বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৩


প্রতি বছরই দুই বার করে ঈদ আসে। ঈদকে উপলক্ষ করে নানা দিকে শুরু হয় আনন্দ আয়োজনের উৎসব। মানুষের নানা প্রচেষ্টার সাথে তাল মেলাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক পাক্ষিক, পত্রিকাগুলো নানা আয়োজন করে প্রকাশ করে বিশেষ ঈদ সংখ্যা। প্রত্যেকের দৃষ্টিতে সেরা লেখকের লেখাটাই তারা তুলে দেয় পাঠকের হাতে। পাঠক কিনে পড়ে সেইসব ঈদ সংখ্যা। এইসব ঈদ সংখ্যার লেখাগুলোই পরবর্তিতে আরো পরিমার্জিত অবস্থায় বই আকারে প্রকাশ হয় বই মেলায়। পাশাপাশি ভিস্যুয়াল মিডিয়ায় বিনোদনের চেষ্টায় দারুণ হুরুহুরি করে টেলিভিশনগুলো। টেলিভিশনগুলোর আয়োজনটাকে হুরুহুরি বলি এই কারণে যে, সারা বছর মানুষ টিভি অনুষ্ঠানগুলোর দিকে মুখ ফিরে তাকিয়ে থাকে ভালো কিছু করে না। করলেও সেটা এতই নগণ্য যে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আর এই সুযোগেই ভারতীয় টিভিগুলোই দখল করে রাখে রিমোটের অধিকার। সে যাই হোক, প্রতিবছরই ঈদের সময় ভালো ভালো অনুষ্ঠান, নাটক ও টেলিছবি প্রচার করে টেলিভিশনগুলো। তবে এত এত বিজ্ঞাপন আর এত এত অনুষ্ঠানের চাপে সেইসব ভালো কাজগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হারিয়ে যায়। মানুষের মনেই থাকে না সে কি দেখা শুরু করেছিলো আর কি দেখছে। এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে কেউ কেউ তো ঈদের সময় টিভিই দেখে না। আমি অবশ্য তাদের দলে নই। আমি পূর্ণাঙ্গ টিভি সূচি হাতে নিয়ে নিজের পছন্দের একটা সূচি দাঁড় করাই। তারপর সেটা নিয়ে দেখতে বসি। যদিও সেখানে তুমুল বিজ্ঞাপনের চাপ থাকেই। আমার এইসব টিভি অনুষ্ঠানের ভেতর চল্লিশ মিনিটের খন্ড নাটকই প্রধান্য পায় বেশী।

ঈদের অনুষ্ঠান দেখতে টিভিতে যে সময় চোখ রাখতে পারি

at বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৮, ২০১৩  |  No comments


প্রতি বছরই দুই বার করে ঈদ আসে। ঈদকে উপলক্ষ করে নানা দিকে শুরু হয় আনন্দ আয়োজনের উৎসব। মানুষের নানা প্রচেষ্টার সাথে তাল মেলাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক পাক্ষিক, পত্রিকাগুলো নানা আয়োজন করে প্রকাশ করে বিশেষ ঈদ সংখ্যা। প্রত্যেকের দৃষ্টিতে সেরা লেখকের লেখাটাই তারা তুলে দেয় পাঠকের হাতে। পাঠক কিনে পড়ে সেইসব ঈদ সংখ্যা। এইসব ঈদ সংখ্যার লেখাগুলোই পরবর্তিতে আরো পরিমার্জিত অবস্থায় বই আকারে প্রকাশ হয় বই মেলায়। পাশাপাশি ভিস্যুয়াল মিডিয়ায় বিনোদনের চেষ্টায় দারুণ হুরুহুরি করে টেলিভিশনগুলো। টেলিভিশনগুলোর আয়োজনটাকে হুরুহুরি বলি এই কারণে যে, সারা বছর মানুষ টিভি অনুষ্ঠানগুলোর দিকে মুখ ফিরে তাকিয়ে থাকে ভালো কিছু করে না। করলেও সেটা এতই নগণ্য যে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আর এই সুযোগেই ভারতীয় টিভিগুলোই দখল করে রাখে রিমোটের অধিকার। সে যাই হোক, প্রতিবছরই ঈদের সময় ভালো ভালো অনুষ্ঠান, নাটক ও টেলিছবি প্রচার করে টেলিভিশনগুলো। তবে এত এত বিজ্ঞাপন আর এত এত অনুষ্ঠানের চাপে সেইসব ভালো কাজগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হারিয়ে যায়। মানুষের মনেই থাকে না সে কি দেখা শুরু করেছিলো আর কি দেখছে। এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে কেউ কেউ তো ঈদের সময় টিভিই দেখে না। আমি অবশ্য তাদের দলে নই। আমি পূর্ণাঙ্গ টিভি সূচি হাতে নিয়ে নিজের পছন্দের একটা সূচি দাঁড় করাই। তারপর সেটা নিয়ে দেখতে বসি। যদিও সেখানে তুমুল বিজ্ঞাপনের চাপ থাকেই। আমার এইসব টিভি অনুষ্ঠানের ভেতর চল্লিশ মিনিটের খন্ড নাটকই প্রধান্য পায় বেশী।

