীল পিতা মেনে নেয়। কিন্তু টেলিভিশন র পিতা কিন্তু সেই প্রগতিশীল ব্যক্তি নয়। ফলে এই বিরোধটা টিকে থাকার কথা থাকলেও উভয়েই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এখানে সরে এসেছে। যার দরুন, পিতা পুত্রের এই আঁচরণকে কিছুটা গরমিল মনে হয়েছে।
ভিজনটেলে মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির সুবিধা অনেক সময় হৃদয়ের বিপরীতে ধাবিত করতে পারে। একই সাথে যদি সেই প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করা না জানা থাকে তবে তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ভাবনাটা দারুণ ভাবে মিলে। তার প্রমাণ, স্বাধীনভাবে কথা বলার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত ইন্টারনেট ও ব্লগে প্রকাশিত কথা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করা।
বিপরীতে টেলিভিশন ছবির মূল প্রতিপাদ্য আমরা পেয়েছি প্রযুক্তির কাছে পরাজিত গোড়ামি বা সংস্কার ভাবনা। যা এক দিক দিয়ে প্রযুক্তির বিশাল গ্রহণযোগ্যতাকে উপস্থাপন করে, পাশাপাশি ধর্মের রক্ষণশীল জায়গা থেকে সড়ে আসার যে আহ্বান তাও যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এইসব বিষয় তুচ্ছ হয়ে যায় ছবির বিপনন পদ্ধতি বা চিন্তার কারণে। শুরুতে যে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম, যে ইউরোপিয়রা কেন তৃতীয় বিশ্বসহ শিল্প সাহিত্যের দিক থেকে তাদের চেয়ে একটু কম পারঙ্গমদের কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। সে প্রসঙ্গ চলে আসে কারণ টেলিভিশন ছবির পরিচালকের বক্তব্য। ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশের দুই একজন পরিচালক ও তাদের ছবির কথা। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছিলেন আমাদের দেশের কিছু পরিচালক পশ্চিমাদের পছন্দের ছবি বানায়। কিন্তু তাদের সেই ছবি পশ্চিমের দেশগুলোতে আর বিক্রি হচ্ছে না। যার কারণে আর পশ্চিমাদের পছন্দের কথা চিন্তা করে ছবি বানালে চলবে না।  নিঃসন্দেহে এ আশার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত রেকর্ড বলে টেলিভিশন ছবিতেও কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে সেই পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করি। নয়তো টেলিভিশন শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় কারণে একটা গ্রামের মানুষদের নিষিদ্ধ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আবার সেই টেলিভিশনের কাছেই পরাজয় স্বীকার করতে হয় না।
সব কিছুর পরেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকির টেলিভিশন আর ভিজনটেলে পৃথক দুটো ছবি। পৃথক অনুভূতির গল্প বলে বিধায়ই কেবল ছবিগুলো পৃথক নয়, বরং আমি ভিটনটেলে কে এগিয়ে রাখবো  তার নির্মাণশৈলি বা তার গল্প বলার ধরণের কারণেই। সর্বোপরি দুটোই টেলিভিশন সংক্রান্ত সিনেমা।  
 (গদ্যটি লেখা হয়েছিলো ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারিতে। ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে পড়াটাই নিরাপদ হবে।)

Read More

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৩

ঢাকা তখন আমার খুব একটা পরিচিত নাএর আগে খুব কম আসা হইছেএর মধ্যে বিশেষ কাজে আমি তখন ঢাকায়জিগাতলায় এক বড় ভাই এর বাসায় আগের দিন এসে হাজির হইছিআর এক বন্ধুরে ফোন করে তার খবর নেওয়ার সময় জানলাম সেও তখন ঢাকায়ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা খুব সম্ভবত তিন কি চারকিন্তু সবার কাছে গিয়ে থাকার মতো হৃদ্যতাও ছিলো নাঐ বড় ভাইয়ের কাছেও তুলনামূলক কম ছিলোএই সুযোগে সেটা হয়ে গেলোএকই সাথে ঐ বন্ধু যখন ঢাকায় আছে, তার সাথে দেখা করা যায় কি না সেই চিন্তা করেই তাকে ফোন দেইদিলাম ফোন, ফোনে কথা বলে জানা গেলো, সে কালকে বিকালে বলাকায় ছবি দেখবেদিল চাহতা হ্যায়আমার জানা ছিলো দেশি-বিদেশী ফিল্ম নিয়ে ঢাকায় তখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছেতো তাকে বললাম ঠিক আছে, আমিও দেখবোসেই সূত্রে ফারহান আখতারের প্রথম পরিচালনার ছবি দিল চাহতা হ্যায় বলাকায় দেখা আমার প্রথম ছবিতার পরে আকাশে অনেক মেঘ হইছে, বৃষ্টি হইছেগ্রীষ্ম, বসন্তও আসছে গেছেকর্মের সন্ধ্যানে ঢাকায় আইসা আস্তানাও গাড়া হইছে আমারকিন্তু এতদিনে নানান জায়গায় ছবি দেখা হইলেও বলাকায় আর দেখা হয় নাইতো সেই বলাকায় দেখতে গেছিলাম পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সাম্প্রতিক ছবি  ‘পোড়ামন
আমি যদি বলাকায় সিনেমা দেখার জার্নির কথা চিন্তা করি, তাইলে রীতিমত অধঃপতন হইছেকিন্তু এই ঘটনাকে আমি অধঃপতন হিসেবে না দেখে দেখবো নতুন শুরু হিসেবেসেই দিক থেকে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্রভালো মন্দ দুই আছেতা কেন সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলি পরিচালক জাকির হোসেন রাজু সম্পর্কেপরিচালক জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশের আশি ও নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মীতাঁর সমসাময়িকেরা যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচিত হলেও তাদের মূল পেশা দাঁড়িয়েছে অন্য কিছুসেখানে তিনি তাদের থেকে একটু ব্যাতিক্রমব্যতিক্রম এই কারণে যে, তার সময়ের অন্য পরিচালকদের মতো তিনি বিকল্প পথে হাঁটেন নিতিনি হেঁটেছেন প্রথাগত পথেএবং এই পথেই রাজুর প্রচেষ্টাও অনুল্লেখ্য নয়সেই দিক থেকে তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিচিত পথের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবেও একজনপাশাপাশি তার প্রথম চলচ্চিত্র আমাদের শৈশবের  নায়ক সালমান শাহ্‌র ছবি জীবন সংসারজীবন সংসারের একটা দৃশ্য এখনো আমার মনে আছেসালমানকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার পর সে নিজের পয়সায় রোজগার করে পিতৃতুল্য বড় ভাই আর মাতৃতুল্য ভাবির জন্য মিষ্টি নিয়ে আসেবাড়ির ভেতর যায় নাবাড়ির চাকরের কাছে এই মিষ্টি দিয়ে পাঠায়চাকর তার এক ছোট ভাইয়ের প্রথম রোজগারের মিষ্টি বলে ভাই-ভাবিকে খাওয়ায়এমন আবেগময় দৃশ্য তিনি নিজে নির্মাণ করছিলেনতার এই ছবি ঐ সময় সুপারহিট হয়েছিলোএর পরবর্তিতেও তিনি বেশ চমৎকার সৃজনশীল সামাজিক গল্প নিয়ে এফডিসির ভেতর থেকেই ছবি করেছেনআর এই কারণেই তার কাছে প্রত্যাশাও অন্য সবার চেয়ে একটু বেশীইসেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বেশ কিছুদিন পর তিনি হাজির হলেন পোড়ামনছবি নিয়েআর সেই ছবি আমি আর আমার এক বন্ধু বলাকায় দেখে ফেলেছিছবি দেখার পর প্রথম যে কথা আমি বলবো, তা হলো পারলে ছবিটা দেখে ফেলুন
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসিআমাদের দেশে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনকারীরা কিভাবে কিভাবে যেনো ত্রিশ-পয়ত্রিশটা ইরানি ছবির ভিডিও টেপ আবিষ্কার করলোআর এ নিয়ে তাদের কত উল্লাশ আর মাতামাতিইরানি ছবির আদলে তারা ছবি বানানোর স্বপ্নও দেখেছিলোজাকির হোসেন রাজুর পরিচালক সত্ত্বা সৃষ্টি হওয়া সময়ের সাথে এই কথাগুলোর স্মরণ করছি এই কারণে যে, এখন একটা ছেলে ইনারিতু, কিম কি দুক, কার্লোস রেগাদাস, ক্রিস্টোফার নোলান, অনুরাগ কাশ্যপদের অহরহ আবিষ্কার করে তাদের মতো করে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখেতাই তাদের কাছে ২০১০ সালে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের তামিল নাডুতে বা কেরালায় কি ছবি নির্মাণ হবে তা তো তাদের জানাই থাকেএমনকি সেইখানে কোন ছবিটা সমালোচনায় রেটিং বেশী পায়, কোনটা ব্যবসা ভালো করে এই খবরও তাদের জন্য কিছুই নাএইটা বোধহয় অনেকে জানেই নাএই কথাগুলো বলা ঐ জাকির হোসেন রাজু প্রসঙ্গেইএই প্রসঙ্গ পরে আসুকআগে আসুক তার নির্মিত পোড়ামনকেমন করলো বলে আমার মনে হচ্ছে
পোড়ামনের শুরুটা অনেকটা জোর করে গল্পে বেশ কিছু চরিত্রের এস্টাব্লিশ করার মাধ্যমেশুরুর সিন দেখে ভাবছিলাম গল্পে অনেক বেশী জটিলতা/ প্যাচগোছ থাকবেকিন্তু নাদ্বিতীয় তৃতীয় সিন থেকেই বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটাই ফ্ল্যাশ ব্যাকএবং ঐদিনটা ছিলো ঈদের আগের দিনমনে রাইখ্যেন, ঈদের আগের দিনঐদিন ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প পিছাইলোএই প্রসঙ্গে কোনও আপত্তি নাইবিরতির পর দেখলাম ঐ গল্পের নায়ক পুলিশ হাজত থেকে পালাইছেআর ডিআইজির সফর উপলক্ষে এই খবর ধামাচাপা পড়ে গেলেও ওসি সাহেবের চাকরি বাঁচানোর চিন্তায়  আসামী ধরতে যায়ঐদিন রাতে আর বাসায় ফিরে নিতার পরের দিন কিন্তু ঈদ মনে রাইখ্যেনগিয়া দেখে, আমগো নায়কের প্রেমিকা নায়িকার বিয়া হইবোবাড়িঘর সাজানো হইতেছেবর যাত্রীও আসেযাই হোক এইখানে ছবি পুরাই হিটকারণ নায়ক মারামারি করতে জানেপিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছেএইসব দেখতে ভালোই লাগেকিন্তু পূজা আর ঈদ যদি স্ক্রিপ্ট রাইটার এক কইরা ফেলে তাইলে তো দিনে তিনটা ফিচার ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আমি লিখতে পারিযাক, আমার এমন স্ক্রিপ্ট লেখার আগ্রহ নাইএইভাবে বহু নাটকিয়তায় সিনেমা শেষ হইলোসিনেমার ক্ষণে ক্ষণে দর্শকদের হাতে তালি, শিষ বাজানো আর নিজেদের প্রত্যাশার সাথে গল্পের মিল হইলে পরে তালি শিষ দুইটাই একসাথে এইগুলো ব্যাপক এনজয়ের বিষয় ছিলো আমার জন্য
ছবি দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, পুরো ছবি বান্দরবানের মতো অসাধারণ লোকেশনে শ্যুট করাএই ছবি মার্কেটিংয়ের একটা বড় পয়েন্টই হইতে পারতো বাংলাদেশের পাহাড়ি প্রকৃতিকিন্তু দুই একটা গানে হাতে গোনা কয়েকটা দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ছাড়া ঐ প্রকৃতির ছবিই চোখে পড়লো নাঅন্তত এই বান্দরবান দেইখ্যা আমি মোটেও বান্দরবানের প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিবো নাযতটা না বন্ধুদের কাছ থেকে বলা, লেখা ও তোলা ছবি দেখে আহ্বানে সাড়া দিতে রাজি
এছাড়া এই ছবি দেখার আগে এই ছবি সম্পর্কে যা জেনে গেছি তাতে এই সিনেমার গল্পটা না বলে ঐ মায়না ছবির গল্পটাই বলি

