বুধবার, ১ মে, ২০১৩


০১.
এই যে আমি, কালিদাসের ডাকে পাঠানো চিঠিতে এই যুগে এসে জন্মিয়েছি।
হ্যা। অবশেষে এই পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছি যে আমি আসলে আমি নই, পূর্বে জন্মে কালিদাস আমাকে চিঠি হিসেবে পাঠিয়েছিলো। আকশ পথ ভুলে চলে এসেছি এই জমানায়। দেখি জমানার লাল-নীল-হলুদ-সবুজ আকাশ। আর ভেবে পাই না আমি কে, কি বা আমার পরিচয়। মিথ্যে নয়, আমি কালিদাসের ডাকে পাঠানো চিঠি। তোমার পরিচয় বলো।

নবজন্মের কাছাকাছি

at বুধবার, মে ০১, ২০১৩  |  1 comment


০১.
এই যে আমি, কালিদাসের ডাকে পাঠানো চিঠিতে এই যুগে এসে জন্মিয়েছি।
হ্যা। অবশেষে এই পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছি যে আমি আসলে আমি নই, পূর্বে জন্মে কালিদাস আমাকে চিঠি হিসেবে পাঠিয়েছিলো। আকশ পথ ভুলে চলে এসেছি এই জমানায়। দেখি জমানার লাল-নীল-হলুদ-সবুজ আকাশ। আর ভেবে পাই না আমি কে, কি বা আমার পরিচয়। মিথ্যে নয়, আমি কালিদাসের ডাকে পাঠানো চিঠি। তোমার পরিচয় বলো।

Read More

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৩


মন মেজাজ খুব খারাপ। যথেষ্ঠ খারাপ। যতটা না অন্যের প্রতি তার চেয়ে বেশী নিজের প্রতি। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে কত যে চেষ্টা করে আসছি, সব ব্যর্থ। মনের যে অদ্ভুত এক ধর্ম আছে সে কারোও কথা শুনে না। যদি না অপারগ হয়। ন্যুনতম সুযোগ থাকলে সে ঠিকই পল্টি দেয়। এমন একটা কাজের জন্যই আজ মন মেজাজ ভয়ঙ্কর খারাপ। কোনও কাজ হচ্ছে না। আর তাই যে কথাটি না বলতে পরে মনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, সেই কথাটি বলবো। বলবো-প্রিয় শিউলীমালা, তোমাকে ভালোবাসি।
হ্যা শিউলীমালা। তোমাকে ভালোবাসি বলেই আজ মন মেজাজ খুব খারাপ। আমি জানি তোমার কাছে আমার এই অনুভূতির কোনও মূল্য নেই। কিন্তু আমার কাছে যে আছে। আমিতো আমার এইসব অনুভূতিকে সম্বল করেই বেঁচে থাকবো। আমার যে গোপনে বেড়ে ওঠা এইসব অনুভূতির গাছগুলোতে ফুল ফোটানোর লক্ষ্যেই পৃথিবীতে আসা।
গুছিয়ে কথা বলার ধাত আমার কখনোই ছিলো না। এর জন্য আমাকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। আমি অনেক বন্ধুবৎসল মানুষ হারিয়েছি। তবে হ্যা, এই অগোছালো-এলোমেলো ভাবনার ভেতরই বেড়ে ওঠেছে আমার স্বপ্ন। স্বপ্নটা কিন্তু গোছানো। যদিও স্বপ্নের গন্তব্য এখনো অনেক দূর। জানি, মরুদ্যানের পানির লোভে এই মরুময় পথ আমাকে- হ্যা আমাকে একাই পাড়ি দিতে হবে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, আমি এই পথের সঙ্গি হিসেবে তোমাকে ভেবেছিলাম। আমার ধারণা ভাবনাটা অমূলক বলে প্রমাণ করছো তুমি।
নিজের একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম আমি অবজ্ঞাকে কিভাবে অবজ্ঞা করতে হয় শিখে গেছি আসলে শিখিনি। শিখতে পারিনি, অনুভূতির ভাড়ারে এখনো কিছু রয়েছে বলে। তোমার কাছে অল্প কিছু সময় চেয়েছিলাম। কেন সময় চেয়েছিলাম তা সরাসরি না বলে অন্য যে কোনও উপায়ে বলতে পারতাম। বিশ্বাস করো, আশার আয়না প্রত্যাখ্যানের আঘাতে চূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে জেনেও আমি মুখোমুখি বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তোমার পৃথিবী বড় তোমার মতোই। তোমার কথাই শোনে। অথচ, আমার পৃথিবী আমার চারপাশের মানুষগুলোর অনুভূতির খোঁজ-খবরও রাখে। তুমিও হয়তো তেমনই, কিন্তু আমি সেই আকাশে স্থান পাই নি। সমস্যাটা এখানেই। আর তাই তোমার অনুভূতিগুলোকে আমি যতটা ছোঁয়ার চেষ্টা করি, তুমি ততই দূরে সরে যাও। অথচ পৃথিবীর আকাশ কিন্তু ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। পৃথিবীটাই তো হাতের একটা মুঠোয় বন্দী। তুমিও কি তার বাইরে?