Read More

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৩



১.
হৃদয়ের ভূত মাথায় চড়ে বসলে জানালা ভর্তি শাপ কিলবিল করে। যেটুকু বাতাস বুকে ধরে রাখতে পারতাম, সেটুকুও ফুরিয়ে যায় দ্রুত। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশে তাকিয়ে একটা মুখ খুঁজি, তালপাখা হাতে নিয়ে বসে আছে এমন নয়। কেবল একটা স্বস্তির মুখ। সেই মুখ হারিয়ে যায়, দেখি একটি সবুজ টিয়া পাখি বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তাকায় আমার চোখে। তার চোখে চোখ রেখে পাঠ করি আত্মসমালোচনা-
পাশের বাড়ির জানালা প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে লোভগুলো।
আমি তো সকাল সকাল ঘুমিয়ে যাই,
ঘুম ভাঙে আর একটা লোভের জগতে।
এইসব জাদুবাস্তবতার কলরব আমি প্রতিদিনই শুনি। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে অথবা ঘুমের ঘোরে সে এসে চেপে ধরে কণ্ঠনালি। কি যেন বলতে চেয়ে ভুলে যাই। মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ আসতে চায়। আর মনে হয় এই সেই অব্যক্ত কথা, যা কিনা তোতা পাখিটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তোতার চোখে ঘুমের আহ্বান। আমি তার কাছে সকালের ঘুমের গল্প শুনতে চাই। সে বলে পাখিপুরাণ একটি সংসারের গল্প। অথচ আমার তেমন কোনও কথাই হয় নি তার সাথে।
মগজে যে ধরে আছি ভুতের উসিলা, তার সাথে কি আর দোনামোনা চলে? সে তো ভাবের দুনিয়ায় নাও ভাসাইয়া কই যে হারায়, তার কোনও ইয়ত্তা নাই।

বন্ধুর লাল গোলাপ

at মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০১৩  |  1 comment



১.
হৃদয়ের ভূত মাথায় চড়ে বসলে জানালা ভর্তি শাপ কিলবিল করে। যেটুকু বাতাস বুকে ধরে রাখতে পারতাম, সেটুকুও ফুরিয়ে যায় দ্রুত। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশে তাকিয়ে একটা মুখ খুঁজি, তালপাখা হাতে নিয়ে বসে আছে এমন নয়। কেবল একটা স্বস্তির মুখ। সেই মুখ হারিয়ে যায়, দেখি একটি সবুজ টিয়া পাখি বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তাকায় আমার চোখে। তার চোখে চোখ রেখে পাঠ করি আত্মসমালোচনা-
পাশের বাড়ির জানালা প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে লোভগুলো।
আমি তো সকাল সকাল ঘুমিয়ে যাই,
ঘুম ভাঙে আর একটা লোভের জগতে।
এইসব জাদুবাস্তবতার কলরব আমি প্রতিদিনই শুনি। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে অথবা ঘুমের ঘোরে সে এসে চেপে ধরে কণ্ঠনালি। কি যেন বলতে চেয়ে ভুলে যাই। মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ আসতে চায়। আর মনে হয় এই সেই অব্যক্ত কথা, যা কিনা তোতা পাখিটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তোতার চোখে ঘুমের আহ্বান। আমি তার কাছে সকালের ঘুমের গল্প শুনতে চাই। সে বলে পাখিপুরাণ একটি সংসারের গল্প। অথচ আমার তেমন কোনও কথাই হয় নি তার সাথে।
মগজে যে ধরে আছি ভুতের উসিলা, তার সাথে কি আর দোনামোনা চলে? সে তো ভাবের দুনিয়ায় নাও ভাসাইয়া কই যে হারায়, তার কোনও ইয়ত্তা নাই।

Read More

শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৩



















হৃদয়ের ভূত মাথায় চড়ে বসলে জানালা ভর্তি শাপ কিলবিল করে। যেটুকু বাতাস বুকে ধরে রাখতে পারতাম, সেটুকুও ফুরিয়ে যায় দ্রুত। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশে তাকিয়ে একটা মুখ খুঁজি, তালপাখা হাতে নিয়ে বসে আছে এমন নয়। কেবল একটা স্বস্তির মুখ। সেই মুখ হারিয়ে যায়, দেখি একটি সবুজ টিয়া পাখি বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তাকায় আমার চোখে। তার চোখে চোখ রেখে পাঠ করি আত্মসমালোচনা-
পাশের বাড়ির জানালা প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে লোভগুলো।
আমি তো সকাল সকাল ঘুমিয়ে যাই,
ঘুম ভাঙে আর একটা লোভের জগতে।
এইসব জাদুবাস্তবতার কলরব আমি প্রতিদিনই শুনি। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে অথবা ঘুমের ঘোরে সে এসে চেপে ধরে কণ্ঠনালি। কি যেন বলতে চেয়ে ভুলে যাই। মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ আসতে চায়। তার চেয়ে মনে হয় এই সেই অব্যক্ত কথা, যা কিনা তোতা পাখিটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তোতার চোখে ঘুমের আহ্বান। আমি তার কাছে সকালের ঘুমের গল্প শুনতে চাই। সে বলে পাখিপুরাণ একটি সংসারের গল্প। অথচ আমার তেমন কোনও কথাই হয় নি তার সাথে।
মগজে যে ধরে আছি ভুতের ওসিলা, তার সাথে কি আর দোনামোনা চলে? সে তো ভাবের দুনিয়ায় নাও ভাসাইয়া কই যে হারায়, তার কোনও ইয়ত্তা নাই।

২.
বন্ধু তার লাল গোলাপের বাগানে প্রতিদিন তিন বেলা পানি দেয়। বিনিময়ে ঘ্রাণ নেয় বেলি ফুলের। তার কি একবারও মনে হয় না, যেই জীবন আসলে একটা ইলিশের তার চেয়ে মহিমান্বিত জীবনের সময় সে অতিক্রম করতে পারে? তারও তো একটা পাখির জীবন আছে। যা কিনা টিয়া পাখির মতো সবুজ না হলেও ধেনুর চেয়েও কোনও অংশে কম জীবন্ত না। তার কাছে ঘাস ফড়িঙ এর মতো প্রতিদিন শৈশব উড়ে বেড়ায়। আমি বলি, ধরো না? সে উত্তর দেয়, এইসব শৈশবের কাছে আরো কিছু জীবন গেঁথে সে হেঁটে হেঁটে চাঁদে যাবে। আমি তার মুখের দিকে তাকায় থাকি। বিষন্ন সন্ধ্যায় ডুবে যাওয়া আলোর মৃত্যুর মতো সেও হেঁটে যায় নদী তীর ঘেঁষে।