তামিল প্রযোজক ও পরিচালক প্রভু সলোমনের সপ্তম ছবিউইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই ছবির বাজেট ছিলো ৫০ কোটি রুপিআমাদের পোড়ামনছবির বোধহয় এইখান থেকেই শুরু হইছে পেছানোতার বাজেট কোনও ভাবেই ষাট লাখের বেশী হবে নাঅন্তত তাই ধারণা করিআর এই কারণে গল্প, সংলাপ, চরিত্রের চিত্রায়ন প্রায় একই রকম করে নির্মাণ চেষ্টা করলেও মায়নার আশে পাশেও যায় নি এই ছবিতবে যারা তামিল ছবি দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না তাদের কাছে এ্ই গল্প একেবারেই নতুনআর তাদেরকেই সম্ভবত লক্ষ করে এই ছবির দর্শক চিন্তা করে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু এই ছবি নির্মাণ করছেসেই লক্ষ্যে সফলতা থাকলেও আমার প্রশ্ন, নকল ছবিই যদি বানাবেন তবে তার জন্য জাকির হোসেন রাজুর মতো পরিচালক কেন? তারপরো আমার একটা চাওয়া আছেযদি নকল ছবি দিয়াও সিনেমা হল মালিকরা হল টিকায়া রাখতে পারে তবে চলুক

‘পোড়ামন’ এ মন পোড়ে না

at মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৩  |  2 comments

ঢাকা তখন আমার খুব একটা পরিচিত নাএর আগে খুব কম আসা হইছেএর মধ্যে বিশেষ কাজে আমি তখন ঢাকায়জিগাতলায় এক বড় ভাই এর বাসায় আগের দিন এসে হাজির হইছিআর এক বন্ধুরে ফোন করে তার খবর নেওয়ার সময় জানলাম সেও তখন ঢাকায়ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা খুব সম্ভবত তিন কি চারকিন্তু সবার কাছে গিয়ে থাকার মতো হৃদ্যতাও ছিলো নাঐ বড় ভাইয়ের কাছেও তুলনামূলক কম ছিলোএই সুযোগে সেটা হয়ে গেলোএকই সাথে ঐ বন্ধু যখন ঢাকায় আছে, তার সাথে দেখা করা যায় কি না সেই চিন্তা করেই তাকে ফোন দেইদিলাম ফোন, ফোনে কথা বলে জানা গেলো, সে কালকে বিকালে বলাকায় ছবি দেখবেদিল চাহতা হ্যায়আমার জানা ছিলো দেশি-বিদেশী ফিল্ম নিয়ে ঢাকায় তখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছেতো তাকে বললাম ঠিক আছে, আমিও দেখবোসেই সূত্রে ফারহান আখতারের প্রথম পরিচালনার ছবি দিল চাহতা হ্যায় বলাকায় দেখা আমার প্রথম ছবিতার পরে আকাশে অনেক মেঘ হইছে, বৃষ্টি হইছেগ্রীষ্ম, বসন্তও আসছে গেছেকর্মের সন্ধ্যানে ঢাকায় আইসা আস্তানাও গাড়া হইছে আমারকিন্তু এতদিনে নানান জায়গায় ছবি দেখা হইলেও বলাকায় আর দেখা হয় নাইতো সেই বলাকায় দেখতে গেছিলাম পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সাম্প্রতিক ছবি  ‘পোড়ামন
আমি যদি বলাকায় সিনেমা দেখার জার্নির কথা চিন্তা করি, তাইলে রীতিমত অধঃপতন হইছেকিন্তু এই ঘটনাকে আমি অধঃপতন হিসেবে না দেখে দেখবো নতুন শুরু হিসেবেসেই দিক থেকে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্রভালো মন্দ দুই আছেতা কেন সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলি পরিচালক জাকির হোসেন রাজু সম্পর্কেপরিচালক জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশের আশি ও নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মীতাঁর সমসাময়িকেরা যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচিত হলেও তাদের মূল পেশা দাঁড়িয়েছে অন্য কিছুসেখানে তিনি তাদের থেকে একটু ব্যাতিক্রমব্যতিক্রম এই কারণে যে, তার সময়ের অন্য পরিচালকদের মতো তিনি বিকল্প পথে হাঁটেন নিতিনি হেঁটেছেন প্রথাগত পথেএবং এই পথেই রাজুর প্রচেষ্টাও অনুল্লেখ্য নয়সেই দিক থেকে তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিচিত পথের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবেও একজনপাশাপাশি তার প্রথম চলচ্চিত্র আমাদের শৈশবের  নায়ক সালমান শাহ্‌র ছবি জীবন সংসারজীবন সংসারের একটা দৃশ্য এখনো আমার মনে আছেসালমানকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার পর সে নিজের পয়সায় রোজগার করে পিতৃতুল্য বড় ভাই আর মাতৃতুল্য ভাবির জন্য মিষ্টি নিয়ে আসেবাড়ির ভেতর যায় নাবাড়ির চাকরের কাছে এই মিষ্টি দিয়ে পাঠায়চাকর তার এক ছোট ভাইয়ের প্রথম রোজগারের মিষ্টি বলে ভাই-ভাবিকে খাওয়ায়এমন আবেগময় দৃশ্য তিনি নিজে নির্মাণ করছিলেনতার এই ছবি ঐ সময় সুপারহিট হয়েছিলোএর পরবর্তিতেও তিনি বেশ চমৎকার সৃজনশীল সামাজিক গল্প নিয়ে এফডিসির ভেতর থেকেই ছবি করেছেনআর এই কারণেই তার কাছে প্রত্যাশাও অন্য সবার চেয়ে একটু বেশীইসেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বেশ কিছুদিন পর তিনি হাজির হলেন পোড়ামনছবি নিয়েআর সেই ছবি আমি আর আমার এক বন্ধু বলাকায় দেখে ফেলেছিছবি দেখার পর প্রথম যে কথা আমি বলবো, তা হলো পারলে ছবিটা দেখে ফেলুন
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসিআমাদের দেশে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনকারীরা কিভাবে কিভাবে যেনো ত্রিশ-পয়ত্রিশটা ইরানি ছবির ভিডিও টেপ আবিষ্কার করলোআর এ নিয়ে তাদের কত উল্লাশ আর মাতামাতিইরানি ছবির আদলে তারা ছবি বানানোর স্বপ্নও দেখেছিলোজাকির হোসেন রাজুর পরিচালক সত্ত্বা সৃষ্টি হওয়া সময়ের সাথে এই কথাগুলোর স্মরণ করছি এই কারণে যে, এখন একটা ছেলে ইনারিতু, কিম কি দুক, কার্লোস রেগাদাস, ক্রিস্টোফার নোলান, অনুরাগ কাশ্যপদের অহরহ আবিষ্কার করে তাদের মতো করে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখেতাই তাদের কাছে ২০১০ সালে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের তামিল নাডুতে বা কেরালায় কি ছবি নির্মাণ হবে তা তো তাদের জানাই থাকেএমনকি সেইখানে কোন ছবিটা সমালোচনায় রেটিং বেশী পায়, কোনটা ব্যবসা ভালো করে এই খবরও তাদের জন্য কিছুই নাএইটা বোধহয় অনেকে জানেই নাএই কথাগুলো বলা ঐ জাকির হোসেন রাজু প্রসঙ্গেইএই প্রসঙ্গ পরে আসুকআগে আসুক তার নির্মিত পোড়ামনকেমন করলো বলে আমার মনে হচ্ছে
পোড়ামনের শুরুটা অনেকটা জোর করে গল্পে বেশ কিছু চরিত্রের এস্টাব্লিশ করার মাধ্যমেশুরুর সিন দেখে ভাবছিলাম গল্পে অনেক বেশী জটিলতা/ প্যাচগোছ থাকবেকিন্তু নাদ্বিতীয় তৃতীয় সিন থেকেই বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটাই ফ্ল্যাশ ব্যাকএবং ঐদিনটা ছিলো ঈদের আগের দিনমনে রাইখ্যেন, ঈদের আগের দিনঐদিন ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প পিছাইলোএই প্রসঙ্গে কোনও আপত্তি নাইবিরতির পর দেখলাম ঐ গল্পের নায়ক পুলিশ হাজত থেকে পালাইছেআর ডিআইজির সফর উপলক্ষে এই খবর ধামাচাপা পড়ে গেলেও ওসি সাহেবের চাকরি বাঁচানোর চিন্তায়  আসামী ধরতে যায়ঐদিন রাতে আর বাসায় ফিরে নিতার পরের দিন কিন্তু ঈদ মনে রাইখ্যেনগিয়া দেখে, আমগো নায়কের প্রেমিকা নায়িকার বিয়া হইবোবাড়িঘর সাজানো হইতেছেবর যাত্রীও আসেযাই হোক এইখানে ছবি পুরাই হিটকারণ নায়ক মারামারি করতে জানেপিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছেএইসব দেখতে ভালোই লাগেকিন্তু পূজা আর ঈদ যদি স্ক্রিপ্ট রাইটার এক কইরা ফেলে তাইলে তো দিনে তিনটা ফিচার ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আমি লিখতে পারিযাক, আমার এমন স্ক্রিপ্ট লেখার আগ্রহ নাইএইভাবে বহু নাটকিয়তায় সিনেমা শেষ হইলোসিনেমার ক্ষণে ক্ষণে দর্শকদের হাতে তালি, শিষ বাজানো আর নিজেদের প্রত্যাশার সাথে গল্পের মিল হইলে পরে তালি শিষ দুইটাই একসাথে এইগুলো ব্যাপক এনজয়ের বিষয় ছিলো আমার জন্য
ছবি দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, পুরো ছবি বান্দরবানের মতো অসাধারণ লোকেশনে শ্যুট করাএই ছবি মার্কেটিংয়ের একটা বড় পয়েন্টই হইতে পারতো বাংলাদেশের পাহাড়ি প্রকৃতিকিন্তু দুই একটা গানে হাতে গোনা কয়েকটা দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ছাড়া ঐ প্রকৃতির ছবিই চোখে পড়লো নাঅন্তত এই বান্দরবান দেইখ্যা আমি মোটেও বান্দরবানের প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিবো নাযতটা না বন্ধুদের কাছ থেকে বলা, লেখা ও তোলা ছবি দেখে আহ্বানে সাড়া দিতে রাজি
এছাড়া এই ছবি দেখার আগে এই ছবি সম্পর্কে যা জেনে গেছি তাতে এই সিনেমার গল্পটা না বলে ঐ মায়না ছবির গল্পটাই বলি