প্রিয়তমা শিউলীমালা,
আগামীকালও একটা সকাল হবে। রোজকার নিয়মত মত সবই চলবে। চলবে গাঙ শালিখের কিচির-মিচির।  তোমার চারপাশের জানালায় যে বাতাস বইবে, হয়তো সেই বাতাসে লেগে থাকবে আমার অনুভূতি পোড়ার গন্ধ। কিন্তু এইসব ভুল অনুভূতির কথা বারবার বলতে চেয়ে নিজেকে বিব্রত করার শ্রেষ্ঠতম উপায় আমিই আবিষ্কার করি কেন যেনো। অথচ শুরুটা কিন্তু মোটেও আমার নয়। শুরুর কথাটা একটু পরই বলি। একটা ছবি দেখেছিলাম, ‘হি লাভস মি-হি লাভস মি নট’ নামে। ছবির গল্পটা আগে বলি। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে একজন নারী চিত্রশিল্পী। সে তার প্রতিবেশী এক ডেন্টিস্টের প্রেমে পড়ে। সে তাকে জানায় তার ভালোবাসার কথা। যদিও তার স্ত্রী রয়েছে, তবুও সে ভেবে নেয় ঐ ডাক্তার তাকে ভালোবাসে। কিন্তু সে জানেনা ঐ ডাক্তার তার স্ত্রীর ভালোবাসাকে অতিক্রম করে অন্য কোনও নারীর প্রেমে পড়ার অবস্থায় নেই। এদিকে এই মেয়েটি ভেবে বসে থাকে যে, ডাক্তার তার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তাকে ভালোবাসে। ছবিটির প্রথম ভাগটি আমরা দেখেছিলাম মেয়েটির দৃষ্টিভঙ্গির স্থান থেকে। সেখানে আমাদের মনে হয় ডাক্তার ছেলেটি বোধহয় সত্যি তার স্ত্রীকে রেখে এই পেইন্টার মেয়েটির প্রেমে পড়েছে। ছবির দ্বিতীয়ভাগে আমরা দেখি ডাক্তারের দৃষ্টিভঙ্গির অবস্থা থেকে। এখান থেকে দেখা যায়, মেয়েটি যেসব ঘটনা দেখে ভেবে বসেছিলো ছেলিট তাকে ভালোবাসে তা ভুল। এবঙ কেবলমাত্র কাকতালিয় না বললেও আকস্মিক বলা যায়। মেয়েটি সব জেনেশুনে কিন্তু ভুলটা ভাঙে না। দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা হয় মানসিক হাসপালে। একসময় সে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়। কিন্তু সে তবুও মনে করে সেই ডাক্তার তাকে ভালোবাসে। ছবিটি দেখার পর আমার তোমার প্রতি ধারণা পাল্টায়। আমি যেসব লক্ষণ ভেবে তোমাকে আমার মতো করে ভাবতাম, সেসব লক্ষণ তোমার মত করে ভাবতে গিয়ে সত্যি বিশাল দূরত্বের এক দুনিয়ার সন্ধান পাই। সেই দুনিয়ার কাছে গিয়ে দেখি আমি পথে হাটা আর দশটা পরিচিত মানুষের একজন কেবল। অথচ এর চেয়ে কিছুটা বেশী প্রত্যাশা ছিলো। সেই প্রত্যাশার পালে দোলা দিয়েছিলো যেসব সম্ভাবনা। তার গল্পের স্থলে নিজেকে সেই চিত্রকর মেয়েটির মতো মনে করে চিত্রনাট্য সাজাই। মিলে যায়। যোগ-বিয়োগ আর ভাগ-পুরনের জটিলতায় যাওয়ার প্রয়োজনই হয় না।
হ্যা, এবার শুরুর গল্পটা স্মরণ করা যায়। তোমার থেকে আসা সেই আহ্বানের গল্প। আমি জানি, আমি কখনোই দশদজের দলের মানুষ নই। আমি একাদশও নই। আমি দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ। তাই আমার কাছে যদি কখনো আশ্চর্য কিছু হাজির হয়, আমি মুগ্ধ হওয়ার বদলে কিছুটা সন্দেহের দিকেই তাকাই। তোমার সে আহ্বানেও আমি তাই তাকিয়েছিলাম। তোমার সাথে যোগাযোগ সহজ হয়েছিলো তার যতটা না তোমার কল্যানে তার চেয়ে বেশী আমার কল্যানে। শুরু দিকে তোমার অনুভূতির কথাগুলো প্রায়ই মনে হতো আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা। কিন্তু ঐ ভুল আমার ভেঙেছে বলে জেনেছি তুমি উত্তম। তাই সেই ভাষায় বলা কথা বোকা তোতার মতো আমি নিজের ভেবেছি। ভাবনাগুলো যে রঙে রাঙানো ছিলো, সে রঙ নির্বাচন ভুল ছিলো বলেই তো এইসব অর্থহীন প্রলাপ। আর অনুভূতির অর্থহীনতাই যে অব্যক্ত ভালোবাসা- এই কথা কবি আরো দীর্ঘ দিন আগে বলে গেছেন। আমি তাই আমার মতোই বাঁচি- খোলা হাওয়ায় এক বেহিসেবি যন্ত্রমানব হিসেবে। তুমি বরং ভালো থেকো শিউলীমালা।