৩.
পাসপোর্টের কথা আমি মনে রাখি না। মনে রাখি মৌ মৌ করা গন্ধের শরীর। এই কথা বলে বারান্দার বৃক্ষগুলো দারুণ দুলে ওঠলো। তাদের সাথে বুঝি বাতাসের সন্ধি? তাই কি সংবাদপত্রের ভাজে লুকিয়ে রেখেছো গোপন প্রেমের সব গল্প? আমি আর এইসব গল্পের ভেতর মৃত্যু খোঁজতে যাবো না। কেবল জেনে রেখো, আমার বাতাসের সংসারে প্রতিদিনই একই হাওয়া এসে দোলা দেয় না।

বাতাসের সংসার

at শুক্রবার, জুলাই ১২, ২০১৩  |  No comments



















হৃদয়ের ভূত মাথায় চড়ে বসলে জানালা ভর্তি শাপ কিলবিল করে। যেটুকু বাতাস বুকে ধরে রাখতে পারতাম, সেটুকুও ফুরিয়ে যায় দ্রুত। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। চারপাশে তাকিয়ে একটা মুখ খুঁজি, তালপাখা হাতে নিয়ে বসে আছে এমন নয়। কেবল একটা স্বস্তির মুখ। সেই মুখ হারিয়ে যায়, দেখি একটি সবুজ টিয়া পাখি বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তাকায় আমার চোখে। তার চোখে চোখ রেখে পাঠ করি আত্মসমালোচনা-
পাশের বাড়ির জানালা প্রতিদিন গিলে খাচ্ছে লোভগুলো।
আমি তো সকাল সকাল ঘুমিয়ে যাই,
ঘুম ভাঙে আর একটা লোভের জগতে।
এইসব জাদুবাস্তবতার কলরব আমি প্রতিদিনই শুনি। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে অথবা ঘুমের ঘোরে সে এসে চেপে ধরে কণ্ঠনালি। কি যেন বলতে চেয়ে ভুলে যাই। মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ আসতে চায়। তার চেয়ে মনে হয় এই সেই অব্যক্ত কথা, যা কিনা তোতা পাখিটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তোতার চোখে ঘুমের আহ্বান। আমি তার কাছে সকালের ঘুমের গল্প শুনতে চাই। সে বলে পাখিপুরাণ একটি সংসারের গল্প। অথচ আমার তেমন কোনও কথাই হয় নি তার সাথে।
মগজে যে ধরে আছি ভুতের ওসিলা, তার সাথে কি আর দোনামোনা চলে? সে তো ভাবের দুনিয়ায় নাও ভাসাইয়া কই যে হারায়, তার কোনও ইয়ত্তা নাই।

২.
বন্ধু তার লাল গোলাপের বাগানে প্রতিদিন তিন বেলা পানি দেয়। বিনিময়ে ঘ্রাণ নেয় বেলি ফুলের। তার কি একবারও মনে হয় না, যেই জীবন আসলে একটা ইলিশের তার চেয়ে মহিমান্বিত জীবনের সময় সে অতিক্রম করতে পারে? তারও তো একটা পাখির জীবন আছে। যা কিনা টিয়া পাখির মতো সবুজ না হলেও ধেনুর চেয়েও কোনও অংশে কম জীবন্ত না। তার কাছে ঘাস ফড়িঙ এর মতো প্রতিদিন শৈশব উড়ে বেড়ায়। আমি বলি, ধরো না? সে উত্তর দেয়, এইসব শৈশবের কাছে আরো কিছু জীবন গেঁথে সে হেঁটে হেঁটে চাঁদে যাবে। আমি তার মুখের দিকে তাকায় থাকি। বিষন্ন সন্ধ্যায় ডুবে যাওয়া আলোর মৃত্যুর মতো সেও হেঁটে যায় নদী তীর ঘেঁষে।


৩.
পাসপোর্টের কথা আমি মনে রাখি না। মনে রাখি মৌ মৌ করা গন্ধের শরীর। এই কথা বলে বারান্দার বৃক্ষগুলো দারুণ দুলে ওঠলো। তাদের সাথে বুঝি বাতাসের সন্ধি? তাই কি সংবাদপত্রের ভাজে লুকিয়ে রেখেছো গোপন প্রেমের সব গল্প? আমি আর এইসব গল্পের ভেতর মৃত্যু খোঁজতে যাবো না। কেবল জেনে রেখো, আমার বাতাসের সংসারে প্রতিদিনই একই হাওয়া এসে দোলা দেয় না।

Read More

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

শিউলীমালাকে

অক্টোবর মাসে আকাশ পরিষ্কার থাকে বলে
আকাশের অনুবাদে কোনও ক্ল্যাশ নাই।

এখন বর্ষাকালে আকাশও মনের রঙ বদলায়
অথচ প্রতিদিন তার আড়ালে সূর্য হাসে,
বৃষ্টি বেলায় আধারের মুখোশ খুলবো বলে বসে থাকি
অথচ মুখোশ নিজেই বদলে দিয়েছে তার চেহারা

বর্ষায় তার আবহাওয়া বদলে যায়- তাই
অক্টোবরই আমার জন্মমাস;
আষাঢ়ে জন্মানোর কথা থাকলেও
জন্ম মাস ডেকে নিয়ে যাই অক্টোবরে।

বর্ষা রূপান্তর

at শনিবার, জুলাই ০৬, ২০১৩  |  No comments

শিউলীমালাকে

অক্টোবর মাসে আকাশ পরিষ্কার থাকে বলে
আকাশের অনুবাদে কোনও ক্ল্যাশ নাই।

এখন বর্ষাকালে আকাশও মনের রঙ বদলায়
অথচ প্রতিদিন তার আড়ালে সূর্য হাসে,
বৃষ্টি বেলায় আধারের মুখোশ খুলবো বলে বসে থাকি
অথচ মুখোশ নিজেই বদলে দিয়েছে তার চেহারা