তামিল প্রযোজক ও পরিচালক প্রভু সলোমনের সপ্তম ছবিউইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই ছবির বাজেট ছিলো ৫০ কোটি রুপিআমাদের পোড়ামনছবির বোধহয় এইখান থেকেই শুরু হইছে পেছানোতার বাজেট কোনও ভাবেই ষাট লাখের বেশী হবে নাঅন্তত তাই ধারণা করিআর এই কারণে গল্প, সংলাপ, চরিত্রের চিত্রায়ন প্রায় একই রকম করে নির্মাণ চেষ্টা করলেও মায়নার আশে পাশেও যায় নি এই ছবিতবে যারা তামিল ছবি দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না তাদের কাছে এ্ই গল্প একেবারেই নতুনআর তাদেরকেই সম্ভবত লক্ষ করে এই ছবির দর্শক চিন্তা করে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু এই ছবি নির্মাণ করছেসেই লক্ষ্যে সফলতা থাকলেও আমার প্রশ্ন, নকল ছবিই যদি বানাবেন তবে তার জন্য জাকির হোসেন রাজুর মতো পরিচালক কেন? তারপরো আমার একটা চাওয়া আছেযদি নকল ছবি দিয়াও সিনেমা হল মালিকরা হল টিকায়া রাখতে পারে তবে চলুক

Read More

সোমবার, ২০ মে, ২০১৩



 ০১.

গত বেশ কয়েকদিন যাবৎ একটা গল্প ভাবছিলাম। গল্প লিখবো বলে না, একটা ছোট সিনেমা বানাবো বলে। কিন্তু সেই গল্পটা আমার লেখা হয়ে উঠতেছে না। আমার বন্ধ্যাকাল চলতেছে কিনা জানিনা। আমি কিছুই লিখতে পারতেছিনা। আর এই না পারার দরুন সেই গল্পটাও একটা সম্ভাবনা হয়ে আমার দরজার কাছ  দিয়ে কেবল ঘুরঘুর করতেছে। তবে গল্পটা আমি লিখবোই এই বিষয়ে নিশ্চিত হই নিজের কাছে। তার আগে ভাবি, এই গল্পের চিত্রনাট্য লেখার আগে এর ভিজ্যুয়ালের মতো কিছু পাই কিনা। হ্যা, এই রকম খুঁজতে গিয়াই হঠাৎ ‘ট্রাইজ’ ছবিটা পাইয়া গেলাম। ছবিটা আন্তর্জাতিক মহলে তেমন কোনও প্রশংসিত ছবি না। আমি যুদ্ধ নিয়া কি কি ছবি আছে এমন ছবির রেফারেন্স ঘাটতে গিয়া এই ছবির খোঁজ পাই। এই ছবি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। এইখানে অন্য কথা বলার ইচ্ছা আমার।

ছোট ছবি মানে শর্ট ফিল্মের কথা বলতেছিলাম। দীর্ঘদিন আমি ভিজ্যুয়ালে কোনও কাজ করতেছিও না, কোনও কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্তও না। আর এই কাজ না করার ফলে আমি নিজেরে বহু দূরের মনে করতেছি। মনে হইতেছে, আমার ভেতরকার আমিটা কই জানি হারায়া গেছে। এই হারায়া যাওয়া আমিকেই খুঁজতে এই ছোট সিনেমার চিন্তা। কারণ ছোট সিনেমাই বানাইতে হইবো এইটা এখন নিশ্চিত। যেহেতু বড় মানে ফুল লেংথের সিনেমাবা বানারো সক্ষমতা ও সুযোগ কোনওটাই আমার এখনো আসে নাই। তাই ছোট সিনেমাই বানাইতে হইবো। তবে ছোট সিনেমার যেহেতু কোনও বাজার নাই, তাই ছোট সিনেমার জন্য প্রযোজকও নাই। আর তাই নো-বাজেটে কিভাবে ছোট সিনেমা বানানো যায়, তার চিন্তা করা দরকার। বলতে পারেন, ছোট সিনেমা না বানাইয়া আপনি নাটক বানান না কেন? নাটক বানাইলে তো অন্তত ভিজ্যুয়াল প্র্যাক্টিসটা হৈতো। আপনারে বলি, ভাই কেন যে নাটক বানাইনা এই কথাই কইতে আইছি। একটু সবুর করেন।

 ০২.

একদিন ছবির হাটে বইসা ছিলাম। মহিম জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ভাই এই সময়টাতে তো ছবি বানানোর হিড়িক পড়ছে। আপনি তো হিড়িকে গা ভাসানোর মানুষ না। আপনি কেন ছবি বানাবেন বইলা সিদ্ধান্ত নিছেন? আমি তারে নানান্ কথা বুঝাইলাম। কিন্তু সে বুঝবার চায় না। বলে, এইটা না আপনার আরো কোনও কথা আছে সেইটা বলেন। তখন আমি বলছিলাম, হিড়িকে গা ভাসানোর জন্য তো না’ই। বরং আমার মনে হয় সিনেমাটা আমার বানানো উচিত। অন্তত দেশের সিনেমার জার্নি আর বড় হওয়ার পর বিদেশী সিনেমা দেইখ্যা যেইভাবে বড় হইতেছি, তাতে মনে হইছিলো সিনেমারে আমার কিছুটা অন্তত দেয়ার আছে। সে আর কথা না বাড়াইয়া বলছিলো, এইবার মনে হয় আপনে ভেতরকার কথাটা কইছেন। হ্যা, এই সময়ে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে এই সিনেমা বানানোর প্রবণতাটা প্রচুর বাড়ছে। কেবল বাড়ছে বললে ভুল হবে, বলতে হবে এইটা একটা ক্রেজি রূপ নিছে। গত দশকে মানে শূন্য দশকে তেমনই কবিতা লেখার অবস্থা ছিলো। এই শূন্য দশকে কবিতর সংখ্যা ছিলো শত শত। এই এত এত কবির মধ্য থেইক্যা এখন গুনতে গেলে দশজন উল্লেখযোগ্য কবিকে খুইজ্যা বের করা মুশকিল হইয়া যায়। তার পরিবর্তে শাহবাগ, ছবির হাট, টিএসসিতে বসলেই এখন ডিরেক্টর। আর শুধু ডিরেক্টরই না। ঐখানে তিনটা ঢিল মারলেও আড়াইটাই মনে হয় কোনও না কোনও ডিরেক্টরের গায়ে গিয়া পরবো এমন অবস্থা। সবাই সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখে বা কেউ কেউ বানায়। তো এই অবস্থায় সিনেমার একটা সম্ভাবনা চোখে পড়ে না? শূন্য দশকে তেমন কবিতারও সম্ভাবনা ছিলো। এই সম্ভাবনায় যারা সাতরাইতে সাতরাইতে কুলের দিকে আসতেছেন তারা হয়ত পাড় দেখতে পারতেছেন। এর চেয়ে ভালো কথা, পরবর্তী দশকে এর দারুণ প্রভাবে কবিতা লেখকের সংখ্যা কইম্যা গেছে। আর এর ফলে যারা লিখতেছে অধিকাংশই যথেষ্ট সম্ভাবনাময় লেখাই লিখতেছে। এইটাও বিগত দশকের একটা ফল হিসাবে ধরলে ভবিষ্যতে সিনেমার এই সময়টা সত্যিই সম্ভাবনায়। তবে এত বিপুল নির্মাতা শ্রেণী কি আসলে তৈরি হৈতেছে? এইটা একটা প্রশ্ন বটে। আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আশপাশে তাকালে দেখি, তেমন একটা তৈরি হইতেছে না। কেমনে হবে? সেই সুযোগই তো তারা পাইতেছে না। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এই সুযোগটা আসলে কি? সুযোগটা নানান্ ভাবেই হইতে পারে। প্রথমত, ছোট ছোট সিনেমা বানাইয়া তারা প্রস্তুতিটা নিতে পারে বড় সিনেমার জন্য। এই ছোট সিনেমাই সবচে ভালো প্রস্তুতির ব্যবস্থা হৈতে পারতো। কিন্তু বাংলাদেশে ছোট সিনেমার কোনও ভাবেই কোনও বেইল করা করা গেলো না। আমাদের পূর্ব পুরুষ চলচ্চিত্র নির্মাতারাও তেমন একটা পারলেন না, আমারাও পারতেছিনা। অবশ্য সারা পৃথিবীতেই এইটা মানে এই ছোট সিনেমার বাজার তৈরি করাটা একটা মহা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে জিততে পারলে পৃথিবীর সিনেমা আরও বহু আগেই যে বদলাইয়া যাইতো তা আর বলতে হয় না। তো এই ছোট সিনেমার বাজার যেহেতু নাই, সেহেতু আর যেই বিকল্প মাধ্যমটা আমাদের হাতে আছে, সেইটাতেই চিন্তা করতেছিলো এই তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাময় নির্মাতারা। অন্তত গল্প বলার প্র্যাক্টিসটা এইখানে করতে পারে। কিন্তু এই জায়গাটাও আর সেই আগের মতো নাই। সেই জায়গাটা কি? সেই জায়গাটা টিভির এক খন্ডের নাটক। এইখানে একজন স্বপ্নবাজ তরুণ নির্মাতা তার পূর্ণাঙ্গ স্বপ্নের রূপায়্নের আগে, নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে পারতো। আমাদের টেলিভিশন মিডিয়ার এক জাদুকর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছিলো, পৃথিবীর অন্য সব দেশের টেলিভিশন সিনেমার ধ্বংস করে, আর আমাদের দেশের টেলিভিশন সিনেমা নির্মাতা বানায়।  এই কথা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বেশ কিছুটা সত্য। তিনি যখন এই কথা বলছিলেন, তখন ফারুকীর মতো আরো অনেক তরুণ নির্মাতা টিভিতে এই খন্ড নাটক বানাইয়া নিজেদের ডিরেক্টর হিসেবে এস্টাব্লিশমেন্ট করে ফেলছে। আর তাই টিভিতে এমন সব কাজও হৈছে, যেগুলো নিয়া আমরা আক্ষেপও করতে পারি এই কারণে যে, এইসব প্রডাকশন টিভিতে না হইলে থার্টি ফাইভে হইলে বা টিভিতে না দেখাইয়া যদি আন্তর্জাতিক ফ্যাস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হইয়া যাইতো, তাইলে তা নতুন সিনামায় রূপ পাইতো। কিন্তু সরয়ার ভাইয়ের এই কথা এখন তাই পুরোপুরি সত্য নয়। তার কারণে এই দেশে যেসব তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতারা টিভিতে নাটক বানিয়ে সিনেমার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর তাদের মতো সেই ক্ষেত্রটা পাচ্ছে না বলে। তাদের মতো তো দূরের কথা কোনও ক্ষেত্রই পাচ্ছে না বলা যায়। কারণ, একটা সময় টিভি স্টেশন মানেই নতুন নতুন আইডিয়া আর নতুন নতুন প্রোগ্রাম পাওয়া যাইতো। নতুন নতুন গল্প বলার চেষ্টা থাকতো। নতুন নতুন টিভিগুলো সেইসব নতুন গল্পের পেছনে ছুটতোও। কিন্তু একটা টিভি স্টেশন হওয়ার আগে চিন্তা করে ঐ চ্যানেলের এই অনুষ্ঠানটা জনপ্রিয়। সুতরাং আমারো এমন একটা বানাইতে হইবো। আর এমন করতে গিয়া তার অনুষ্ঠানে নতুনত্ব থাকে না। আর ঐ এক পর্বের খন্ড নাটক, যা পৃথিবীর বিরলতম একটা টিভি অনুষ্ঠান। এই নাটকে সবচে তীব্র ভাবে ঢুকে গেছে স্থুলতা। আর তাই এই স্থুল নাটকগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে আমাদের টিভি স্ট্যাশনগুলো। কারণ, ঐটাতে তার ব্যবসা হয় বিশেষ। এই স্থুল অনুষ্ঠান নির্মাণ আর স্থুল গল্পের নাটক নির্মাণের কারণে তার টিভির দর্শক যে হারিয়ে যাচ্ছে, সেই দিকে তার কোনও ভ্রুক্ষেপ নাই। তার কেবল দরকার ব্যবসা। আরে ভাই তোমার ব্যবসা টিকাইয়া রাখার জন্যও তো তোমার ভালো কিছু করতে হইবো, নাকি? আর টিভি স্ট্যাশনগুলোর এই ব্যবসার জন্যই তরুণ প্রজন্মের সিনেমার স্বপ্নটা ধূসর হয়ে যাচ্ছে।