তুমি বরং ভালো থেকো

at শুক্রবার, এপ্রিল ০৫, ২০১৩  |  1 comment


মন মেজাজ খুব খারাপ। যথেষ্ঠ খারাপ। যতটা না অন্যের প্রতি তার চেয়ে বেশী নিজের প্রতি। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে কত যে চেষ্টা করে আসছি, সব ব্যর্থ। মনের যে অদ্ভুত এক ধর্ম আছে সে কারোও কথা শুনে না। যদি না অপারগ হয়। ন্যুনতম সুযোগ থাকলে সে ঠিকই পল্টি দেয়। এমন একটা কাজের জন্যই আজ মন মেজাজ ভয়ঙ্কর খারাপ। কোনও কাজ হচ্ছে না। আর তাই যে কথাটি না বলতে পরে মনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, সেই কথাটি বলবো। বলবো-প্রিয় শিউলীমালা, তোমাকে ভালোবাসি।
হ্যা শিউলীমালা। তোমাকে ভালোবাসি বলেই আজ মন মেজাজ খুব খারাপ। আমি জানি তোমার কাছে আমার এই অনুভূতির কোনও মূল্য নেই। কিন্তু আমার কাছে যে আছে। আমিতো আমার এইসব অনুভূতিকে সম্বল করেই বেঁচে থাকবো। আমার যে গোপনে বেড়ে ওঠা এইসব অনুভূতির গাছগুলোতে ফুল ফোটানোর লক্ষ্যেই পৃথিবীতে আসা।
গুছিয়ে কথা বলার ধাত আমার কখনোই ছিলো না। এর জন্য আমাকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। আমি অনেক বন্ধুবৎসল মানুষ হারিয়েছি। তবে হ্যা, এই অগোছালো-এলোমেলো ভাবনার ভেতরই বেড়ে ওঠেছে আমার স্বপ্ন। স্বপ্নটা কিন্তু গোছানো। যদিও স্বপ্নের গন্তব্য এখনো অনেক দূর। জানি, মরুদ্যানের পানির লোভে এই মরুময় পথ আমাকে- হ্যা আমাকে একাই পাড়ি দিতে হবে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, আমি এই পথের সঙ্গি হিসেবে তোমাকে ভেবেছিলাম। আমার ধারণা ভাবনাটা অমূলক বলে প্রমাণ করছো তুমি।
নিজের একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম আমি অবজ্ঞাকে কিভাবে অবজ্ঞা করতে হয় শিখে গেছি আসলে শিখিনি। শিখতে পারিনি, অনুভূতির ভাড়ারে এখনো কিছু রয়েছে বলে। তোমার কাছে অল্প কিছু সময় চেয়েছিলাম। কেন সময় চেয়েছিলাম তা সরাসরি না বলে অন্য যে কোনও উপায়ে বলতে পারতাম। বিশ্বাস করো, আশার আয়না প্রত্যাখ্যানের আঘাতে চূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে জেনেও আমি মুখোমুখি বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তোমার পৃথিবী বড় তোমার মতোই। তোমার কথাই শোনে। অথচ, আমার পৃথিবী আমার চারপাশের মানুষগুলোর অনুভূতির খোঁজ-খবরও রাখে। তুমিও হয়তো তেমনই, কিন্তু আমি সেই আকাশে স্থান পাই নি। সমস্যাটা এখানেই। আর তাই তোমার অনুভূতিগুলোকে আমি যতটা ছোঁয়ার চেষ্টা করি, তুমি ততই দূরে সরে যাও। অথচ পৃথিবীর আকাশ কিন্তু ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে। পৃথিবীটাই তো হাতের একটা মুঠোয় বন্দী। তুমিও কি তার বাইরে?
প্রিয়তমা শিউলীমালা,
আগামীকালও একটা সকাল হবে। রোজকার নিয়মত মত সবই চলবে। চলবে গাঙ শালিখের কিচির-মিচির।  তোমার চারপাশের জানালায় যে বাতাস বইবে, হয়তো সেই বাতাসে লেগে থাকবে আমার অনুভূতি পোড়ার গন্ধ। কিন্তু এইসব ভুল অনুভূতির কথা বারবার বলতে চেয়ে নিজেকে বিব্রত করার শ্রেষ্ঠতম উপায় আমিই আবিষ্কার করি কেন যেনো। অথচ শুরুটা কিন্তু মোটেও আমার নয়। শুরুর কথাটা একটু পরই বলি। একটা ছবি দেখেছিলাম, ‘হি লাভস মি-হি লাভস মি নট’ নামে। ছবির গল্পটা আগে বলি। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে একজন নারী চিত্রশিল্পী। সে তার প্রতিবেশী এক ডেন্টিস্টের প্রেমে পড়ে। সে তাকে জানায় তার ভালোবাসার কথা। যদিও তার স্ত্রী রয়েছে, তবুও সে ভেবে নেয় ঐ ডাক্তার তাকে ভালোবাসে। কিন্তু সে জানেনা ঐ ডাক্তার তার স্ত্রীর ভালোবাসাকে অতিক্রম করে অন্য কোনও নারীর প্রেমে পড়ার অবস্থায় নেই। এদিকে এই মেয়েটি ভেবে বসে থাকে যে, ডাক্তার তার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তাকে ভালোবাসে। ছবিটির প্রথম ভাগটি আমরা দেখেছিলাম মেয়েটির দৃষ্টিভঙ্গির স্থান থেকে। সেখানে আমাদের মনে হয় ডাক্তার ছেলেটি বোধহয় সত্যি তার স্ত্রীকে রেখে এই পেইন্টার মেয়েটির প্রেমে পড়েছে। ছবির দ্বিতীয়ভাগে আমরা দেখি ডাক্তারের দৃষ্টিভঙ্গির অবস্থা থেকে। এখান থেকে দেখা যায়, মেয়েটি যেসব ঘটনা দেখে ভেবে বসেছিলো ছেলিট তাকে ভালোবাসে তা ভুল। এবঙ কেবলমাত্র কাকতালিয় না বললেও আকস্মিক বলা যায়। মেয়েটি সব জেনেশুনে কিন্তু ভুলটা ভাঙে না। দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা হয় মানসিক হাসপালে। একসময় সে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়। কিন্তু সে তবুও মনে করে সেই ডাক্তার তাকে ভালোবাসে। ছবিটি দেখার পর আমার তোমার প্রতি ধারণা পাল্টায়। আমি যেসব লক্ষণ ভেবে তোমাকে আমার মতো করে ভাবতাম, সেসব লক্ষণ তোমার মত করে ভাবতে গিয়ে সত্যি বিশাল দূরত্বের এক দুনিয়ার সন্ধান পাই। সেই দুনিয়ার কাছে গিয়ে দেখি আমি পথে হাটা আর দশটা পরিচিত মানুষের একজন কেবল। অথচ এর চেয়ে কিছুটা বেশী প্রত্যাশা ছিলো। সেই প্রত্যাশার পালে দোলা দিয়েছিলো যেসব সম্ভাবনা। তার গল্পের স্থলে নিজেকে সেই চিত্রকর মেয়েটির মতো মনে করে চিত্রনাট্য সাজাই। মিলে যায়। যোগ-বিয়োগ আর ভাগ-পুরনের জটিলতায় যাওয়ার প্রয়োজনই হয় না।
হ্যা, এবার শুরুর গল্পটা স্মরণ করা যায়। তোমার থেকে আসা সেই আহ্বানের গল্প। আমি জানি, আমি কখনোই দশদজের দলের মানুষ নই। আমি একাদশও নই। আমি দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ। তাই আমার কাছে যদি কখনো আশ্চর্য কিছু হাজির হয়, আমি মুগ্ধ হওয়ার বদলে কিছুটা সন্দেহের দিকেই তাকাই। তোমার সে আহ্বানেও আমি তাই তাকিয়েছিলাম। তোমার সাথে যোগাযোগ সহজ হয়েছিলো তার যতটা না তোমার কল্যানে তার চেয়ে বেশী আমার কল্যানে। শুরু দিকে তোমার অনুভূতির কথাগুলো প্রায়ই মনে হতো আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা। কিন্তু ঐ ভুল আমার ভেঙেছে বলে জেনেছি তুমি উত্তম। তাই সেই ভাষায় বলা কথা বোকা তোতার মতো আমি নিজের ভেবেছি। ভাবনাগুলো যে রঙে রাঙানো ছিলো, সে রঙ নির্বাচন ভুল ছিলো বলেই তো এইসব অর্থহীন প্রলাপ। আর অনুভূতির অর্থহীনতাই যে অব্যক্ত ভালোবাসা- এই কথা কবি আরো দীর্ঘ দিন আগে বলে গেছেন। আমি তাই আমার মতোই বাঁচি- খোলা হাওয়ায় এক বেহিসেবি যন্ত্রমানব হিসেবে। তুমি বরং ভালো থেকো শিউলীমালা।