বর্ষায় তার আবহাওয়া বদলে যায়- তাই
অক্টোবরই আমার জন্মমাস;
আষাঢ়ে জন্মানোর কথা থাকলেও
জন্ম মাস ডেকে নিয়ে যাই অক্টোবরে।

Read More

শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৩

ছবি : লিন্ডা মেসিইর





















ঘুম থেকে উঠে মনে করছিলাম হরিণ শাবকটির কথা
যার সাথে বন্ধুত্ব কিনা এক মূর্খ সময়ের
স্বপ্নে কতবার তার আত্মার ডাক শুনে কেঁদেছি
ভুল অথবা বিভ্রান্তের চিঠি তবুও
তার কাছ থেকেই এসেছে

রোদ ভালোবেসে যে কিনা তাকিয়ে ছিল সময়ের চোখে
তার অস্থিমজ্জায় ধরে আছে মনুষ্য প্রেম

ঘুমের ইতিহাস বলবার আগে আজ ও আগামীকাল
আমি স্বপ্নের কথা বলবো, যদিও জানি এই বোবা পৃথিবী
ভালোবাসে একটি নীল ফুলের জন্ম ইতিহাস লিখে রাখতে

আমি তবুও ঘুম থেকে জেগে ওঠা একটি মূর্খ সময়ের বন্ধু
একটি হরিণ শাবকের কথাই বলবো,
যার ত্বক কবে কার কোমল গান্ধার হয়ে সুবাস ছড়ায়

() 

হরিণ

at শুক্রবার, জুন ২৮, ২০১৩  |  No comments

ছবি : লিন্ডা মেসিইর





















ঘুম থেকে উঠে মনে করছিলাম হরিণ শাবকটির কথা
যার সাথে বন্ধুত্ব কিনা এক মূর্খ সময়ের
স্বপ্নে কতবার তার আত্মার ডাক শুনে কেঁদেছি
ভুল অথবা বিভ্রান্তের চিঠি তবুও
তার কাছ থেকেই এসেছে

রোদ ভালোবেসে যে কিনা তাকিয়ে ছিল সময়ের চোখে
তার অস্থিমজ্জায় ধরে আছে মনুষ্য প্রেম

ঘুমের ইতিহাস বলবার আগে আজ ও আগামীকাল
আমি স্বপ্নের কথা বলবো, যদিও জানি এই বোবা পৃথিবী
ভালোবাসে একটি নীল ফুলের জন্ম ইতিহাস লিখে রাখতে

আমি তবুও ঘুম থেকে জেগে ওঠা একটি মূর্খ সময়ের বন্ধু
একটি হরিণ শাবকের কথাই বলবো,
যার ত্বক কবে কার কোমল গান্ধার হয়ে সুবাস ছড়ায়

() 