 ০৩.

টিভিতে নাটক বানানোর মাধ্যমে সিনেমার প্রস্তুতি নেয়া যায় কারণ, টিভিতে নাটক বানানোর যে পদ্ধতিটা, এই পদ্ধতিটা সিনেমা বানানোর পদ্ধতিরই একটা প্রাথমিক সংস্করণ। আর এই মাধ্যমটাতে কাজ করে তাই আমাদের প্রজন্মের তরুণরা সিনেমার কথা ভাবতেছিলো। এখন এই নাটকের সাথে সিনেমার সম্পর্কটা কোন জায়গায় আর পার্থক্যটা কোন জায়গায় এইটাতে চোখ বুলাইলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথমত সিনেমা বড় ক্যানভাসের একটা শিল্প। আর এই শিল্পটাকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প বলা হয়। এই প্রসঙ্গে শুরুতে যে ‘ট্রাইজ’ ছবির কথা বললাম তার পরিচালকের একটু কথা উদ্ধৃতি করি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, ‘আমি মনে করি সিনেমা বানানো পৃথিবীর সবচে পূর্ণাঙ্গ কাজের একটা। এইখানে তোমাকে লেখক হইতে হইবো, রাজনীতিবিদ হইতে হইবো, ব্যবসায়ী হইতে হইবো, জীবনের রং দেখার ক্ষমতা থাকতে হইবো, তোমার জানতে হইবো কেমনে সিনামা হয়, কিভাবে কাটতে হয় তা জানতে হইবো, অভিনয়টা কি তাও জানতে হৈবো, মিউজিক তো বটেই। তারপরে না তুমি সিনেমা বানাইবা।’ এখন সিনেমার এইসব বিষয়ের অধিকাংশ বিষয়ই নাটকের সাথে জড়িত। সেই হিসেবে টিভি নাটক বলতে গেলে সিনেমার ড্রেস রিহার্সাল। কিন্তু সিনেমার পর্দা, দর্শক থেকে শুরু করে বিস্তৃতির জায়গা পর্যন্ত বিশাল হওয়ায় এর বাজেটটা ও আয়োজনেও বিশালত্ত্বটা থাকে। কিন্তু নাটকটা ড্রয়িং রুম মাধ্যম বলে তার সেই অনুপাতিক বাজেট থাকে না। কিন্তু তারপরও তুলনামূলক কম বাজেটে সেই প্রস্তুতিটা নেওয়ার চিন্তা কিন্তু করাই যায়। কিন্তু তার বিপরীতে কি হয়? একটু বাস্তব চিত্রটা দেখি।

 ০৪.

আমাদের দেশে অনুষ্ঠান প্রচার হয় এমন চ্যানেল আছে প্রায় এক ডজনেরো বেশী। প্রত্যেকটা চ্যানেলে যদি সপ্তাহে দুইটা করেও নতুন একটা করে খন্ড নাটক চালায় তাহলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০টা নতুন নাটক নির্মাণ করতে হয়।  এখন এই নাটকের অধিকাংশই যদি প্রতিষ্ঠিত নাট্য নির্মাতারা নির্মাণ করতো, তাহলেও মাসে কমপক্ষে ১০টা নতুন নাটক নির্মাণের সুযোগ পাইতো একজন তরুণ নাট্য নির্মাতা। এই সুযোগটা তারা পায় না। আর এর বাইরে তার একটা নাটক নির্মাণ করতে গেলে যে ধকলটা পোহাইতে হয়, তাও রীতিমত কম না। সবচে বড় যে বিষয়টা তার প্রথমেই ফেইস করতে হয় তা হৈলো টাকা বা প্রডিউসার যোগার করা। বাংলাদেশে ট্রাডিশনাল ওয়েতে টিভি নাটকের প্রডিউসার যোগার করা রীতিমত এলাহি কাণ্ড। পুরনো যারা প্রতিষ্ঠিত নির্মাতা, তারা শুরুতে এইসব ঝামেলা পোহাইছে বইলা এখন তারা নিজেরাই নিজেদের প্রোডাকশন হাউজগুলোর অধীনে কাজ করে। তারা আর কেবলমাত্র নির্মাতা থাকে না। তাই এক প্রকার প্রযোজক হওয়ার চিন্তা নিয়াই পরিচালনার কথা চিন্তা করতে হয় সিনেমার স্বপ্ন দেখা তরুণের। আর যদি কোনও ভাবে একজন প্রযোজক যোগার হয়েই যায়, তবে কি? কাজ শেষ? মোটেও না। এইখানে আছে অনেক কিন্তু। প্রযোজক তো বাণিজ্য করার জন্য টাকা দিচ্ছে। এখন একজন তরুণ নির্মাতার প্রোডাকশনে যখন একজন প্রযোজক টাকা লগ্নি করেন, তখন তার ব্যবসা ছাড়াও একাধিক দিকে সুবিধা আদায় করার চিন্তা থাকে। তার অন্যতম কারণ তার লগ্নিকৃত টাকা কবে ফেরৎ আসবে তার অনিশ্চয়তা। কারণ একটা নাটক যখন নির্মাণ হয় প্রযোজকের পকেট থেকে টাকাটা ব্যায় হয়ে যায় তখনই। বিপরীত দিকে এই টাকা ফেরৎ আনার প্রসেসটা কেবল দীর্ঘই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা অনির্দিষ্টকালের হয়ে যায়। যেমন, একটা নাটক যদি টিভি চ্যানেলের এ্যাসাইন করা না থাকে (তরুণ নির্মাতাদের নাটক কখনোই এ্যাসাইন করা থাকে না) তাহলে এই নাটক বিক্রির জন্য কম পক্ষে ১০টা টিভি চ্যানেলে প্রিভিউ এর জন্য জমা দিতে হয়। তাদের অনেকে নতুন পরিচালকের নাটক দেখেই না। অনেক চ্যানেলের তো প্রিভিউ কমিটিই নাই। কোনওটার থাকলেও তা কাজ করে না। এইসব উজিয়ে নাটকটা লাভ আর লস যাই হোক কোনও একটা জায়গায় গিয়ে যখন বিক্রি হয়, তার কিছুদিনের মাঝে তা প্রচারও হয়ে যায়। আর প্রচারের সময় দেখা যায় প্রতি বিরতিতে বিজ্ঞাপনের অভাব নেই। এত এত বিজ্ঞাপন নিয়ে নাটক প্রচার করলেও এই নাটকের মূল্য কিন্তু পরিশোধ কবে করবে তার নিশ্চয়তা নেই। হাতে গোনা দুই একটা টিভি চ্যানেল এই জায়গায় ব্যতিক্রম। তাই নাটকের পেছনে লগ্নিকারী প্রযোজক নাট্য নির্মাতা, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চিন্তা প্রায়ই করে থাকে।  তার জন্য এক দিক দিয়ে অবশ্য দায়ি আমাদের টিভি স্ট্যাশনগুলো। টিভি স্ট্যাশনগুলো একটা নাটক প্রচারের পর আর কোনও কিছুর চিন্তা করতে চায় না। দেশের টিভি স্টেশনগুলো যদি ন্যুনতম প্রফেশনাল চরিত্রটা ধরে রাখতো, তাহলে তরুণ নির্মাতাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাটা এই তুমুল চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অথচ দেড়-দুই লাখ টাকা দিয়ে যখন একটা নাটক টিভি চ্যানেল কিনে, তার মাঝে যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন তারা চালায় তার শতকরা ১০% ভাগও যদি প্রডাকশন কোম্পানী পায় তাহলে প্রযোজনা ব্যবসাটাই একটা বিশাল শিল্পে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারতো। টিভি স্টেশনগুলো বুঝতেই চায়না একটা তরুণ নির্মাতা কতটা কষ্ট কইরা এই দেড়-দুই লাখ টাকায় একটা নাটক দাঁড় করায়। কারণ সিনিয়ার নির্মাতারা যেখানে প্রতি নাটকে চার থেকে-আট লাখ টাকা পায়, সেখানে তার একটা নাটকের দেড় লাখ টাকা বাজেটে তার নিজের জন্য কিছুই থাকে না। অথচ তরুণদের প্রতিটা প্রডাকশনের প্রতিটা ভাজে লুকানো থাকে তার শ্রম। কারণ সে ভাল লেখকের চিত্রনাট্য কিনতে পারে না টাকার অভাবে। নিজেরই গল্প, চিত্রনাট্য লিখতে হয়। ভালো এসিস্ট্যান্ট নিতে গেলেও যে টাকা দেয়া লাগে তাও দেয়ার ক্ষমতা থাকে না। ভালো সিনেমাটোগ্রাফারের তো আর বড় বাজেট থাকে। আর তরুণদের জন্য ভালো অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে শিডিউল নিতে নিতে যে ফোন বিল হয় সেইটাই তো বিশাল অংকে রূপ নেয়। আর তাদের আচরণ তো কারো অজানা না। এই হবে না, এই করবো না, এই করি না। কত যে বাহানা! এইসব বাহানার মাঝ দিয়েও তার উপর চাপ থাকে প্রডিউসারের, তিনদিনের শিডিউল দুই দিনে শেষ করেন। নইলে টাকায় কুলাইতে পারবো না। এই ভাবনা নিয়া তারা কাজ করে। আর বিক্রির পর এই টাকা চ্যানেল থেকে তুলতে গেলে স্যান্ডেল ক্ষয় হয় কয়েক জোড়া। এইসব প্রতিবন্ধকতার কারণে টিভি স্টেশন থেকে তরুণরা মুখ ফিরায়ে নিতেছে। ভিড়তেছে এনজিও বা বিজ্ঞাপনের দিকে। কিন্তু এনজিও বা বিজ্ঞাপন তো সবার কাছে ধরা দেয় না। তাই বলে কি সিনেমার স্বপ্ন তারা বাস্তবায়ন করার চেষ্ট করবে না? তারা সেই সংগ্রামটা করতেছে সমাজ ব্যবস্থা আর নিজেদের সাথেই। অথচ টিভি স্টেশনগুলো একটু দায়িত্ব নিলেই আগামী ৫ বছরেই আমুল বদলে যেতে পারতো বাংলাদেশের সিনেমার চেহারা। যেহেতু এত সহজে হচ্ছে না, তারপরও তো হচ্ছে। ধীরে ধীরে, সেই ধীরে ধীরে হওয়ার চিন্তাই করি। কি আর করা!