Read More

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৩

কাশবনের চিঠি
ধরে নাও এ আমার গোপন গিটার। মাঝে মাঝে সুর না তুললে জং ধরে সুতায়। আমি তাই মাঝে মাঝে একাকিত্বের সুর তুলি। মধ্যরাতে সেই সুরে মাতাল করে অন্ধকার। ডুবতে থাকি। দেখি আমি আর আঁধার পরস্পর সমান শত্রু তোমার।
এক একটি রাত এক একটি স্বপ্নের গল্প নিয়ে বসে থাকে তোমার জন্য, তুমি তো নও মোহিনীর বন্ধু, নও কোনও বৃত্তবন্দী রাজকণ্যা; যা ভাবতে ভাবতে তোমার বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে।
অথচ রোজ তোমার জানালায় এসে ডাক দেয় কাশবন, বাইরে জোছনার বন্ধু তার যৌবনের গল্প বলতে থাকে- বাতাসের ঘ্রাণে দুলতে থাকে তোমার শরীর; সবুজ জলপাই বনে ঢেউ খেলা জোছনা বাড়ির পাশের কাশবন হয়ে ঢুকে যায় তোমার গোপন শৈশবে; এইবার বুঝি কাশবন আমাকে চিঠি লিখবে।

আমি কি সত্যিই তোমার শত্র“? এ ভাবতে পারলে বেশ লাগতো। জানো, হোমিও ডাক্তার ওষুধ দিয়েছে। বলেছে, দুইবেলা আপিস আপিস করে কাটিয়ে দিতে। আমি তাই করার চেষ্টা করছি। আর খোঁজে দেখছি, কোথায় ভালো ফুচকা পাওয়া যায়। তবে সমস্যা হয়েছে কি, ঐ আপিস আপিস বোধহয় আমার রক্তে নেই। রক্তে যে কোন হিমোগ্লোবিন মেশানো এটা মাঝে মাঝে আমি নিজেও বুঝি না। বুঝবো কিভাবে বলো, ঠিকঠাক মতো তো কোনও কিছুই করতে পারলাম না। তবে কোনও কিছু না করতে পারলেও যা চাই তা কেবল তোমার জন্য হয়তো নয়। হয়তো তোমাকে অতিক্রম করে আরও বৃহত্তর জীবনের জন্য একটা স্বপ্ন খুঁজতে গিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি কিনা এ সংশয় মাঝে মাঝে কাজ করে। আমার শংসয়গুলোই কি আমার অস্তিত্বের কথা জানান দেয়, তুমি কিছু জানো এ ব্যাপারে? থাক, তোমার এত জেনে কাজ নেই। চলো আমরা তাস খেলে আজ রাত্রীটা পার করে দিই।
অথচ যদি গিটার বাজাতে পারতাম, তবে ঠিকই সুরে সুরে কেটে যেতো নির্বাক রাতগুলো। পড়শির ঘুম ভাঙা চোখে সুখের মরিচগুড়া ভেঙে দিয়ে বলতাম- দেখ ধামরা, জীবন কাকে বলে? কাকে বলে ছাই রঙা বাতাসের ডানা? তবুও দেখো আমার যে গিটারটার কথা বলছিলাম, তাতে সুর তোলা আমি শিখিনি। তবে শব্দ করা শিখেছিলাম। আমি গিটারটিকে কথা দিতে পারিনি, তাই তার সুর আমার হাতে আসেনি। তবে হ্যা, সেই হাওয়ার গিটার আবার আমার হাতে এসেছে। তার সুতায় মরচে পড়েছে। অথচ এবার কেমন বাজতে চাইছে তীব্রভাবে।অথচ কি তীব্রভাবে না এখন সেই গিটার রাতের অন্ধকারে তার প্রতি অবহেলার অভিযোগ তুলছে। মাইরি বলছি, আমি অবহেলা হয়ে যাবে ভয়ে তাকে আমি সুপাত্রে দান করতে চেয়েছিলাম। অথচ সেখানেও যে একটা মৃত্যুদূত তার জন্য খাড়া হয়ে বসে আছে সে আমি জানতাম না।
গিটারের সাথে তো গানের সম্পর্ক, তাই না? কিন্তু তোমার তো গানের চেয়েও বেশী সম্পর্ক কথার সাথে। তুমি হয়তো জানো না, আমি নিজেই একটা কথা। তোমাকে তো কথার জাদুকর প্রতি সন্ধ্যায় এসে গল্প শুনিয়ে যায়। আমি তো তেমন কোনও গল্প কথক নই। আমি কেবল তোমার চোখের ভাষা পড়তে চাই। চাই কাষবনের ভাষা তোমারও আয়ত্ত হোক।
আমারও একটা নাম রয়েছে তোমার দেয়া। আমার সেই নাম কিনা আমি ভুলেই যেতে বসেছিলাম। অথচ কি আকুল নয়নে চেয়েছিলাম এই শব্দটিকে। হয়তো সে সময় তোমাকে চাওয়ার চেয়ে আরও তীব্র আরও কামনা জর্জরিত কণ্ঠে সাজিয়েছিলাম একটি নামের বাসর।
ছেলেবেলা থেকে জেনে এসেছি, যাকে তুমি সবচে বেশী ভালোবাসো সেই তোমাকে ভোগাবে সবচে বেশী। আমাকে তুমি এত ভালোবাসো তা তো কখনো বলো নি। আসলে তুমিও জানো এ প্রচণ্ড রকম মিথ্যে শব্দের এক জাল মাত্র। তারচে’ মুক্তবাজারের সুত্রে বলতে পারি একটা কিছুর লেনদেন। সেটা সর্বোচ্চ সতর্কতার স্থানে গিয়ে বলতে পারি সেই ‘কিছু’টা হলো আস্থা।
থাক, এসব কচকচানি ভাল্লাগে না। একটু লু হাওয়া গায়ে মেখে আসি। চলো, আজ খালি পায়ে হাটি অনেকটাপথ। পূর্ণিমার আলো খেয়ে খেয়ে আমরা ক্ষুধা নিবারণ করি। এমন নিমন্ত্রণ করায় তুমি নিশ্চয় রেগে আছো। বাহ! চমৎকার কপট তো তুমি। হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলো সেখানেই কেবল ভালোবাসো, বাস্তবে এত রূঢ় তবে কেন? আমি ভালো ছেলে বলে? আমি ভালো ছেলে নই। মাইরি বলছি, ভালো ছেলে হবার লোভে আমি জন্মাইনি। আমি মানুষ হওয়ার লোভে জন্মিয়েছি। যেই মানুষটার লোভ, লালসা, স্বপ্ন আর সাধ যেমন থাকবে তেমনি যেনো থাকে মায়া ও প্রেম। মানুষটা তাই তোমাকে তীব্রভাবে চাইতে যেমন পারে, যেতে পারে ফেলে রেখেও।  আবারও বারবার কেনো অস্তিত্বের প্রসঙ্গ উঠে আসছে? চ্যাপ্টার বাদ।
তারচে একটা স্বপ্নের কথা শোনাই তোমাকে। এই বলেই বিদেয় নিবো। খুব মহান কিছু না। একটি বিছানার শয্যা, যার চারপাশে বসবাস রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার গ্যেটে থেকে শুরু করে লালন ও গৌতম। (তুমি চাইলে আরও কাউকে এখানে নিমন্ত্রণ করে পারো।) যদি না চাও তবে তালের রসের মতো মাতাল কোনও কবিতার তাক থাকবে না আশপাসে। অথবা সবগুলো তাকের ছায়া ভর্তি হয়ে যাবে তুমি তে।
তোমাকে নিয়ে আর পারলাম না। কেবল তুমিতে ভর্তি হয়ে এলো এখানে সব। কেবল তুমি হয়ে যাওয়া কেমন যেন অস্পৃশ্য মনে হয় না?

হুমায়ূন আহমেদ ও ফুচকা ভালোবাসা মেয়েটির জন্য

at সোমবার, মার্চ ১১, ২০১৩  |  No comments

কাশবনের চিঠি
ধরে নাও এ আমার গোপন গিটার। মাঝে মাঝে সুর না তুললে জং ধরে সুতায়। আমি তাই মাঝে মাঝে একাকিত্বের সুর তুলি। মধ্যরাতে সেই সুরে মাতাল করে অন্ধকার। ডুবতে থাকি। দেখি আমি আর আঁধার পরস্পর সমান শত্রু তোমার।
এক একটি রাত এক একটি স্বপ্নের গল্প নিয়ে বসে থাকে তোমার জন্য, তুমি তো নও মোহিনীর বন্ধু, নও কোনও বৃত্তবন্দী রাজকণ্যা; যা ভাবতে ভাবতে তোমার বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে।
অথচ রোজ তোমার জানালায় এসে ডাক দেয় কাশবন, বাইরে জোছনার বন্ধু তার যৌবনের গল্প বলতে থাকে- বাতাসের ঘ্রাণে দুলতে থাকে তোমার শরীর; সবুজ জলপাই বনে ঢেউ খেলা জোছনা বাড়ির পাশের কাশবন হয়ে ঢুকে যায় তোমার গোপন শৈশবে; এইবার বুঝি কাশবন আমাকে চিঠি লিখবে।