Read More

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৩

ঢাকা তখন আমার খুব একটা পরিচিত না। এর আগে খুব কম আসা হইছে। এর মধ্যে বিশেষ কাজে আমি তখন ঢাকায়। জিগাতলায় এক বড় ভাই এর বাসায় আগের দিন এসে হাজির হইছি। আর এক বন্ধুরে ফোন করে তার খবর নেওয়ার সময় জানলাম সেও তখন ঢাকায়। ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা খুব সম্ভবত তিন কি চার। কিন্তু সবার কাছে গিয়ে থাকার মতো হৃদ্যতাও ছিলো না। ঐ বড় ভাইয়ের কাছেও তুলনামূলক কম ছিলো। এই সুযোগে সেটা হয়ে গেলো। একই সাথে ঐ বন্ধু যখন ঢাকায় আছে, তার সাথে দেখা করা যায় কি না সেই চিন্তা করেই তাকে ফোন দেই। দিলাম ফোন, ফোনে কথা বলে জানা গেলো, সে কালকে বিকালে বলাকায় ছবি দেখবে। দিল চাহতা হ্যায়। আমার জানা ছিলো দেশি-বিদেশী ফিল্ম নিয়ে ঢাকায় তখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছে। তো তাকে বললাম ঠিক আছে, আমিও দেখবো। সেই সূত্রে ফারহান আখতারের প্রথম পরিচালনার ছবি দিল চাহতা হ্যায় বলাকায় দেখা আমার প্রথম ছবি। তার পরে আকাশে অনেক মেঘ হইছে, বৃষ্টি হইছে। গ্রীষ্ম, বসন্তও আসছে গেছে। কর্মের সন্ধ্যানে ঢাকায় আইসা আস্তানাও গাড়া হইছে আমার। কিন্তু এতদিনে নানান জায়গায় ছবি দেখা হইলেও বলাকায় আর দেখা হয় নাই। তো সেই বলাকায় দেখতে গেছিলাম পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সাম্প্রতিক ছবি  ‘পোড়ামন’।
আমি যদি বলাকায় সিনেমা দেখার জার্নির কথা চিন্তা করি, তাইলে রীতিমত অধঃপতন হইছে। কিন্তু এই ঘটনাকে আমি অধঃপতন হিসেবে না দেখে দেখবো নতুন শুরু হিসেবে। সেই দিক থেকে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্র। ভালো মন্দ দুই আছে। তা কেন সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলি পরিচালক জাকির হোসেন রাজু সম্পর্কে। পরিচালক জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশের আশি ও নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তাঁর সমসাময়িকেরা যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচিত হলেও তাদের মূল পেশা দাঁড়িয়েছে অন্য কিছু। সেখানে তিনি তাদের থেকে একটু ব্যাতিক্রম। ব্যতিক্রম এই কারণে যে, তার সময়ের অন্য পরিচালকদের মতো তিনি বিকল্প পথে হাঁটেন নি। তিনি হেঁটেছেন প্রথাগত পথে। এবং এই পথেই রাজুর প্রচেষ্টাও অনুল্লেখ্য নয়। সেই দিক থেকে তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিচিত পথের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবেও একজন। পাশাপাশি তার প্রথম চলচ্চিত্র আমাদের শৈশবের  নায়ক সালমান শাহ্‌র ছবি জীবন সংসার। জীবন সংসারের একটা দৃশ্য এখনো আমার মনে আছে। সালমানকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার পর সে নিজের পয়সায় রোজগার করে পিতৃতুল্য বড় ভাই আর মাতৃতুল্য ভাবির জন্য মিষ্টি নিয়ে আসে। বাড়ির ভেতর যায় না। বাড়ির চাকরের কাছে এই মিষ্টি দিয়ে পাঠায়। চাকর তার এক ছোট ভাইয়ের প্রথম রোজগারের মিষ্টি বলে ভাই-ভাবিকে খাওয়ায়। এমন আবেগময় দৃশ্য তিনি নিজে নির্মাণ করছিলেন। তার এই ছবি ঐ সময় সুপারহিট হয়েছিলো। এর পরবর্তিতেও তিনি বেশ চমৎকার সৃজনশীল সামাজিক গল্প নিয়ে এফডিসির ভেতর থেকেই ছবি করেছেন। আর এই কারণেই তার কাছে প্রত্যাশাও অন্য সবার চেয়ে একটু বেশীই। সেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বেশ কিছুদিন পর তিনি হাজির হলেন ‘পোড়ামন’ ছবি নিয়ে। আর সেই ছবি আমি আর আমার এক বন্ধু বলাকায় দেখে ফেলেছি। ছবি দেখার পর প্রথম যে কথা আমি বলবো, তা হলো পারলে ছবিটা দেখে ফেলুন।
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। আমাদের দেশে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনকারীরা কিভাবে কিভাবে যেনো ত্রিশ-পয়ত্রিশটা ইরানি ছবির ভিডিও টেপ আবিষ্কার করলো। আর এ নিয়ে তাদের কত উল্লাশ আর মাতামাতি। ইরানি ছবির আদলে তারা ছবি বানানোর স্বপ্নও দেখেছিলো। জাকির হোসেন রাজুর পরিচালক সত্ত্বা সৃষ্টি হওয়া সময়ের সাথে এই কথাগুলোর স্মরণ করছি এই কারণে যে, এখন একটা ছেলে ইনারিতু, কিম কি দুক, কার্লোস রেগাদাস, ক্রিস্টোফার নোলান, অনুরাগ কাশ্যপদের অহরহ আবিষ্কার করে তাদের মতো করে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখে। তাই তাদের কাছে ২০১০ সালে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের তামিল নাডুতে বা কেরালায় কি ছবি নির্মাণ হবে তা তো তাদের জানাই থাকে। এমনকি সেইখানে কোন ছবিটা সমালোচনায় রেটিং বেশী পায়, কোনটা ব্যবসা ভালো করে এই খবরও তাদের জন্য কিছুই না। এইটা বোধহয় অনেকে জানেই না। এই কথাগুলো বলা ঐ জাকির হোসেন রাজু প্রসঙ্গেই। এই প্রসঙ্গ পরে আসুক। আগে আসুক তার নির্মিত ‘পোড়ামন’ কেমন করলো বলে আমার মনে হচ্ছে।
পোড়ামনের শুরুটা অনেকটা জোর করে গল্পে বেশ কিছু চরিত্রের এস্টাব্লিশ করার মাধ্যমে। শুরুর সিন দেখে ভাবছিলাম গল্পে অনেক বেশী জটিলতা/ প্যাচগোছ থাকবে। কিন্তু না। দ্বিতীয় তৃতীয় সিন থেকেই বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটাই ফ্ল্যাশ ব্যাক। এবং ঐদিনটা ছিলো ঈদের আগের দিন। মনে রাইখ্যেন, ঈদের আগের দিন। ঐদিন ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প পিছাইলো। এই প্রসঙ্গে কোনও আপত্তি নাই। বিরতির পর দেখলাম ঐ গল্পের নায়ক পুলিশ হাজত থেকে পালাইছে। আর ডিআইজির সফর উপলক্ষে এই খবর ধামাচাপা পড়ে গেলেও ওসি সাহেবের চাকরি বাঁচানোর চিন্তায়  আসামী ধরতে যায়। ঐদিন রাতে আর বাসায় ফিরে নি। তার পরের দিন কিন্তু ঈদ মনে রাইখ্যেন। গিয়া দেখে, আমগো নায়কের প্রেমিকা নায়িকার বিয়া হইবো। বাড়িঘর সাজানো হইতেছে। বর যাত্রীও আসে। যাই হোক এইখানে ছবি পুরাই হিট। কারণ নায়ক মারামারি করতে জানে। পিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছে। এইসব দেখতে ভালোই লাগে। কিন্তু পূজা আর ঈদ যদি স্ক্রিপ্ট রাইটার এক কইরা ফেলে তাইলে তো দিনে তিনটা ফিচার ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আমি লিখতে পারি। যাক, আমার এমন স্ক্রিপ্ট লেখার আগ্রহ নাই। এইভাবে বহু নাটকিয়তায় সিনেমা শেষ হইলো। সিনেমার ক্ষণে ক্ষণে দর্শকদের হাতে তালি, শিষ বাজানো আর নিজেদের প্রত্যাশার সাথে গল্পের মিল হইলে পরে তালি শিষ দুইটাই একসাথে এইগুলো ব্যাপক এনজয়ের বিষয় ছিলো আমার জন্য।
ছবি দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, পুরো ছবি বান্দরবানের মতো অসাধারণ লোকেশনে শ্যুট করা। এই ছবি মার্কেটিংয়ের একটা বড় পয়েন্টই হইতে পারতো বাংলাদেশের পাহাড়ি প্রকৃতি। কিন্তু দুই একটা গানে হাতে গোনা কয়েকটা দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ছাড়া ঐ প্রকৃতির ছবিই চোখে পড়লো না। অন্তত এই বান্দরবান দেইখ্যা আমি মোটেও বান্দরবানের প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিবো না। যতটা না বন্ধুদের কাছ থেকে বলা, লেখা ও তোলা ছবি দেখে আহ্বানে সাড়া দিতে রাজি।
এছাড়া এই ছবি দেখার আগে এই ছবি সম্পর্কে যা জেনে গেছি তাতে এই সিনেমার গল্পটা না বলে ঐ মায়না ছবির গল্পটাই বলি।