কোন পথে সিনেমার স্বপ্ন?

at সোমবার, মে ২০, ২০১৩  |  No comments



 ০১.

গত বেশ কয়েকদিন যাবৎ একটা গল্প ভাবছিলাম। গল্প লিখবো বলে না, একটা ছোট সিনেমা বানাবো বলে। কিন্তু সেই গল্পটা আমার লেখা হয়ে উঠতেছে না। আমার বন্ধ্যাকাল চলতেছে কিনা জানিনা। আমি কিছুই লিখতে পারতেছিনা। আর এই না পারার দরুন সেই গল্পটাও একটা সম্ভাবনা হয়ে আমার দরজার কাছ  দিয়ে কেবল ঘুরঘুর করতেছে। তবে গল্পটা আমি লিখবোই এই বিষয়ে নিশ্চিত হই নিজের কাছে। তার আগে ভাবি, এই গল্পের চিত্রনাট্য লেখার আগে এর ভিজ্যুয়ালের মতো কিছু পাই কিনা। হ্যা, এই রকম খুঁজতে গিয়াই হঠাৎ ‘ট্রাইজ’ ছবিটা পাইয়া গেলাম। ছবিটা আন্তর্জাতিক মহলে তেমন কোনও প্রশংসিত ছবি না। আমি যুদ্ধ নিয়া কি কি ছবি আছে এমন ছবির রেফারেন্স ঘাটতে গিয়া এই ছবির খোঁজ পাই। এই ছবি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। এইখানে অন্য কথা বলার ইচ্ছা আমার।

ছোট ছবি মানে শর্ট ফিল্মের কথা বলতেছিলাম। দীর্ঘদিন আমি ভিজ্যুয়ালে কোনও কাজ করতেছিও না, কোনও কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্তও না। আর এই কাজ না করার ফলে আমি নিজেরে বহু দূরের মনে করতেছি। মনে হইতেছে, আমার ভেতরকার আমিটা কই জানি হারায়া গেছে। এই হারায়া যাওয়া আমিকেই খুঁজতে এই ছোট সিনেমার চিন্তা। কারণ ছোট সিনেমাই বানাইতে হইবো এইটা এখন নিশ্চিত। যেহেতু বড় মানে ফুল লেংথের সিনেমাবা বানারো সক্ষমতা ও সুযোগ কোনওটাই আমার এখনো আসে নাই। তাই ছোট সিনেমাই বানাইতে হইবো। তবে ছোট সিনেমার যেহেতু কোনও বাজার নাই, তাই ছোট সিনেমার জন্য প্রযোজকও নাই। আর তাই নো-বাজেটে কিভাবে ছোট সিনেমা বানানো যায়, তার চিন্তা করা দরকার। বলতে পারেন, ছোট সিনেমা না বানাইয়া আপনি নাটক বানান না কেন? নাটক বানাইলে তো অন্তত ভিজ্যুয়াল প্র্যাক্টিসটা হৈতো। আপনারে বলি, ভাই কেন যে নাটক বানাইনা এই কথাই কইতে আইছি। একটু সবুর করেন।

 ০২.