আমি কি সত্যিই তোমার শত্র“? এ ভাবতে পারলে বেশ লাগতো। জানো, হোমিও ডাক্তার ওষুধ দিয়েছে। বলেছে, দুইবেলা আপিস আপিস করে কাটিয়ে দিতে। আমি তাই করার চেষ্টা করছি। আর খোঁজে দেখছি, কোথায় ভালো ফুচকা পাওয়া যায়। তবে সমস্যা হয়েছে কি, ঐ আপিস আপিস বোধহয় আমার রক্তে নেই। রক্তে যে কোন হিমোগ্লোবিন মেশানো এটা মাঝে মাঝে আমি নিজেও বুঝি না। বুঝবো কিভাবে বলো, ঠিকঠাক মতো তো কোনও কিছুই করতে পারলাম না। তবে কোনও কিছু না করতে পারলেও যা চাই তা কেবল তোমার জন্য হয়তো নয়। হয়তো তোমাকে অতিক্রম করে আরও বৃহত্তর জীবনের জন্য একটা স্বপ্ন খুঁজতে গিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি কিনা এ সংশয় মাঝে মাঝে কাজ করে। আমার শংসয়গুলোই কি আমার অস্তিত্বের কথা জানান দেয়, তুমি কিছু জানো এ ব্যাপারে? থাক, তোমার এত জেনে কাজ নেই। চলো আমরা তাস খেলে আজ রাত্রীটা পার করে দিই।
অথচ যদি গিটার বাজাতে পারতাম, তবে ঠিকই সুরে সুরে কেটে যেতো নির্বাক রাতগুলো। পড়শির ঘুম ভাঙা চোখে সুখের মরিচগুড়া ভেঙে দিয়ে বলতাম- দেখ ধামরা, জীবন কাকে বলে? কাকে বলে ছাই রঙা বাতাসের ডানা? তবুও দেখো আমার যে গিটারটার কথা বলছিলাম, তাতে সুর তোলা আমি শিখিনি। তবে শব্দ করা শিখেছিলাম। আমি গিটারটিকে কথা দিতে পারিনি, তাই তার সুর আমার হাতে আসেনি। তবে হ্যা, সেই হাওয়ার গিটার আবার আমার হাতে এসেছে। তার সুতায় মরচে পড়েছে। অথচ এবার কেমন বাজতে চাইছে তীব্রভাবে।অথচ কি তীব্রভাবে না এখন সেই গিটার রাতের অন্ধকারে তার প্রতি অবহেলার অভিযোগ তুলছে। মাইরি বলছি, আমি অবহেলা হয়ে যাবে ভয়ে তাকে আমি সুপাত্রে দান করতে চেয়েছিলাম। অথচ সেখানেও যে একটা মৃত্যুদূত তার জন্য খাড়া হয়ে বসে আছে সে আমি জানতাম না।
গিটারের সাথে তো গানের সম্পর্ক, তাই না? কিন্তু তোমার তো গানের চেয়েও বেশী সম্পর্ক কথার সাথে। তুমি হয়তো জানো না, আমি নিজেই একটা কথা। তোমাকে তো কথার জাদুকর প্রতি সন্ধ্যায় এসে গল্প শুনিয়ে যায়। আমি তো তেমন কোনও গল্প কথক নই। আমি কেবল তোমার চোখের ভাষা পড়তে চাই। চাই কাষবনের ভাষা তোমারও আয়ত্ত হোক।
আমারও একটা নাম রয়েছে তোমার দেয়া। আমার সেই নাম কিনা আমি ভুলেই যেতে বসেছিলাম। অথচ কি আকুল নয়নে চেয়েছিলাম এই শব্দটিকে। হয়তো সে সময় তোমাকে চাওয়ার চেয়ে আরও তীব্র আরও কামনা জর্জরিত কণ্ঠে সাজিয়েছিলাম একটি নামের বাসর।
ছেলেবেলা থেকে জেনে এসেছি, যাকে তুমি সবচে বেশী ভালোবাসো সেই তোমাকে ভোগাবে সবচে বেশী। আমাকে তুমি এত ভালোবাসো তা তো কখনো বলো নি। আসলে তুমিও জানো এ প্রচণ্ড রকম মিথ্যে শব্দের এক জাল মাত্র। তারচে’ মুক্তবাজারের সুত্রে বলতে পারি একটা কিছুর লেনদেন। সেটা সর্বোচ্চ সতর্কতার স্থানে গিয়ে বলতে পারি সেই ‘কিছু’টা হলো আস্থা।
থাক, এসব কচকচানি ভাল্লাগে না। একটু লু হাওয়া গায়ে মেখে আসি। চলো, আজ খালি পায়ে হাটি অনেকটাপথ। পূর্ণিমার আলো খেয়ে খেয়ে আমরা ক্ষুধা নিবারণ করি। এমন নিমন্ত্রণ করায় তুমি নিশ্চয় রেগে আছো। বাহ! চমৎকার কপট তো তুমি। হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলো সেখানেই কেবল ভালোবাসো, বাস্তবে এত রূঢ় তবে কেন? আমি ভালো ছেলে বলে? আমি ভালো ছেলে নই। মাইরি বলছি, ভালো ছেলে হবার লোভে আমি জন্মাইনি। আমি মানুষ হওয়ার লোভে জন্মিয়েছি। যেই মানুষটার লোভ, লালসা, স্বপ্ন আর সাধ যেমন থাকবে তেমনি যেনো থাকে মায়া ও প্রেম। মানুষটা তাই তোমাকে তীব্রভাবে চাইতে যেমন পারে, যেতে পারে ফেলে রেখেও।  আবারও বারবার কেনো অস্তিত্বের প্রসঙ্গ উঠে আসছে? চ্যাপ্টার বাদ।
তারচে একটা স্বপ্নের কথা শোনাই তোমাকে। এই বলেই বিদেয় নিবো। খুব মহান কিছু না। একটি বিছানার শয্যা, যার চারপাশে বসবাস রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার গ্যেটে থেকে শুরু করে লালন ও গৌতম। (তুমি চাইলে আরও কাউকে এখানে নিমন্ত্রণ করে পারো।) যদি না চাও তবে তালের রসের মতো মাতাল কোনও কবিতার তাক থাকবে না আশপাসে। অথবা সবগুলো তাকের ছায়া ভর্তি হয়ে যাবে তুমি তে।
তোমাকে নিয়ে আর পারলাম না। কেবল তুমিতে ভর্তি হয়ে এলো এখানে সব। কেবল তুমি হয়ে যাওয়া কেমন যেন অস্পৃশ্য মনে হয় না?

Read More

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৩

তোমার বাড়ির পাশের গোপন জানালায় বসে থাকে সে

আমাকে জানিয়ে দেয় সমস্ত অনুভূতির ঘ্রাণ- তুমি

কখন জানালা, দরজা বা পথের ভূমিকায় তাকাও

কখন হেঁটে চলো নিজের মতো করে, আর কখন

গোপনে বাজাও স্বরলিপির বাঁশী সব তার নখদর্পণে

ক্ষণে ক্ষণে উড়াল দেই আমি, বলি এইসব গোপন

স্বপ্নের মতো নির্ঘুম মুহূর্তগুলো জেগে উঠার আগে

চুপচাপ অথবা সজোরে বলে দিব ভালবাসি-

প্রতিদিনই সঞ্চয়ের খাতা খুলে বসি, ভাবি এই তো

হিসেব মেলানোর সময় এলো বলে, অথচ আজও

বার কয়েকের টালি খাতায় দেখি এখনো অংকে

কাঁচা তাই যোগ-বিয়োগের আগে এসো অনুভূতি

মাপি দেখি আমার হাতের উষ্ণতা তোমাকে কতটা

ছোঁয়, আর একই স্বরে বলে কিনা- ভালবাসি

প্রেমের পদ্য

at শুক্রবার, মার্চ ০৮, ২০১৩  |  No comments

তোমার বাড়ির পাশের গোপন জানালায় বসে থাকে সে

আমাকে জানিয়ে দেয় সমস্ত অনুভূতির ঘ্রাণ- তুমি

কখন জানালা, দরজা বা পথের ভূমিকায় তাকাও

কখন হেঁটে চলো নিজের মতো করে, আর কখন

গোপনে বাজাও স্বরলিপির বাঁশী সব তার নখদর্পণে

ক্ষণে ক্ষণে উড়াল দেই আমি, বলি এইসব গোপন

স্বপ্নের মতো নির্ঘুম মুহূর্তগুলো জেগে উঠার আগে

চুপচাপ অথবা সজোরে বলে দিব ভালবাসি-

প্রতিদিনই সঞ্চয়ের খাতা খুলে বসি, ভাবি এই তো

হিসেব মেলানোর সময় এলো বলে, অথচ আজও

বার কয়েকের টালি খাতায় দেখি এখনো অংকে

কাঁচা তাই যোগ-বিয়োগের আগে এসো অনুভূতি

মাপি দেখি আমার হাতের উষ্ণতা তোমাকে কতটা

ছোঁয়, আর একই স্বরে বলে কিনা- ভালবাসি

Read More

বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

গতকাল রাতে আমি যে গল্পটি আমি জেনেছি,
তার একটি শুরু আছে
এই কথা এখনো মনে রেখেছে শীত সন্তপ্ত ভোরের আকাশ

প্রতিদিন এই শীত ও শহরের উষ্ণতা বয়ে নিয়ে
একটি কোমল বাড়ির কাছে গোপনে লিখে রাখি
                                       সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ীদের নাম
এখানে কি আজ শিমুল বাগান হয়েছে?
যে শিমুল ফুটেছিলো এক দুপুরের রক্তে?

