সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২

আমাদের ডানায় রোদ্দুর খেলা করে

at সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০১২  |  No comments


  
লক্ষ্মী বউটিকে আমি আজ আর কোথাও দেখি না
আমাদের আকাশের নানা রংয়ে যেদিন রাঙানোর কথা ছিলো এক সোনালী পৃথিবী সেদিন আমরা পথ ভুলে গিয়েছিলাম। এই রকম গল্পের প্রোপট আমাদের অনেক ছিলো। তবুও আমরা আমাদের গল্পের কোনও সীমানা বা স্বার্থকতা নির্মাণ করতে পারি নি। আমরা তখন প্রকৃত অর্থে কবি হয়ে উঠিনি বা কবিতার জন্য আমরা ছিলাম না। আর যার ফলে ক্যাবল লিটলম্যাগের মত শক্তিশালী মাধ্যমকে আমরা কোনও সমরাস্ত্রে সাজাতে পারিনি। বরংচ মাঝে মাঝে আমরা নিজেরাই নিজেদের মনে করেছি এক অসম যোদ্ধা। আর সেই রণ সাজে সাঁজতে গিয়ে আমরা তালগোল পাকিয়ে ফেলেছি। আর তাই লক্ষ্মী বউ এর মতো সম্পূর্ণ বউকে বা কবিতার জন্য কবিকে লিটলম্যাগের ছায়ায় পেয়েছি কম। যাও এসেছে তাও মাত্র হাতে গোনা। তবে প্রশ্ন আসতে পারে লক্ষ্মী বউ এখানে কি? লক্ষ্মী বউ এখানে কবিতার প্রতি উৎসর্গিত একটি চিন্তা। যা একজন লিটলম্যাগের সম্পাদকের মাধ্যমেও আসতে পারে; আসতে পারে একজন কবিতা কর্মীর মাঝ দিয়েও।

ছোট্ট ডানায় ধরি অপার আকাশ
এটি প্রথম জাতীয় লিটলম্যাগাজিন মেলার শ্লোগান ছিল। এক কথায় বলতে পারি লিটলম্যাগের চারিত্রও তাই। তো সেই ছোট্ট ডানা আর অপার আকাশটা কি? এগুলো তেমন কিছুই না আবার অনেক কিছু। যেমন- অপার আকাশ বলতে সহজেই যে বিষয়টা আমাদের ভাবনায় উঁকি দেয় তা হলো একটা আকাশ- যার সীমা অসীম। এই আকাশটা হচ্ছে আমাদের মনন। আর এই অসীমতাই হচ্ছে চিন্তার ব্যাপ্তি। আর ছোট্ট ডানা বলতে বুঝি এই চিন্তার ব্যাপ্তি আর মননের উৎকর্ষতা প্রকাশের স্থানের আয়তন হলো ছোট্ট ডানা। এই’ই তো লিটলম্যাগ। অথচ আমরা আমাদের এই চিন্তা আর উৎকর্ষতা দেখানোর এই উর্বর ভূমিখানা চাষাবাদ না করে করছি ‘টবে বাগান’। এই নির্দিষ্ট গন্ডি ভেঙে একটু বাইরে তাকাই নাÑ দেখি সেখানে কি রোদের ঝলক দেখা দেয় কি না?