তামিল প্রযোজক ও পরিচালক প্রভু সলোমনের সপ্তম ছবি। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই ছবির বাজেট ছিলো ৫০ কোটি রুপি। আমাদের ‘পোড়ামন’ ছবির বোধহয় এইখান থেকেই শুরু হইছে পেছানো। তার বাজেট কোনও ভাবেই ষাট লাখের বেশী হবে না। অন্তত তাই ধারণা করি। আর এই কারণে গল্প, সংলাপ, চরিত্রের চিত্রায়ন প্রায় একই রকম করে নির্মাণ চেষ্টা করলেও মায়নার আশে পাশেও যায় নি এই ছবি। তবে যারা তামিল ছবি দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না তাদের কাছে এ্ই গল্প একেবারেই নতুন। আর তাদেরকেই সম্ভবত লক্ষ করে এই ছবির দর্শক চিন্তা করে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু এই ছবি নির্মাণ করছে। সেই লক্ষ্যে সফলতা থাকলেও আমার প্রশ্ন, নকল ছবিই যদি বানাবেন তবে তার জন্য জাকির হোসেন রাজুর মতো পরিচালক কেন? তারপরো আমার একটা চাওয়া আছে। যদি নকল ছবি দিয়াও সিনেমা হল মালিকরা হল টিকায়া রাখতে পারে তবে চলুক।