আমরা এই দুপুরে সেই ফাল্গুনের ঘ্রাণ বয়ে বেড়াই
দেখি, সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে এই ঘ্রাণ ছড়িয়ে যাচ্ছে
                                          পথ থেকে পথে

বসন্তের ঘ্রাণ

at বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৩  |  No comments

গতকাল রাতে আমি যে গল্পটি আমি জেনেছি,
তার একটি শুরু আছে
এই কথা এখনো মনে রেখেছে শীত সন্তপ্ত ভোরের আকাশ

প্রতিদিন এই শীত ও শহরের উষ্ণতা বয়ে নিয়ে
একটি কোমল বাড়ির কাছে গোপনে লিখে রাখি
                                       সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ীদের নাম
এখানে কি আজ শিমুল বাগান হয়েছে?
যে শিমুল ফুটেছিলো এক দুপুরের রক্তে?

আমরা এই দুপুরে সেই ফাল্গুনের ঘ্রাণ বয়ে বেড়াই
দেখি, সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে এই ঘ্রাণ ছড়িয়ে যাচ্ছে
                                          পথ থেকে পথে

Read More

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

তুমি দূরের আকাশ। যে আকাশে রাতের অন্ধকারে ঝিলমিল করে তারারা। চাঁদ প্রতি যৌবনে তার আলোর বণ্যায় ভাসিয়ে দেয় অন্ধকার। দিনে তুমি স্বরূপে ফেরো। এই সময় কেউ কি মন দিয়ে তোমার দিকে তাকায়? কেউ কেউ হয়তো তাকায়। নিজেকে যখন শূণ্য মনে হয়, মনে হয় পৃথিবীর লক্ষ কোটি যন্ত্রণার ভেতর অযাচিত একটি মানুষ হুট করে প্রবেশ করার পর যে শূণ্যতা তৈরি হয় সেই মন নিয়ে তখন লোকজন আকাশের দিকে তাকায়। হতাশা থেকে মুক্তি চেয়ে নতুন আশার সন্ধ্যানে। কিন্তু আকাশের দুঃখ দেখে না কেউ। বৃষ্টি দেখে আনন্দ বা হতাশা দুটোই করে মানুষ। আকাশের দুঃখ কি কেউ বোঝে? বোঝে কি সন্ধ্যায় কেনো আকাশের বুকে রক্ত জমা হয়? তুমি কি সেই আকাশ?
গত চারদিন ধরে যে মানুষগুলো নিজেদের সুখ শান্তি আরাম আয়েস বর্জন করে রাজপথকে ঠিকানা করেছে, তুমিও তাদের একজন। আমিও হয়তো তাদেরই দলের, কিন্তু দিনকে দিন অলস হতে যাওয়া আমি বারবার সেই দলে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি না। কিন্তু আমি জানি, তোমার মতো লাখো মানুষ সেই জনতার কাতারে। আমি শুধু বলবো তোমার ডানে বা বায়ে বা তোমার পেছনে যে মানুষটির অস্তিত্ব তুমি পেতে পারো সেটা হতে পারে আমার।
ছা-পোশা জীবনে তো নানান সীমাবদ্ধতা থাকে। সেইসব সীমাবদ্ধতার একটাই নিজের ইচ্ছার কাছে পরাধীন থাকা। তবে শান্তনা একটাই, আমার সেই পেশাটা একেবারে জনবিচ্ছিন্ন নয়। বরং জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ। তবে সেখান থেকে আকাশ অনেক দূরের পথ। তাই তোমার কাছে ফিরতে ইচ্ছে হয় সকাল সন্ধ্যা বিকাল। তুমিই তো সেই আকাশ। যে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়লে বিনিময়ে সাহস যোগায়। ভালো থেকো।

এ্যাংরী বার্ডকে চিঠি

at রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৩  |  No comments

তুমি দূরের আকাশ। যে আকাশে রাতের অন্ধকারে ঝিলমিল করে তারারা। চাঁদ প্রতি যৌবনে তার আলোর বণ্যায় ভাসিয়ে দেয় অন্ধকার। দিনে তুমি স্বরূপে ফেরো। এই সময় কেউ কি মন দিয়ে তোমার দিকে তাকায়? কেউ কেউ হয়তো তাকায়। নিজেকে যখন শূণ্য মনে হয়, মনে হয় পৃথিবীর লক্ষ কোটি যন্ত্রণার ভেতর অযাচিত একটি মানুষ হুট করে প্রবেশ করার পর যে শূণ্যতা তৈরি হয় সেই মন নিয়ে তখন লোকজন আকাশের দিকে তাকায়। হতাশা থেকে মুক্তি চেয়ে নতুন আশার সন্ধ্যানে। কিন্তু আকাশের দুঃখ দেখে না কেউ। বৃষ্টি দেখে আনন্দ বা হতাশা দুটোই করে মানুষ। আকাশের দুঃখ কি কেউ বোঝে? বোঝে কি সন্ধ্যায় কেনো আকাশের বুকে রক্ত জমা হয়? তুমি কি সেই আকাশ?
গত চারদিন ধরে যে মানুষগুলো নিজেদের সুখ শান্তি আরাম আয়েস বর্জন করে রাজপথকে ঠিকানা করেছে, তুমিও তাদের একজন। আমিও হয়তো তাদেরই দলের, কিন্তু দিনকে দিন অলস হতে যাওয়া আমি বারবার সেই দলে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি না। কিন্তু আমি জানি, তোমার মতো লাখো মানুষ সেই জনতার কাতারে। আমি শুধু বলবো তোমার ডানে বা বায়ে বা তোমার পেছনে যে মানুষটির অস্তিত্ব তুমি পেতে পারো সেটা হতে পারে আমার।
ছা-পোশা জীবনে তো নানান সীমাবদ্ধতা থাকে। সেইসব সীমাবদ্ধতার একটাই নিজের ইচ্ছার কাছে পরাধীন থাকা। তবে শান্তনা একটাই, আমার সেই পেশাটা একেবারে জনবিচ্ছিন্ন নয়। বরং জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ। তবে সেখান থেকে আকাশ অনেক দূরের পথ। তাই তোমার কাছে ফিরতে ইচ্ছে হয় সকাল সন্ধ্যা বিকাল। তুমিই তো সেই আকাশ। যে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়লে বিনিময়ে সাহস যোগায়। ভালো থেকো।