একদিন ছবির হাটে বইসা ছিলাম। মহিম জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ভাই এই সময়টাতে তো ছবি বানানোর হিড়িক পড়ছে। আপনি তো হিড়িকে গা ভাসানোর মানুষ না। আপনি কেন ছবি বানাবেন বইলা সিদ্ধান্ত নিছেন? আমি তারে নানান্ কথা বুঝাইলাম। কিন্তু সে বুঝবার চায় না। বলে, এইটা না আপনার আরো কোনও কথা আছে সেইটা বলেন। তখন আমি বলছিলাম, হিড়িকে গা ভাসানোর জন্য তো না’ই। বরং আমার মনে হয় সিনেমাটা আমার বানানো উচিত। অন্তত দেশের সিনেমার জার্নি আর বড় হওয়ার পর বিদেশী সিনেমা দেইখ্যা যেইভাবে বড় হইতেছি, তাতে মনে হইছিলো সিনেমারে আমার কিছুটা অন্তত দেয়ার আছে। সে আর কথা না বাড়াইয়া বলছিলো, এইবার মনে হয় আপনে ভেতরকার কথাটা কইছেন। হ্যা, এই সময়ে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে এই সিনেমা বানানোর প্রবণতাটা প্রচুর বাড়ছে। কেবল বাড়ছে বললে ভুল হবে, বলতে হবে এইটা একটা ক্রেজি রূপ নিছে। গত দশকে মানে শূন্য দশকে তেমনই কবিতা লেখার অবস্থা ছিলো। এই শূন্য দশকে কবিতর সংখ্যা ছিলো শত শত। এই এত এত কবির মধ্য থেইক্যা এখন গুনতে গেলে দশজন উল্লেখযোগ্য কবিকে খুইজ্যা বের করা মুশকিল হইয়া যায়। তার পরিবর্তে শাহবাগ, ছবির হাট, টিএসসিতে বসলেই এখন ডিরেক্টর। আর শুধু ডিরেক্টরই না। ঐখানে তিনটা ঢিল মারলেও আড়াইটাই মনে হয় কোনও না কোনও ডিরেক্টরের গায়ে গিয়া পরবো এমন অবস্থা। সবাই সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখে বা কেউ কেউ বানায়। তো এই অবস্থায় সিনেমার একটা সম্ভাবনা চোখে পড়ে না? শূন্য দশকে তেমন কবিতারও সম্ভাবনা ছিলো। এই সম্ভাবনায় যারা সাতরাইতে সাতরাইতে কুলের দিকে আসতেছেন তারা হয়ত পাড় দেখতে পারতেছেন। এর চেয়ে ভালো কথা, পরবর্তী দশকে এর দারুণ প্রভাবে কবিতা লেখকের সংখ্যা কইম্যা গেছে। আর এর ফলে যারা লিখতেছে অধিকাংশই যথেষ্ট সম্ভাবনাময় লেখাই লিখতেছে। এইটাও বিগত দশকের একটা ফল হিসাবে ধরলে ভবিষ্যতে সিনেমার এই সময়টা সত্যিই সম্ভাবনায়। তবে এত বিপুল নির্মাতা শ্রেণী কি আসলে তৈরি হৈতেছে? এইটা একটা প্রশ্ন বটে। আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আশপাশে তাকালে দেখি, তেমন একটা তৈরি হইতেছে না। কেমনে হবে? সেই সুযোগই তো তারা পাইতেছে না। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এই সুযোগটা আসলে কি? সুযোগটা নানান্ ভাবেই হইতে পারে। প্রথমত, ছোট ছোট সিনেমা বানাইয়া তারা প্রস্তুতিটা নিতে পারে বড় সিনেমার জন্য। এই ছোট সিনেমাই সবচে ভালো প্রস্তুতির ব্যবস্থা হৈতে পারতো। কিন্তু বাংলাদেশে ছোট সিনেমার কোনও ভাবেই কোনও বেইল করা করা গেলো না। আমাদের পূর্ব পুরুষ চলচ্চিত্র নির্মাতারাও তেমন একটা পারলেন না, আমারাও পারতেছিনা। অবশ্য সারা পৃথিবীতেই এইটা মানে এই ছোট সিনেমার বাজার তৈরি করাটা একটা মহা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে জিততে পারলে পৃথিবীর সিনেমা আরও বহু আগেই যে বদলাইয়া যাইতো তা আর বলতে হয় না। তো এই ছোট সিনেমার বাজার যেহেতু নাই, সেহেতু আর যেই বিকল্প মাধ্যমটা আমাদের হাতে আছে, সেইটাতেই চিন্তা করতেছিলো এই তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাময় নির্মাতারা। অন্তত গল্প বলার প্র্যাক্টিসটা এইখানে করতে পারে। কিন্তু এই জায়গাটাও আর সেই আগের মতো নাই। সেই জায়গাটা কি? সেই জায়গাটা টিভির এক খন্ডের নাটক। এইখানে একজন স্বপ্নবাজ তরুণ নির্মাতা তার পূর্ণাঙ্গ স্বপ্নের রূপায়্নের আগে, নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে পারতো। আমাদের টেলিভিশন মিডিয়ার এক জাদুকর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছিলো, পৃথিবীর অন্য সব দেশের টেলিভিশন সিনেমার ধ্বংস করে, আর আমাদের দেশের টেলিভিশন সিনেমা নির্মাতা বানায়।  এই কথা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বেশ কিছুটা সত্য। তিনি যখন এই কথা বলছিলেন, তখন ফারুকীর মতো আরো অনেক তরুণ নির্মাতা টিভিতে এই খন্ড নাটক বানাইয়া নিজেদের ডিরেক্টর হিসেবে এস্টাব্লিশমেন্ট করে ফেলছে। আর তাই টিভিতে এমন সব কাজও হৈছে, যেগুলো নিয়া আমরা আক্ষেপও করতে পারি এই কারণে যে, এইসব প্রডাকশন টিভিতে না হইলে থার্টি ফাইভে হইলে বা টিভিতে না দেখাইয়া যদি আন্তর্জাতিক ফ্যাস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হইয়া যাইতো, তাইলে তা নতুন সিনামায় রূপ পাইতো। কিন্তু সরয়ার ভাইয়ের এই কথা এখন তাই পুরোপুরি সত্য নয়। তার কারণে এই দেশে যেসব তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতারা টিভিতে নাটক বানিয়ে সিনেমার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর তাদের মতো সেই ক্ষেত্রটা পাচ্ছে না বলে। তাদের মতো তো দূরের কথা কোনও ক্ষেত্রই পাচ্ছে না বলা যায়। কারণ, একটা সময় টিভি স্টেশন মানেই নতুন নতুন আইডিয়া আর নতুন নতুন প্রোগ্রাম পাওয়া যাইতো। নতুন নতুন গল্প বলার চেষ্টা থাকতো। নতুন নতুন টিভিগুলো সেইসব নতুন গল্পের পেছনে ছুটতোও। কিন্তু একটা টিভি স্টেশন হওয়ার আগে চিন্তা করে ঐ চ্যানেলের এই অনুষ্ঠানটা জনপ্রিয়। সুতরাং আমারো এমন একটা বানাইতে হইবো। আর এমন করতে গিয়া তার অনুষ্ঠানে নতুনত্ব থাকে না। আর ঐ এক পর্বের খন্ড নাটক, যা পৃথিবীর বিরলতম একটা টিভি অনুষ্ঠান। এই নাটকে সবচে তীব্র ভাবে ঢুকে গেছে স্থুলতা। আর তাই এই স্থুল নাটকগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে আমাদের টিভি স্ট্যাশনগুলো। কারণ, ঐটাতে তার ব্যবসা হয় বিশেষ। এই স্থুল অনুষ্ঠান নির্মাণ আর স্থুল গল্পের নাটক নির্মাণের কারণে তার টিভির দর্শক যে হারিয়ে যাচ্ছে, সেই দিকে তার কোনও ভ্রুক্ষেপ নাই। তার কেবল দরকার ব্যবসা। আরে ভাই তোমার ব্যবসা টিকাইয়া রাখার জন্যও তো তোমার ভালো কিছু করতে হইবো, নাকি? আর টিভি স্ট্যাশনগুলোর এই ব্যবসার জন্যই তরুণ প্রজন্মের সিনেমার স্বপ্নটা ধূসর হয়ে যাচ্ছে।

 ০৩.

টিভিতে নাটক বানানোর মাধ্যমে সিনেমার প্রস্তুতি নেয়া যায় কারণ, টিভিতে নাটক বানানোর যে পদ্ধতিটা, এই পদ্ধতিটা সিনেমা বানানোর পদ্ধতিরই একটা প্রাথমিক সংস্করণ। আর এই মাধ্যমটাতে কাজ করে তাই আমাদের প্রজন্মের তরুণরা সিনেমার কথা ভাবতেছিলো। এখন এই নাটকের সাথে সিনেমার সম্পর্কটা কোন জায়গায় আর পার্থক্যটা কোন জায়গায় এইটাতে চোখ বুলাইলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথমত সিনেমা বড় ক্যানভাসের একটা শিল্প। আর এই শিল্পটাকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প বলা হয়। এই প্রসঙ্গে শুরুতে যে ‘ট্রাইজ’ ছবির কথা বললাম তার পরিচালকের একটু কথা উদ্ধৃতি করি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, ‘আমি মনে করি সিনেমা বানানো পৃথিবীর সবচে পূর্ণাঙ্গ কাজের একটা। এইখানে তোমাকে লেখক হইতে হইবো, রাজনীতিবিদ হইতে হইবো, ব্যবসায়ী হইতে হইবো, জীবনের রং দেখার ক্ষমতা থাকতে হইবো, তোমার জানতে হইবো কেমনে সিনামা হয়, কিভাবে কাটতে হয় তা জানতে হইবো, অভিনয়টা কি তাও জানতে হৈবো, মিউজিক তো বটেই। তারপরে না তুমি সিনেমা বানাইবা।’ এখন সিনেমার এইসব বিষয়ের অধিকাংশ বিষয়ই নাটকের সাথে জড়িত। সেই হিসেবে টিভি নাটক বলতে গেলে সিনেমার ড্রেস রিহার্সাল। কিন্তু সিনেমার পর্দা, দর্শক থেকে শুরু করে বিস্তৃতির জায়গা পর্যন্ত বিশাল হওয়ায় এর বাজেটটা ও আয়োজনেও বিশালত্ত্বটা থাকে। কিন্তু নাটকটা ড্রয়িং রুম মাধ্যম বলে তার সেই অনুপাতিক বাজেট থাকে না। কিন্তু তারপরও তুলনামূলক কম বাজেটে সেই প্রস্তুতিটা নেওয়ার চিন্তা কিন্তু করাই যায়। কিন্তু তার বিপরীতে কি হয়? একটু বাস্তব চিত্রটা দেখি।

 ০৪.