‘পোড়ামন’ এ মন পোড়ে না

at মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৩  |  2 comments

ঢাকা তখন আমার খুব একটা পরিচিত না। এর আগে খুব কম আসা হইছে। এর মধ্যে বিশেষ কাজে আমি তখন ঢাকায়। জিগাতলায় এক বড় ভাই এর বাসায় আগের দিন এসে হাজির হইছি। আর এক বন্ধুরে ফোন করে তার খবর নেওয়ার সময় জানলাম সেও তখন ঢাকায়। ঢাকায় তখন আমার পরিচিত মানুষের সংখ্যা খুব সম্ভবত তিন কি চার। কিন্তু সবার কাছে গিয়ে থাকার মতো হৃদ্যতাও ছিলো না। ঐ বড় ভাইয়ের কাছেও তুলনামূলক কম ছিলো। এই সুযোগে সেটা হয়ে গেলো। একই সাথে ঐ বন্ধু যখন ঢাকায় আছে, তার সাথে দেখা করা যায় কি না সেই চিন্তা করেই তাকে ফোন দেই। দিলাম ফোন, ফোনে কথা বলে জানা গেলো, সে কালকে বিকালে বলাকায় ছবি দেখবে। দিল চাহতা হ্যায়। আমার জানা ছিলো দেশি-বিদেশী ফিল্ম নিয়ে ঢাকায় তখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছে। তো তাকে বললাম ঠিক আছে, আমিও দেখবো। সেই সূত্রে ফারহান আখতারের প্রথম পরিচালনার ছবি দিল চাহতা হ্যায় বলাকায় দেখা আমার প্রথম ছবি। তার পরে আকাশে অনেক মেঘ হইছে, বৃষ্টি হইছে। গ্রীষ্ম, বসন্তও আসছে গেছে। কর্মের সন্ধ্যানে ঢাকায় আইসা আস্তানাও গাড়া হইছে আমার। কিন্তু এতদিনে নানান জায়গায় ছবি দেখা হইলেও বলাকায় আর দেখা হয় নাই। তো সেই বলাকায় দেখতে গেছিলাম পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সাম্প্রতিক ছবি  ‘পোড়ামন’।
আমি যদি বলাকায় সিনেমা দেখার জার্নির কথা চিন্তা করি, তাইলে রীতিমত অধঃপতন হইছে। কিন্তু এই ঘটনাকে আমি অধঃপতন হিসেবে না দেখে দেখবো নতুন শুরু হিসেবে। সেই দিক থেকে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্র। ভালো মন্দ দুই আছে। তা কেন সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলি পরিচালক জাকির হোসেন রাজু সম্পর্কে। পরিচালক জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশের আশি ও নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তাঁর সমসাময়িকেরা যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচিত হলেও তাদের মূল পেশা দাঁড়িয়েছে অন্য কিছু। সেখানে তিনি তাদের থেকে একটু ব্যাতিক্রম। ব্যতিক্রম এই কারণে যে, তার সময়ের অন্য পরিচালকদের মতো তিনি বিকল্প পথে হাঁটেন নি। তিনি হেঁটেছেন প্রথাগত পথে। এবং এই পথেই রাজুর প্রচেষ্টাও অনুল্লেখ্য নয়। সেই দিক থেকে তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের পরিচিত পথের অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবেও একজন। পাশাপাশি তার প্রথম চলচ্চিত্র আমাদের শৈশবের  নায়ক সালমান শাহ্‌র ছবি জীবন সংসার। জীবন সংসারের একটা দৃশ্য এখনো আমার মনে আছে। সালমানকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেওয়ার পর সে নিজের পয়সায় রোজগার করে পিতৃতুল্য বড় ভাই আর মাতৃতুল্য ভাবির জন্য মিষ্টি নিয়ে আসে। বাড়ির ভেতর যায় না। বাড়ির চাকরের কাছে এই মিষ্টি দিয়ে পাঠায়। চাকর তার এক ছোট ভাইয়ের প্রথম রোজগারের মিষ্টি বলে ভাই-ভাবিকে খাওয়ায়। এমন আবেগময় দৃশ্য তিনি নিজে নির্মাণ করছিলেন। তার এই ছবি ঐ সময় সুপারহিট হয়েছিলো। এর পরবর্তিতেও তিনি বেশ চমৎকার সৃজনশীল সামাজিক গল্প নিয়ে এফডিসির ভেতর থেকেই ছবি করেছেন। আর এই কারণেই তার কাছে প্রত্যাশাও অন্য সবার চেয়ে একটু বেশীই। সেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বেশ কিছুদিন পর তিনি হাজির হলেন ‘পোড়ামন’ ছবি নিয়ে। আর সেই ছবি আমি আর আমার এক বন্ধু বলাকায় দেখে ফেলেছি। ছবি দেখার পর প্রথম যে কথা আমি বলবো, তা হলো পারলে ছবিটা দেখে ফেলুন।
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। আমাদের দেশে নব্বই দশকের চলচ্চিত্র আন্দোলনকারীরা কিভাবে কিভাবে যেনো ত্রিশ-পয়ত্রিশটা ইরানি ছবির ভিডিও টেপ আবিষ্কার করলো। আর এ নিয়ে তাদের কত উল্লাশ আর মাতামাতি। ইরানি ছবির আদলে তারা ছবি বানানোর স্বপ্নও দেখেছিলো। জাকির হোসেন রাজুর পরিচালক সত্ত্বা সৃষ্টি হওয়া সময়ের সাথে এই কথাগুলোর স্মরণ করছি এই কারণে যে, এখন একটা ছেলে ইনারিতু, কিম কি দুক, কার্লোস রেগাদাস, ক্রিস্টোফার নোলান, অনুরাগ কাশ্যপদের অহরহ আবিষ্কার করে তাদের মতো করে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখে। তাই তাদের কাছে ২০১০ সালে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের তামিল নাডুতে বা কেরালায় কি ছবি নির্মাণ হবে তা তো তাদের জানাই থাকে। এমনকি সেইখানে কোন ছবিটা সমালোচনায় রেটিং বেশী পায়, কোনটা ব্যবসা ভালো করে এই খবরও তাদের জন্য কিছুই না। এইটা বোধহয় অনেকে জানেই না। এই কথাগুলো বলা ঐ জাকির হোসেন রাজু প্রসঙ্গেই। এই প্রসঙ্গ পরে আসুক। আগে আসুক তার নির্মিত ‘পোড়ামন’ কেমন করলো বলে আমার মনে হচ্ছে।
পোড়ামনের শুরুটা অনেকটা জোর করে গল্পে বেশ কিছু চরিত্রের এস্টাব্লিশ করার মাধ্যমে। শুরুর সিন দেখে ভাবছিলাম গল্পে অনেক বেশী জটিলতা/ প্যাচগোছ থাকবে। কিন্তু না। দ্বিতীয় তৃতীয় সিন থেকেই বিরতির আগ পর্যন্ত পুরোটাই ফ্ল্যাশ ব্যাক। এবং ঐদিনটা ছিলো ঈদের আগের দিন। মনে রাইখ্যেন, ঈদের আগের দিন। ঐদিন ফ্ল্যাশব্যাকে গল্প পিছাইলো। এই প্রসঙ্গে কোনও আপত্তি নাই। বিরতির পর দেখলাম ঐ গল্পের নায়ক পুলিশ হাজত থেকে পালাইছে। আর ডিআইজির সফর উপলক্ষে এই খবর ধামাচাপা পড়ে গেলেও ওসি সাহেবের চাকরি বাঁচানোর চিন্তায়  আসামী ধরতে যায়। ঐদিন রাতে আর বাসায় ফিরে নি। তার পরের দিন কিন্তু ঈদ মনে রাইখ্যেন। গিয়া দেখে, আমগো নায়কের প্রেমিকা নায়িকার বিয়া হইবো। বাড়িঘর সাজানো হইতেছে। বর যাত্রীও আসে। যাই হোক এইখানে ছবি পুরাই হিট। কারণ নায়ক মারামারি করতে জানে। পিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছে। এইসব দেখতে ভালোই লাগে। কিন্তু পূজা আর ঈদ যদি স্ক্রিপ্ট রাইটার এক কইরা ফেলে তাইলে তো দিনে তিনটা ফিচার ফিল্মের স্ক্রিপ্ট আমি লিখতে পারি। যাক, আমার এমন স্ক্রিপ্ট লেখার আগ্রহ নাই। এইভাবে বহু নাটকিয়তায় সিনেমা শেষ হইলো। সিনেমার ক্ষণে ক্ষণে দর্শকদের হাতে তালি, শিষ বাজানো আর নিজেদের প্রত্যাশার সাথে গল্পের মিল হইলে পরে তালি শিষ দুইটাই একসাথে এইগুলো ব্যাপক এনজয়ের বিষয় ছিলো আমার জন্য।
ছবি দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, পুরো ছবি বান্দরবানের মতো অসাধারণ লোকেশনে শ্যুট করা। এই ছবি মার্কেটিংয়ের একটা বড় পয়েন্টই হইতে পারতো বাংলাদেশের পাহাড়ি প্রকৃতি। কিন্তু দুই একটা গানে হাতে গোনা কয়েকটা দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ছাড়া ঐ প্রকৃতির ছবিই চোখে পড়লো না। অন্তত এই বান্দরবান দেইখ্যা আমি মোটেও বান্দরবানের প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিবো না। যতটা না বন্ধুদের কাছ থেকে বলা, লেখা ও তোলা ছবি দেখে আহ্বানে সাড়া দিতে রাজি।
এছাড়া এই ছবি দেখার আগে এই ছবি সম্পর্কে যা জেনে গেছি তাতে এই সিনেমার গল্পটা না বলে ঐ মায়না ছবির গল্পটাই বলি।