অদ্ধুত আঁধার এক এসেছে পৃথিবীতে যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশী আজ চোখে দেখে তারা
আমাদের সময়ের সবচেয়ে বেদনার বিষয় হচ্ছে মিডিয়া ভাবনা। আমাদের কবিতাকর্মীরা তাই এই মিডিয়া নিয়েই ভাবিত। তবে এই মিডিয়ার জন্যই হয়তো অনেকে কবিতার কাগজ করে। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই কাগজগুলো লিটলম্যাগ হয়ে উঠে না। তো কিভাবে এই পত্রিকাগুলো কাগজ আর লিটলম্যাগের মাঝে পার্থক্য তৈরি করবে? এই পার্থক্য তৈরি করবে কবিতার কাগজের চারিত্র বা ধর্ম দেখে। সেই কাগজের চারিত্র বা ধর্ম হবে সৎ। এই সততা থাকবে পত্রিকার সম্পাদকের সম্পাদকীয় চরিত্রে। এই সততা থাকবে কবিতার প্রতি কমিটম্যান্ট-এ। এই সততাকে পূঁজি নিয়েই একজন সম্পাদক বা একজন লিটলম্যাগকর্মী তার যাত্রা করবে। সেটাই আশা করে থাকি আমি বা আরও অনেকে। কিন্তু আমাদের গল্পগুলো এখানেই নিশ্চুপ হয়ে উঠছে। আর তাই পত্রিকার সাহিত্য পাতায় নিজের নাম দেখার জন্য বা নিজেকে জাতীয় পর্যায়ের (ছোট বা বড়) কবি হওয়ার জন্য অনেকের পায়তারা অনেকটা স্থুল দেখায়। আর সে প্রতিযোগিতায় নামতেই এখন একটা মোটামোটি রকমের সাহিত্যের কাগজ করে নিজেকে পরিচিত করতে চেষ্টা করে। যার দ্বারা তারা তাদের পত্রিকাকে নিজেকে প্রকাশের বিশাল বিশাল মিডিয়া ভাবে। আর তাই কিছুদিন পর তারাই হয়ে যায় অনেক কিছুর নির্ধারক। আমি এইসব কাগজের সম্পাদককে স্বাভাবিক চোখে দেখিনা। আর তাদের মানসিক দৌড়টাও তাই দেখার মত হয়। তারা অনেক সময়ই যেই মানসিক দৌড়ে জিততে চায়। দেখাতে চায় আমরা অনেক কিছু করে ফেলছি, আমাদের সাথে তোমরা (যারা প্রকৃত অর্থেই লিটলম্যাগকর্মী) পারবে না। তাদের থেকে আমাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকা খুব বেশি জরুরী। কারণ আমরা তো জানিই- ‘খালি কলসি বাজে বেশি, ভড়া কলসি বাজে না।’

হবে না, হবে না কিছূ ... জেনে গেছি যুগলে হবে না; যৌথতায় আরো বেশি অসম্ভব হবেÑ যদি হয়, তবে একা একা।
আমরা আমাদের গন্তব্য জানি। এই গন্তব্যের জন্য বিপ্লবের ডাক দিলে হবে না। বিপ্লবে ঝাপিয়ে পড়ারও কিছু নেই। নিজের যদি সেই পথে যাবার প্রস্তুতি থাকে তবে সঙ্গী সাথির চিন্তা করলে হবে না। আর তাই নামতে হবে একা। আমাদের পূর্বপুরুষ রবীন্দ্রনাথ তো বলেই গেছেন ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে’।

আমাদের পকেট ভর্তি রোদ আমাদের হৃদয় ভর্তি আরও- আমাদের মত নেই কারও
আমরা একটি পথ নির্মাণের চেষ্টা করছি, যে পথ আগামীর কবিতা নির্মাণের পথ। সে পথ নির্মাণের জন্য আমরা এখন খুড়ছি মাটি। সেই মাটি খোড়া হলে সেখানে ইটের টুকরো সুড়কির স্তর পড়বে। তারপর রোলার- তারপর পিচ, আবার রোলার- তারপর লেন ডিভাইডার; তারপরন না সড়ক প্রস্তুত! তবেই না গন্তব্য পৌঁছা। এবার না যে কারো জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নতুন গন্তব্যের জন্য নতুন করে গন্তব্য নির্ধারণ করে পুনরায় সড়ক তৈরির প্রস্তুতি। পৃথিবীটা এই চক্রের ভেতর দিয়েই চলছে চলবে...। এতে সব বাঁধা বিপত্তি তো আমরাই অতিক্রম করবো।

* গদ্যের বিভিন্ন উপশিরোনামে ব্যবহৃত কবিতাগুলো যথাক্রমে আবুল হাসান এর রাজা যায় রাজা আসে কাব্যগ্রন্থের উচ্চারণগুলি শোকের, দ্বিতীয় জাতীয় লিটলম্যাগাজিন মেলার শ্লোগান, জীবনানন্দ দাশ এর অদ্ভুত আঁধার, রহমান হেনরীর সার্কাস মুখরিত গ্রাম’র উৎসর্গ কবিতা ও লেখকের নিজস্ব কবিতা থেকে দেয়া হয়েছে।

Share
About the Author

Write admin description here..

0 মন্তব্য(গুলি):

এই সাইটের যে কোনও লেখা যে কেউ অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে। তবে লেখকের নাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

Blogger template Proudly Powered by Blogger. Arranged By: এতক্ষণে অরিন্দম