আমাদের দেশে অনুষ্ঠান প্রচার হয় এমন চ্যানেল আছে প্রায় এক ডজনেরো বেশী। প্রত্যেকটা চ্যানেলে যদি সপ্তাহে দুইটা করেও নতুন একটা করে খন্ড নাটক চালায় তাহলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০টা নতুন নাটক নির্মাণ করতে হয়।  এখন এই নাটকের অধিকাংশই যদি প্রতিষ্ঠিত নাট্য নির্মাতারা নির্মাণ করতো, তাহলেও মাসে কমপক্ষে ১০টা নতুন নাটক নির্মাণের সুযোগ পাইতো একজন তরুণ নাট্য নির্মাতা। এই সুযোগটা তারা পায় না। আর এর বাইরে তার একটা নাটক নির্মাণ করতে গেলে যে ধকলটা পোহাইতে হয়, তাও রীতিমত কম না। সবচে বড় যে বিষয়টা তার প্রথমেই ফেইস করতে হয় তা হৈলো টাকা বা প্রডিউসার যোগার করা। বাংলাদেশে ট্রাডিশনাল ওয়েতে টিভি নাটকের প্রডিউসার যোগার করা রীতিমত এলাহি কাণ্ড। পুরনো যারা প্রতিষ্ঠিত নির্মাতা, তারা শুরুতে এইসব ঝামেলা পোহাইছে বইলা এখন তারা নিজেরাই নিজেদের প্রোডাকশন হাউজগুলোর অধীনে কাজ করে। তারা আর কেবলমাত্র নির্মাতা থাকে না। তাই এক প্রকার প্রযোজক হওয়ার চিন্তা নিয়াই পরিচালনার কথা চিন্তা করতে হয় সিনেমার স্বপ্ন দেখা তরুণের। আর যদি কোনও ভাবে একজন প্রযোজক যোগার হয়েই যায়, তবে কি? কাজ শেষ? মোটেও না। এইখানে আছে অনেক কিন্তু। প্রযোজক তো বাণিজ্য করার জন্য টাকা দিচ্ছে। এখন একজন তরুণ নির্মাতার প্রোডাকশনে যখন একজন প্রযোজক টাকা লগ্নি করেন, তখন তার ব্যবসা ছাড়াও একাধিক দিকে সুবিধা আদায় করার চিন্তা থাকে। তার অন্যতম কারণ তার লগ্নিকৃত টাকা কবে ফেরৎ আসবে তার অনিশ্চয়তা। কারণ একটা নাটক যখন নির্মাণ হয় প্রযোজকের পকেট থেকে টাকাটা ব্যায় হয়ে যায় তখনই। বিপরীত দিকে এই টাকা ফেরৎ আনার প্রসেসটা কেবল দীর্ঘই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা অনির্দিষ্টকালের হয়ে যায়। যেমন, একটা নাটক যদি টিভি চ্যানেলের এ্যাসাইন করা না থাকে (তরুণ নির্মাতাদের নাটক কখনোই এ্যাসাইন করা থাকে না) তাহলে এই নাটক বিক্রির জন্য কম পক্ষে ১০টা টিভি চ্যানেলে প্রিভিউ এর জন্য জমা দিতে হয়। তাদের অনেকে নতুন পরিচালকের নাটক দেখেই না। অনেক চ্যানেলের তো প্রিভিউ কমিটিই নাই। কোনওটার থাকলেও তা কাজ করে না। এইসব উজিয়ে নাটকটা লাভ আর লস যাই হোক কোনও একটা জায়গায় গিয়ে যখন বিক্রি হয়, তার কিছুদিনের মাঝে তা প্রচারও হয়ে যায়। আর প্রচারের সময় দেখা যায় প্রতি বিরতিতে বিজ্ঞাপনের অভাব নেই। এত এত বিজ্ঞাপন নিয়ে নাটক প্রচার করলেও এই নাটকের মূল্য কিন্তু পরিশোধ কবে করবে তার নিশ্চয়তা নেই। হাতে গোনা দুই একটা টিভি চ্যানেল এই জায়গায় ব্যতিক্রম। তাই নাটকের পেছনে লগ্নিকারী প্রযোজক নাট্য নির্মাতা, অভিনেতা, অভিনেত্রীদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চিন্তা প্রায়ই করে থাকে।  তার জন্য এক দিক দিয়ে অবশ্য দায়ি আমাদের টিভি স্ট্যাশনগুলো। টিভি স্ট্যাশনগুলো একটা নাটক প্রচারের পর আর কোনও কিছুর চিন্তা করতে চায় না। দেশের টিভি স্টেশনগুলো যদি ন্যুনতম প্রফেশনাল চরিত্রটা ধরে রাখতো, তাহলে তরুণ নির্মাতাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাটা এই তুমুল চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অথচ দেড়-দুই লাখ টাকা দিয়ে যখন একটা নাটক টিভি চ্যানেল কিনে, তার মাঝে যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন তারা চালায় তার শতকরা ১০% ভাগও যদি প্রডাকশন কোম্পানী পায় তাহলে প্রযোজনা ব্যবসাটাই একটা বিশাল শিল্পে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারতো। টিভি স্টেশনগুলো বুঝতেই চায়না একটা তরুণ নির্মাতা কতটা কষ্ট কইরা এই দেড়-দুই লাখ টাকায় একটা নাটক দাঁড় করায়। কারণ সিনিয়ার নির্মাতারা যেখানে প্রতি নাটকে চার থেকে-আট লাখ টাকা পায়, সেখানে তার একটা নাটকের দেড় লাখ টাকা বাজেটে তার নিজের জন্য কিছুই থাকে না। অথচ তরুণদের প্রতিটা প্রডাকশনের প্রতিটা ভাজে লুকানো থাকে তার শ্রম। কারণ সে ভাল লেখকের চিত্রনাট্য কিনতে পারে না টাকার অভাবে। নিজেরই গল্প, চিত্রনাট্য লিখতে হয়। ভালো এসিস্ট্যান্ট নিতে গেলেও যে টাকা দেয়া লাগে তাও দেয়ার ক্ষমতা থাকে না। ভালো সিনেমাটোগ্রাফারের তো আর বড় বাজেট থাকে। আর তরুণদের জন্য ভালো অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে শিডিউল নিতে নিতে যে ফোন বিল হয় সেইটাই তো বিশাল অংকে রূপ নেয়। আর তাদের আচরণ তো কারো অজানা না। এই হবে না, এই করবো না, এই করি না। কত যে বাহানা! এইসব বাহানার মাঝ দিয়েও তার উপর চাপ থাকে প্রডিউসারের, তিনদিনের শিডিউল দুই দিনে শেষ করেন। নইলে টাকায় কুলাইতে পারবো না। এই ভাবনা নিয়া তারা কাজ করে। আর বিক্রির পর এই টাকা চ্যানেল থেকে তুলতে গেলে স্যান্ডেল ক্ষয় হয় কয়েক জোড়া। এইসব প্রতিবন্ধকতার কারণে টিভি স্টেশন থেকে তরুণরা মুখ ফিরায়ে নিতেছে। ভিড়তেছে এনজিও বা বিজ্ঞাপনের দিকে। কিন্তু এনজিও বা বিজ্ঞাপন তো সবার কাছে ধরা দেয় না। তাই বলে কি সিনেমার স্বপ্ন তারা বাস্তবায়ন করার চেষ্ট করবে না? তারা সেই সংগ্রামটা করতেছে সমাজ ব্যবস্থা আর নিজেদের সাথেই। অথচ টিভি স্টেশনগুলো একটু দায়িত্ব নিলেই আগামী ৫ বছরেই আমুল বদলে যেতে পারতো বাংলাদেশের সিনেমার চেহারা। যেহেতু এত সহজে হচ্ছে না, তারপরও তো হচ্ছে। ধীরে ধীরে, সেই ধীরে ধীরে হওয়ার চিন্তাই করি। কি আর করা!

Read More

বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হাইফা আল-মানসুর এর ছবি ‘ওয়াজদা’ ২০১২ তে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয়েছে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে তিনটি পুরস্কার পাবার পর দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-১২ তে চারটি শাখায় পুরস্কার জিতে নেয় ‘ওয়াজদা’। সব মিলে এই সৌদি নির্মাতার প্রথম ছবি তার ঝোলায় পুড়েছে ১০টি পুরস্কার ও দুটি নমিনেশন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সে প্রথম শো হয়েছে। এই উপলক্ষে ফ্রান্সের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ফ্রান্স ২৪ এই নারী নির্মাতার এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এই সাক্ষাৎকারটির ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি বেড়ে উঠেছেন এমন একটি দেশে, যে দেশে সিনেমা হল নেই। তো এমন একটি দেশ থেকে আপনি সিনেমা বানানোর চিন্তাটা কি করে করলেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি একটি ছোট শহরে বড় হয়েছি। যে শহরটিতে কোনও সিনেমা হল নেই, কিন্তু প্রচুর ভিডিও ক্যাসেট ভাড়ায় পাওয়া যেত। বাচ্চারাসহ আমাদের পরিবারে বার জন সদস্য। আমার বাবা (সৌদি আরবের কবি আব্দুল রহমান মনসুর) একদিন আমাদেরকে সিনেমা দেখার জন্য এনে দিলেন। এর মাধ্যমে যেন আমরা বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারি। তখন আমি আমরা প্রচুর ছবি দেখেছি। যার মধ্যে রয়েছে হলিউডের মেইনস্ট্রিম ছবি যেমন ব্রুস লি, জ্যাকি চ্যান ছিলো। ছিলো প্রচুর পরিমাণে অন্য আমেরিকান ছবি, ভারতীয় ছবি ও মিশরীয় ছবিও। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি আমাদের বাইরের পৃথিবীটা কেমন। এবং এর মাধ্যমে দেখেছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরণের ভাবনার বহুরৈখিক রূপ। তখন থেকেই সিনেমা আমার অনুভূতির সাথে মিশে গিয়েছে। আমার মনে পরে আমি প্রথম ‘স্নো হোয়াইট’ নামের ওয়াল্ট ডিজনীর একটি ছবিটি দেখেছিলাম। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম তা দেখে। তারও বছর খানেক পরে, আরও অনেক ছবি আমার ‘ওয়াজদা’র অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার মাঝে রয়েছে ভিক্টোরিও ডি সিকা’র ‘বাইসাইকেল থিফ’ এবং চলচ্চিত্রের নব্য বাস্তববাদ আন্দোলন ও আমাকে আমার গন্তব্যের দিকে যেতে সহযোগীতা করেছে ইরানের পরিচালক জাফর পানাহির ‘অফসাইড’। যাকে আমার মনে হয়েছিলো জীবনের রঙিন ও আনন্দের মধ্য দিয়ে জীবনের গল্পটা বলা যায়। সবকিছুর পরও দারদেনে ব্রাদার্সের ‘রোসেটা’ ছবিটা আমাকে দেখিয়েছে একজন মহিলা গল্পকার কিভাবে গল্পকে নিজের মতো করে বলতে পারে। আমি এসব থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি যখন সিনেমা বানানোর চিন্তা করলেন, তখন কোন দর্শকদের কথা ভেবেছিলেন? আপনি কি ইউরোপের দর্শকদের সৌদি আরবের নারীদের জীবন যাপন দেখাতে চেয়েছেন? নাকি অন্য নারীদের দেখাতে চেয়েছেন সৌদি আরবের মতো একটা দেশে নারীরা কিভাবে জীবন যাপন করে?

হাইফা আল মনসুর : দুটোই। আসলে আমি চেয়েছিলাম, সব শ্রেণীর দর্শকরা আনন্দের সাথে ছবিটি দেখুক। পাশাপাশি আমি সৌদি আরবের জীবনের একটি চিত্রও যোগ করতে চেয়েছি, কিন্তু সব সময় সব করা যায় না এটা সৌদি আরবের, মিশরের বা অন্য আরব দেশগুলোর লোকজন জানে। তারপরও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, সৌদি আরবের লোকজন এটা তাদের নিয়ে ও তাদেরই সিনেমা হিসেবে মনে করে এবং এর জন্য তারা গর্ববোধ করে। এই ছবিটিকে লক্ষ্য এবং উৎসর্গের জায়গা থেকে দেখতে হবে, কারণ এটা সৌদি আরবেরই জীবন থেকে উঠে আসা। একই সাথে আমি মনে করি এই ছবি সৌদি আরবের সিনেমাকে উৎসাহী করবে।

ফ্রান্স ২৪ : এই মুহূর্তে সৌদি আরবের সিনেমার জন্য কি সবচেয়ে ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন?

হাইফা আল মনসুর : সৌদি আরবের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নেই। সৌদি আরবের অনেক মানুষ তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সাথে আপোষ করে, যা বাধ্যতামূলক নয়। সেই জায়গায় মানুষ সিনেমা বানাতে চাইছে, তাই সেখানে তার ব্যবস্থা করা উচিত। যদিও এখনো অনেকেই সেখানে সিনেমা নিয়ে বিতর্ক করে, তবুও অনেক মানুষ এখন সিনেমাকে গ্রহণ করছে। তাই সরকারের উচিত সৌদিতে সিনেমাকে উন্মুক্ত করে দেয়া।

ফ্রান্স ২৪ : আপনি একজন নির্মাতা হিসেবে সৌদি আরবে কেমন মনে করছেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি রাজনীতি সচেতন ব্যাক্তি। আমার সাথে কিছু মানুষ রয়েছে, আরও বেশী নারীরা স্বাভাবিক জনজীবনের সাথে সম্পৃক্ত হউক এমনটা তারা দেখতে চায়। এমনকি আমার প্রতিপক্ষের মানুষ রয়েছে। মূলত সৌদি আরব একটি রক্ষণশীল দেশ, দেশের বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকরা তাদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাইরের কোনও কিছুকে স্বাগতমত জানাতে চায় না। আমি এমন এক সীমাবদ্ধ পরিবেশে কাজ করি, তার পরও আমি বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে আমার মতামত তুলে ধরি। সাধারণভাবে আক্রমনাত্মক অবস্থান থেকেই আমি আমার কথাগুলো বলি এবং আমি বরাবরই সৌদি আরবের নারীদের স্বাধীনতার পক্ষেই কথা বলে এসেছি। তারমানে আমি মুখের উপর কথা বলছি না। ‘ওয়াজদা’য় আমি যেমন একটি নারীর গল্প বলেছি, কিন্তু আমি দেখিয়েছি একটি শিশুকে। আমি সংলাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি, এবং আমার ধারণা মানুষ এটিকে সমর্থন জানাচ্ছে।

ফ্রান্স ২৪ : ‘ওয়াজদা’ যখন টিভিতে বা ডিভিডিতে সৌদি আরবে মুক্তি পাবে তখন কেমন প্রতিক্রিয়া আশা করছেন?