তামিল প্রযোজক ও পরিচালক প্রভু সলোমনের সপ্তম ছবি। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এই ছবির বাজেট ছিলো ৫০ কোটি রুপি। আমাদের ‘পোড়ামন’ ছবির বোধহয় এইখান থেকেই শুরু হইছে পেছানো। তার বাজেট কোনও ভাবেই ষাট লাখের বেশী হবে না। অন্তত তাই ধারণা করি। আর এই কারণে গল্প, সংলাপ, চরিত্রের চিত্রায়ন প্রায় একই রকম করে নির্মাণ চেষ্টা করলেও মায়নার আশে পাশেও যায় নি এই ছবি। তবে যারা তামিল ছবি দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না তাদের কাছে এ্ই গল্প একেবারেই নতুন। আর তাদেরকেই সম্ভবত লক্ষ করে এই ছবির দর্শক চিন্তা করে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু এই ছবি নির্মাণ করছে। সেই লক্ষ্যে সফলতা থাকলেও আমার প্রশ্ন, নকল ছবিই যদি বানাবেন তবে তার জন্য জাকির হোসেন রাজুর মতো পরিচালক কেন? তারপরো আমার একটা চাওয়া আছে। যদি নকল ছবি দিয়াও সিনেমা হল মালিকরা হল টিকায়া রাখতে পারে তবে চলুক।

Read More

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৩

ফ্রানৎস কাফকা একটা জাদুর নাম। সাহিত্যের পাঠকদের কাছে এই কথা নতুন করে বলার কিছু নাই। আমার বদ স্বভাব, যারে মানুষ বেশী গুরুত্ব দেয় তারে একটু এড়াইয়া চলি। যদি না সে আবার আমার ঘাড়ে আছড় হয় এই ভয়ে। কসম, কইতেছি- প্রিয় জীবনানন্দের কবিতা প্রথম পড়ার পর আমি তারে এড়াইয়া চলতাম। এখনো এই বদ স্বভাব যায় নাই। এই কারণে আমার নানান সময় নানান ভাবে পস্তাইতে হয়। কাফকা যে একটা জাদু, তা জানতাম এবং মানিও। কিন্তু সমস্যা হইতেছে যেই চোদনা (বাজে অর্থে নিবেন না প্লিজ) বিশ্ব সাহিত্যের তাবৎ পোংটাদের মাঝে সবচে বেশী প্রভাব খাটাইতে পারে, তারে হজম করতে গিয়া না আমি নিজেই হজম হইয়া যাই, এই ভয়ে আমি কাফকারেও এড়াইয়া চলছি অনেক দিন।

সিনেমার ক্ষেত্রেও আমি প্রায় একই নীতি মানি। যেসব ছবি বা নির্মাতারা চারপাশের মানুষকে বেশী মুগ্ধ করে তাদের ক্লাসিক কর্ম আমি দেখতে চাই না। বলতে গেলে সাহস পাই না। যদি কোনও জড়তা কাজ করে এই ভয়ে। সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমার এই ভয় কাটানোর পেছনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এর অনেক বড় অবদান। এক সাক্ষাৎকারে জীবনানন্দরে প্রশ্ন করার পর আমার উত্তর শুনে তিনি বলছিলেন, জীবনানন্দরে যে ভয় করো। ভয় কাটানোর জন্যও তোমার বেশি করে পড়া দরকার। এখন অবশ্য তাই করি। বেশী করে পড়ি, আর বেশী করে ছবি দেখি।

কাফকা : সিনেমা ও ফ্রানৎস কাফকার জাদুকরি জগৎ

at সোমবার, জুন ০৩, ২০১৩  |  No comments

ফ্রানৎস কাফকা একটা জাদুর নাম। সাহিত্যের পাঠকদের কাছে এই কথা নতুন করে বলার কিছু নাই। আমার বদ স্বভাব, যারে মানুষ বেশী গুরুত্ব দেয় তারে একটু এড়াইয়া চলি। যদি না সে আবার আমার ঘাড়ে আছড় হয় এই ভয়ে। কসম, কইতেছি- প্রিয় জীবনানন্দের কবিতা প্রথম পড়ার পর আমি তারে এড়াইয়া চলতাম। এখনো এই বদ স্বভাব যায় নাই। এই কারণে আমার নানান সময় নানান ভাবে পস্তাইতে হয়। কাফকা যে একটা জাদু, তা জানতাম এবং মানিও। কিন্তু সমস্যা হইতেছে যেই চোদনা (বাজে অর্থে নিবেন না প্লিজ) বিশ্ব সাহিত্যের তাবৎ পোংটাদের মাঝে সবচে বেশী প্রভাব খাটাইতে পারে, তারে হজম করতে গিয়া না আমি নিজেই হজম হইয়া যাই, এই ভয়ে আমি কাফকারেও এড়াইয়া চলছি অনেক দিন।

সিনেমার ক্ষেত্রেও আমি প্রায় একই নীতি মানি। যেসব ছবি বা নির্মাতারা চারপাশের মানুষকে বেশী মুগ্ধ করে তাদের ক্লাসিক কর্ম আমি দেখতে চাই না। বলতে গেলে সাহস পাই না। যদি কোনও জড়তা কাজ করে এই ভয়ে। সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমার এই ভয় কাটানোর পেছনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এর অনেক বড় অবদান। এক সাক্ষাৎকারে জীবনানন্দরে প্রশ্ন করার পর আমার উত্তর শুনে তিনি বলছিলেন, জীবনানন্দরে যে ভয় করো। ভয় কাটানোর জন্যও তোমার বেশি করে পড়া দরকার। এখন অবশ্য তাই করি। বেশী করে পড়ি, আর বেশী করে ছবি দেখি।

Read More

এই সাইটের যে কোনও লেখা যে কেউ অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে। তবে লেখকের নাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

Blogger template Proudly Powered by Blogger. Arranged By: এতক্ষণে অরিন্দম