Read More

বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হাইফা আল-মানসুর এর ছবি ‘ওয়াজদা’ ২০১২ তে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয়েছে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে তিনটি পুরস্কার পাবার পর দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-১২ তে চারটি শাখায় পুরস্কার জিতে নেয় ‘ওয়াজদা’। সব মিলে এই সৌদি নির্মাতার প্রথম ছবি তার ঝোলায় পুড়েছে ১০টি পুরস্কার ও দুটি নমিনেশন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সে প্রথম শো হয়েছে। এই উপলক্ষে ফ্রান্সের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ফ্রান্স ২৪ এই নারী নির্মাতার এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এই সাক্ষাৎকারটির ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি বেড়ে উঠেছেন এমন একটি দেশে, যে দেশে সিনেমা হল নেই। তো এমন একটি দেশ থেকে আপনি সিনেমা বানানোর চিন্তাটা কি করে করলেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি একটি ছোট শহরে বড় হয়েছি। যে শহরটিতে কোনও সিনেমা হল নেই, কিন্তু প্রচুর ভিডিও ক্যাসেট ভাড়ায় পাওয়া যেত। বাচ্চারাসহ আমাদের পরিবারে বার জন সদস্য। আমার বাবা (সৌদি আরবের কবি আব্দুল রহমান মনসুর) একদিন আমাদেরকে সিনেমা দেখার জন্য এনে দিলেন। এর মাধ্যমে যেন আমরা বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারি। তখন আমি আমরা প্রচুর ছবি দেখেছি। যার মধ্যে রয়েছে হলিউডের মেইনস্ট্রিম ছবি যেমন ব্রুস লি, জ্যাকি চ্যান ছিলো। ছিলো প্রচুর পরিমাণে অন্য আমেরিকান ছবি, ভারতীয় ছবি ও মিশরীয় ছবিও। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি আমাদের বাইরের পৃথিবীটা কেমন। এবং এর মাধ্যমে দেখেছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরণের ভাবনার বহুরৈখিক রূপ। তখন থেকেই সিনেমা আমার অনুভূতির সাথে মিশে গিয়েছে। আমার মনে পরে আমি প্রথম ‘স্নো হোয়াইট’ নামের ওয়াল্ট ডিজনীর একটি ছবিটি দেখেছিলাম। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম তা দেখে। তারও বছর খানেক পরে, আরও অনেক ছবি আমার ‘ওয়াজদা’র অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার মাঝে রয়েছে ভিক্টোরিও ডি সিকা’র ‘বাইসাইকেল থিফ’ এবং চলচ্চিত্রের নব্য বাস্তববাদ আন্দোলন ও আমাকে আমার গন্তব্যের দিকে যেতে সহযোগীতা করেছে ইরানের পরিচালক জাফর পানাহির ‘অফসাইড’। যাকে আমার মনে হয়েছিলো জীবনের রঙিন ও আনন্দের মধ্য দিয়ে জীবনের গল্পটা বলা যায়। সবকিছুর পরও দারদেনে ব্রাদার্সের ‘রোসেটা’ ছবিটা আমাকে দেখিয়েছে একজন মহিলা গল্পকার কিভাবে গল্পকে নিজের মতো করে বলতে পারে। আমি এসব থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি যখন সিনেমা বানানোর চিন্তা করলেন, তখন কোন দর্শকদের কথা ভেবেছিলেন? আপনি কি ইউরোপের দর্শকদের সৌদি আরবের নারীদের জীবন যাপন দেখাতে চেয়েছেন? নাকি অন্য নারীদের দেখাতে চেয়েছেন সৌদি আরবের মতো একটা দেশে নারীরা কিভাবে জীবন যাপন করে?

হাইফা আল মনসুর : দুটোই। আসলে আমি চেয়েছিলাম, সব শ্রেণীর দর্শকরা আনন্দের সাথে ছবিটি দেখুক। পাশাপাশি আমি সৌদি আরবের জীবনের একটি চিত্রও যোগ করতে চেয়েছি, কিন্তু সব সময় সব করা যায় না এটা সৌদি আরবের, মিশরের বা অন্য আরব দেশগুলোর লোকজন জানে। তারপরও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, সৌদি আরবের লোকজন এটা তাদের নিয়ে ও তাদেরই সিনেমা হিসেবে মনে করে এবং এর জন্য তারা গর্ববোধ করে। এই ছবিটিকে লক্ষ্য এবং উৎসর্গের জায়গা থেকে দেখতে হবে, কারণ এটা সৌদি আরবেরই জীবন থেকে উঠে আসা। একই সাথে আমি মনে করি এই ছবি সৌদি আরবের সিনেমাকে উৎসাহী করবে।

ফ্রান্স ২৪ : এই মুহূর্তে সৌদি আরবের সিনেমার জন্য কি সবচেয়ে ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন?

হাইফা আল মনসুর : সৌদি আরবের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নেই। সৌদি আরবের অনেক মানুষ তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সাথে আপোষ করে, যা বাধ্যতামূলক নয়। সেই জায়গায় মানুষ সিনেমা বানাতে চাইছে, তাই সেখানে তার ব্যবস্থা করা উচিত। যদিও এখনো অনেকেই সেখানে সিনেমা নিয়ে বিতর্ক করে, তবুও অনেক মানুষ এখন সিনেমাকে গ্রহণ করছে। তাই সরকারের উচিত সৌদিতে সিনেমাকে উন্মুক্ত করে দেয়া।

ফ্রান্স ২৪ : আপনি একজন নির্মাতা হিসেবে সৌদি আরবে কেমন মনে করছেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি রাজনীতি সচেতন ব্যাক্তি। আমার সাথে কিছু মানুষ রয়েছে, আরও বেশী নারীরা স্বাভাবিক জনজীবনের সাথে সম্পৃক্ত হউক এমনটা তারা দেখতে চায়। এমনকি আমার প্রতিপক্ষের মানুষ রয়েছে। মূলত সৌদি আরব একটি রক্ষণশীল দেশ, দেশের বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকরা তাদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাইরের কোনও কিছুকে স্বাগতমত জানাতে চায় না। আমি এমন এক সীমাবদ্ধ পরিবেশে কাজ করি, তার পরও আমি বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে আমার মতামত তুলে ধরি। সাধারণভাবে আক্রমনাত্মক অবস্থান থেকেই আমি আমার কথাগুলো বলি এবং আমি বরাবরই সৌদি আরবের নারীদের স্বাধীনতার পক্ষেই কথা বলে এসেছি। তারমানে আমি মুখের উপর কথা বলছি না। ‘ওয়াজদা’য় আমি যেমন একটি নারীর গল্প বলেছি, কিন্তু আমি দেখিয়েছি একটি শিশুকে। আমি সংলাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি, এবং আমার ধারণা মানুষ এটিকে সমর্থন জানাচ্ছে।

ফ্রান্স ২৪ : ‘ওয়াজদা’ যখন টিভিতে বা ডিভিডিতে সৌদি আরবে মুক্তি পাবে তখন কেমন প্রতিক্রিয়া আশা করছেন?

হাইফা আল মনসুর : দুবাই ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে যখন ছবিটি দেখায়, তখন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। ছবিটি ভেনিসে প্রদর্শণের পর তখন অনেক সৌদি আরবের অনেকেই দুবাইয়ে ছবিটি দেখতে এসেছিলো। তারা কিন্তু ছবিটি পছন্দ করেছে। কেউ কেউ বলেছে তারা ছবির কিছু কিছু স্থানে প্রাণ খুলে হেসেছে। এটা নিশ্চিত যে, চলচ্চিত্র উৎসবে যারা গিয়েছে তারা সবাই উচ্চবিত্তের এবং শিক্ষিত। এখন আমারা দেখতে অপেক্ষা করছি ছবিটি সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ কিভাবে গ্রহণ করবে। আমার ধারণা তারা আমার চিন্তার জায়গাটা ধরতে পারবে। এটি একটি কিশোরীর গল্প, যে কিনা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। যদি কোন বাবা এ ছবি দেখে তার মেয়ের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে সেটাই আমার জন্য অনেক কিছু হয়ে দাঁড়াবে।