হাইফা আল মনসুর : দুবাই ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে যখন ছবিটি দেখায়, তখন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। ছবিটি ভেনিসে প্রদর্শণের পর তখন অনেক সৌদি আরবের অনেকেই দুবাইয়ে ছবিটি দেখতে এসেছিলো। তারা কিন্তু ছবিটি পছন্দ করেছে। কেউ কেউ বলেছে তারা ছবির কিছু কিছু স্থানে প্রাণ খুলে হেসেছে। এটা নিশ্চিত যে, চলচ্চিত্র উৎসবে যারা গিয়েছে তারা সবাই উচ্চবিত্তের এবং শিক্ষিত। এখন আমারা দেখতে অপেক্ষা করছি ছবিটি সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ কিভাবে গ্রহণ করবে। আমার ধারণা তারা আমার চিন্তার জায়গাটা ধরতে পারবে। এটি একটি কিশোরীর গল্প, যে কিনা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। যদি কোন বাবা এ ছবি দেখে তার মেয়ের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে সেটাই আমার জন্য অনেক কিছু হয়ে দাঁড়াবে।

ফিল্মম্যাকারের গল্প

at বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৩  |  No comments

সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হাইফা আল-মানসুর এর ছবি ‘ওয়াজদা’ ২০১২ তে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয়েছে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে তিনটি পুরস্কার পাবার পর দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-১২ তে চারটি শাখায় পুরস্কার জিতে নেয় ‘ওয়াজদা’। সব মিলে এই সৌদি নির্মাতার প্রথম ছবি তার ঝোলায় পুড়েছে ১০টি পুরস্কার ও দুটি নমিনেশন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সে প্রথম শো হয়েছে। এই উপলক্ষে ফ্রান্সের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ফ্রান্স ২৪ এই নারী নির্মাতার এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এই সাক্ষাৎকারটির ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি বেড়ে উঠেছেন এমন একটি দেশে, যে দেশে সিনেমা হল নেই। তো এমন একটি দেশ থেকে আপনি সিনেমা বানানোর চিন্তাটা কি করে করলেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি একটি ছোট শহরে বড় হয়েছি। যে শহরটিতে কোনও সিনেমা হল নেই, কিন্তু প্রচুর ভিডিও ক্যাসেট ভাড়ায় পাওয়া যেত। বাচ্চারাসহ আমাদের পরিবারে বার জন সদস্য। আমার বাবা (সৌদি আরবের কবি আব্দুল রহমান মনসুর) একদিন আমাদেরকে সিনেমা দেখার জন্য এনে দিলেন। এর মাধ্যমে যেন আমরা বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারি। তখন আমি আমরা প্রচুর ছবি দেখেছি। যার মধ্যে রয়েছে হলিউডের মেইনস্ট্রিম ছবি যেমন ব্রুস লি, জ্যাকি চ্যান ছিলো। ছিলো প্রচুর পরিমাণে অন্য আমেরিকান ছবি, ভারতীয় ছবি ও মিশরীয় ছবিও। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি আমাদের বাইরের পৃথিবীটা কেমন। এবং এর মাধ্যমে দেখেছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরণের ভাবনার বহুরৈখিক রূপ। তখন থেকেই সিনেমা আমার অনুভূতির সাথে মিশে গিয়েছে। আমার মনে পরে আমি প্রথম ‘স্নো হোয়াইট’ নামের ওয়াল্ট ডিজনীর একটি ছবিটি দেখেছিলাম। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম তা দেখে। তারও বছর খানেক পরে, আরও অনেক ছবি আমার ‘ওয়াজদা’র অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার মাঝে রয়েছে ভিক্টোরিও ডি সিকা’র ‘বাইসাইকেল থিফ’ এবং চলচ্চিত্রের নব্য বাস্তববাদ আন্দোলন ও আমাকে আমার গন্তব্যের দিকে যেতে সহযোগীতা করেছে ইরানের পরিচালক জাফর পানাহির ‘অফসাইড’। যাকে আমার মনে হয়েছিলো জীবনের রঙিন ও আনন্দের মধ্য দিয়ে জীবনের গল্পটা বলা যায়। সবকিছুর পরও দারদেনে ব্রাদার্সের ‘রোসেটা’ ছবিটা আমাকে দেখিয়েছে একজন মহিলা গল্পকার কিভাবে গল্পকে নিজের মতো করে বলতে পারে। আমি এসব থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি যখন সিনেমা বানানোর চিন্তা করলেন, তখন কোন দর্শকদের কথা ভেবেছিলেন? আপনি কি ইউরোপের দর্শকদের সৌদি আরবের নারীদের জীবন যাপন দেখাতে চেয়েছেন? নাকি অন্য নারীদের দেখাতে চেয়েছেন সৌদি আরবের মতো একটা দেশে নারীরা কিভাবে জীবন যাপন করে?

হাইফা আল মনসুর : দুটোই। আসলে আমি চেয়েছিলাম, সব শ্রেণীর দর্শকরা আনন্দের সাথে ছবিটি দেখুক। পাশাপাশি আমি সৌদি আরবের জীবনের একটি চিত্রও যোগ করতে চেয়েছি, কিন্তু সব সময় সব করা যায় না এটা সৌদি আরবের, মিশরের বা অন্য আরব দেশগুলোর লোকজন জানে। তারপরও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, সৌদি আরবের লোকজন এটা তাদের নিয়ে ও তাদেরই সিনেমা হিসেবে মনে করে এবং এর জন্য তারা গর্ববোধ করে। এই ছবিটিকে লক্ষ্য এবং উৎসর্গের জায়গা থেকে দেখতে হবে, কারণ এটা সৌদি আরবেরই জীবন থেকে উঠে আসা। একই সাথে আমি মনে করি এই ছবি সৌদি আরবের সিনেমাকে উৎসাহী করবে।

ফ্রান্স ২৪ : এই মুহূর্তে সৌদি আরবের সিনেমার জন্য কি সবচেয়ে ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন?

হাইফা আল মনসুর : সৌদি আরবের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নেই। সৌদি আরবের অনেক মানুষ তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সাথে আপোষ করে, যা বাধ্যতামূলক নয়। সেই জায়গায় মানুষ সিনেমা বানাতে চাইছে, তাই সেখানে তার ব্যবস্থা করা উচিত। যদিও এখনো অনেকেই সেখানে সিনেমা নিয়ে বিতর্ক করে, তবুও অনেক মানুষ এখন সিনেমাকে গ্রহণ করছে। তাই সরকারের উচিত সৌদিতে সিনেমাকে উন্মুক্ত করে দেয়া।

ফ্রান্স ২৪ : আপনি একজন নির্মাতা হিসেবে সৌদি আরবে কেমন মনে করছেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি রাজনীতি সচেতন ব্যাক্তি। আমার সাথে কিছু মানুষ রয়েছে, আরও বেশী নারীরা স্বাভাবিক জনজীবনের সাথে সম্পৃক্ত হউক এমনটা তারা দেখতে চায়। এমনকি আমার প্রতিপক্ষের মানুষ রয়েছে। মূলত সৌদি আরব একটি রক্ষণশীল দেশ, দেশের বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকরা তাদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাইরের কোনও কিছুকে স্বাগতমত জানাতে চায় না। আমি এমন এক সীমাবদ্ধ পরিবেশে কাজ করি, তার পরও আমি বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে আমার মতামত তুলে ধরি। সাধারণভাবে আক্রমনাত্মক অবস্থান থেকেই আমি আমার কথাগুলো বলি এবং আমি বরাবরই সৌদি আরবের নারীদের স্বাধীনতার পক্ষেই কথা বলে এসেছি। তারমানে আমি মুখের উপর কথা বলছি না। ‘ওয়াজদা’য় আমি যেমন একটি নারীর গল্প বলেছি, কিন্তু আমি দেখিয়েছি একটি শিশুকে। আমি সংলাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি, এবং আমার ধারণা মানুষ এটিকে সমর্থন জানাচ্ছে।

ফ্রান্স ২৪ : ‘ওয়াজদা’ যখন টিভিতে বা ডিভিডিতে সৌদি আরবে মুক্তি পাবে তখন কেমন প্রতিক্রিয়া আশা করছেন?

হাইফা আল মনসুর : দুবাই ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে যখন ছবিটি দেখায়, তখন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। ছবিটি ভেনিসে প্রদর্শণের পর তখন অনেক সৌদি আরবের অনেকেই দুবাইয়ে ছবিটি দেখতে এসেছিলো। তারা কিন্তু ছবিটি পছন্দ করেছে। কেউ কেউ বলেছে তারা ছবির কিছু কিছু স্থানে প্রাণ খুলে হেসেছে। এটা নিশ্চিত যে, চলচ্চিত্র উৎসবে যারা গিয়েছে তারা সবাই উচ্চবিত্তের এবং শিক্ষিত। এখন আমারা দেখতে অপেক্ষা করছি ছবিটি সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ কিভাবে গ্রহণ করবে। আমার ধারণা তারা আমার চিন্তার জায়গাটা ধরতে পারবে। এটি একটি কিশোরীর গল্প, যে কিনা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। যদি কোন বাবা এ ছবি দেখে তার মেয়ের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে সেটাই আমার জন্য অনেক কিছু হয়ে দাঁড়াবে।

Read More

এই সাইটের যে কোনও লেখা যে কেউ অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে। তবে লেখকের নাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

Blogger template Proudly Powered by Blogger. Arranged By: এতক্ষণে অরিন্দম