ফিল্মম্যাকারের গল্প

at বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৩  |  No comments

সৌদি আরবের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হাইফা আল-মানসুর এর ছবি ‘ওয়াজদা’ ২০১২ তে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয়েছে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে তিনটি পুরস্কার পাবার পর দুবাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-১২ তে চারটি শাখায় পুরস্কার জিতে নেয় ‘ওয়াজদা’। সব মিলে এই সৌদি নির্মাতার প্রথম ছবি তার ঝোলায় পুড়েছে ১০টি পুরস্কার ও দুটি নমিনেশন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সে প্রথম শো হয়েছে। এই উপলক্ষে ফ্রান্সের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ফ্রান্স ২৪ এই নারী নির্মাতার এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এই সাক্ষাৎকারটির ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি বেড়ে উঠেছেন এমন একটি দেশে, যে দেশে সিনেমা হল নেই। তো এমন একটি দেশ থেকে আপনি সিনেমা বানানোর চিন্তাটা কি করে করলেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি একটি ছোট শহরে বড় হয়েছি। যে শহরটিতে কোনও সিনেমা হল নেই, কিন্তু প্রচুর ভিডিও ক্যাসেট ভাড়ায় পাওয়া যেত। বাচ্চারাসহ আমাদের পরিবারে বার জন সদস্য। আমার বাবা (সৌদি আরবের কবি আব্দুল রহমান মনসুর) একদিন আমাদেরকে সিনেমা দেখার জন্য এনে দিলেন। এর মাধ্যমে যেন আমরা বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানতে পারি। তখন আমি আমরা প্রচুর ছবি দেখেছি। যার মধ্যে রয়েছে হলিউডের মেইনস্ট্রিম ছবি যেমন ব্রুস লি, জ্যাকি চ্যান ছিলো। ছিলো প্রচুর পরিমাণে অন্য আমেরিকান ছবি, ভারতীয় ছবি ও মিশরীয় ছবিও। এর মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি আমাদের বাইরের পৃথিবীটা কেমন। এবং এর মাধ্যমে দেখেছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরণের ভাবনার বহুরৈখিক রূপ। তখন থেকেই সিনেমা আমার অনুভূতির সাথে মিশে গিয়েছে। আমার মনে পরে আমি প্রথম ‘স্নো হোয়াইট’ নামের ওয়াল্ট ডিজনীর একটি ছবিটি দেখেছিলাম। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম তা দেখে। তারও বছর খানেক পরে, আরও অনেক ছবি আমার ‘ওয়াজদা’র অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার মাঝে রয়েছে ভিক্টোরিও ডি সিকা’র ‘বাইসাইকেল থিফ’ এবং চলচ্চিত্রের নব্য বাস্তববাদ আন্দোলন ও আমাকে আমার গন্তব্যের দিকে যেতে সহযোগীতা করেছে ইরানের পরিচালক জাফর পানাহির ‘অফসাইড’। যাকে আমার মনে হয়েছিলো জীবনের রঙিন ও আনন্দের মধ্য দিয়ে জীবনের গল্পটা বলা যায়। সবকিছুর পরও দারদেনে ব্রাদার্সের ‘রোসেটা’ ছবিটা আমাকে দেখিয়েছে একজন মহিলা গল্পকার কিভাবে গল্পকে নিজের মতো করে বলতে পারে। আমি এসব থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি।


ফ্রান্স ২৪ : আপনি যখন সিনেমা বানানোর চিন্তা করলেন, তখন কোন দর্শকদের কথা ভেবেছিলেন? আপনি কি ইউরোপের দর্শকদের সৌদি আরবের নারীদের জীবন যাপন দেখাতে চেয়েছেন? নাকি অন্য নারীদের দেখাতে চেয়েছেন সৌদি আরবের মতো একটা দেশে নারীরা কিভাবে জীবন যাপন করে?

হাইফা আল মনসুর : দুটোই। আসলে আমি চেয়েছিলাম, সব শ্রেণীর দর্শকরা আনন্দের সাথে ছবিটি দেখুক। পাশাপাশি আমি সৌদি আরবের জীবনের একটি চিত্রও যোগ করতে চেয়েছি, কিন্তু সব সময় সব করা যায় না এটা সৌদি আরবের, মিশরের বা অন্য আরব দেশগুলোর লোকজন জানে। তারপরও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, সৌদি আরবের লোকজন এটা তাদের নিয়ে ও তাদেরই সিনেমা হিসেবে মনে করে এবং এর জন্য তারা গর্ববোধ করে। এই ছবিটিকে লক্ষ্য এবং উৎসর্গের জায়গা থেকে দেখতে হবে, কারণ এটা সৌদি আরবেরই জীবন থেকে উঠে আসা। একই সাথে আমি মনে করি এই ছবি সৌদি আরবের সিনেমাকে উৎসাহী করবে।

ফ্রান্স ২৪ : এই মুহূর্তে সৌদি আরবের সিনেমার জন্য কি সবচেয়ে ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন?

হাইফা আল মনসুর : সৌদি আরবের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নেই। সৌদি আরবের অনেক মানুষ তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সাথে আপোষ করে, যা বাধ্যতামূলক নয়। সেই জায়গায় মানুষ সিনেমা বানাতে চাইছে, তাই সেখানে তার ব্যবস্থা করা উচিত। যদিও এখনো অনেকেই সেখানে সিনেমা নিয়ে বিতর্ক করে, তবুও অনেক মানুষ এখন সিনেমাকে গ্রহণ করছে। তাই সরকারের উচিত সৌদিতে সিনেমাকে উন্মুক্ত করে দেয়া।

ফ্রান্স ২৪ : আপনি একজন নির্মাতা হিসেবে সৌদি আরবে কেমন মনে করছেন?

হাইফা আল মনসুর : আমি রাজনীতি সচেতন ব্যাক্তি। আমার সাথে কিছু মানুষ রয়েছে, আরও বেশী নারীরা স্বাভাবিক জনজীবনের সাথে সম্পৃক্ত হউক এমনটা তারা দেখতে চায়। এমনকি আমার প্রতিপক্ষের মানুষ রয়েছে। মূলত সৌদি আরব একটি রক্ষণশীল দেশ, দেশের বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকরা তাদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাইরের কোনও কিছুকে স্বাগতমত জানাতে চায় না। আমি এমন এক সীমাবদ্ধ পরিবেশে কাজ করি, তার পরও আমি বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে আমার মতামত তুলে ধরি। সাধারণভাবে আক্রমনাত্মক অবস্থান থেকেই আমি আমার কথাগুলো বলি এবং আমি বরাবরই সৌদি আরবের নারীদের স্বাধীনতার পক্ষেই কথা বলে এসেছি। তারমানে আমি মুখের উপর কথা বলছি না। ‘ওয়াজদা’য় আমি যেমন একটি নারীর গল্প বলেছি, কিন্তু আমি দেখিয়েছি একটি শিশুকে। আমি সংলাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি, এবং আমার ধারণা মানুষ এটিকে সমর্থন জানাচ্ছে।

ফ্রান্স ২৪ : ‘ওয়াজদা’ যখন টিভিতে বা ডিভিডিতে সৌদি আরবে মুক্তি পাবে তখন কেমন প্রতিক্রিয়া আশা করছেন?

হাইফা আল মনসুর : দুবাই ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে যখন ছবিটি দেখায়, তখন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। ছবিটি ভেনিসে প্রদর্শণের পর তখন অনেক সৌদি আরবের অনেকেই দুবাইয়ে ছবিটি দেখতে এসেছিলো। তারা কিন্তু ছবিটি পছন্দ করেছে। কেউ কেউ বলেছে তারা ছবির কিছু কিছু স্থানে প্রাণ খুলে হেসেছে। এটা নিশ্চিত যে, চলচ্চিত্র উৎসবে যারা গিয়েছে তারা সবাই উচ্চবিত্তের এবং শিক্ষিত। এখন আমারা দেখতে অপেক্ষা করছি ছবিটি সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ কিভাবে গ্রহণ করবে। আমার ধারণা তারা আমার চিন্তার জায়গাটা ধরতে পারবে। এটি একটি কিশোরীর গল্প, যে কিনা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। যদি কোন বাবা এ ছবি দেখে তার মেয়ের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে সেটাই আমার জন্য অনেক কিছু হয়ে দাঁড়াবে।

Read More

এই সাইটের যে কোনও লেখা যে কেউ অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে। তবে লেখকের নাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

Blogger template Proudly Powered by Blogger. Arranged By: এতক্ষণে অরিন্দম